চারমাস পর প্রাণ ফিরে পেল কক্সবাজার সৈকত

1 min read

।। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ।।

দীর্ঘ ৪ মাস বন্ধ থাকার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকসহ স্থানীয় দর্শনার্থীরা ফিরতে শুরু করেছে। শিথিলতার কারণে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে পরিবার পরিজন, প্রিয়জনকে নিয়ে বিকেল থেকে আসতে শুরু করে পর্যটক। দীর্ঘ সময় পর সৈকতে আসতে পেরে দারুণ খুশি দর্শনার্থীরা।

এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সৈকত ভ্রমণ উন্মুক্ত আর পর্যটন কেন্দ্রগুলো চালু করা হয়েছে। ফলে আবারও দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হবে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। এতে করোনাকালীন ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন পর্যটন শিল্পনির্ভর ব্যবসায়ীরা।

সৈকতে ঘুরতে আতিক হাসান বলেন, করোনা পরিস্থির কারণে সবকিছুই থমকে আছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে এতোদিন সৈকতে আসা হয়নি। সারাদিন পশু জবাইয়ের কাজ শেষে একটু বিরামের জন্য এসেছি। খুব ভালো লাগছে মুহূর্তের সময়টুকু।

কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, পর্যটকসহ স্থানীয় দর্শনার্থীদের সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরতে প্রচারণা চালাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। একইসঙ্গে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সৈকতের আশেপাশে কিছু কিছু ঝিনুকের দোকান নিজেদের জিনিসপত্র গোছাতে দেখা গেছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বাঁধার মুখেও মাঝে মধ্যেই ছুটে চলছে সৈকতের ঘোড়াগুলো, বিচ ফটোগ্রাফাররা ছুটছেন পর্যটকদের আশায়।

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, দীর্ঘ ৪ মাস পর্যটন ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে চরম দুর্ভোগে দিনাতিপাত করছে। করোনার কারণে এসব ব্যবসা চার মাসেরও অধিক সময় বন্ধ। ফলে তাদের ব্যবসার মূলধন খাওয়া শেষ। এখন যেহেতু পর্যটন ব্যবসা খুলে দেয়া হয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা প্রাণে বাঁচবে। তারপরও সহজে এত ক্ষতি মেটানো সম্ভব নয়,” যোগ করেন তিনি।

উল্লেখ, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার ১০ দিন পর কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন বন্ধ করে দেয়া হয়।

গত চার মাস ধরে এই নির্দেশ বহাল থাকায় জেলার ৪৭০টি হোটেল-মোটেল, দুই হাজারের বেশি খাবারের দোকান, বার্মিজ মার্কেটসহ পর্যটন নির্ভর পাঁচ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন আবাসিক হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্টের প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দেড় শতাধিক ট্যুর অপারেটরসহ দেড় লক্ষাধিক মানুষ। কোটি কোটি টাকার আবাসন প্রতিষ্ঠান নিয়ে চরম বেকায়দায় ছিল পর্যটন ব্যবসায়ীরাও।