করোনাকে নিষ্ক্রিয় করবে পাস্তুরিত মাতৃ দুগ্ধ, বলছে গবেষণা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ডেস্ক ।।

পাস্তুরিত মাতৃ দুগ্ধ করোনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। এমনই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে গবেষণায়। গবেষকরা দেখেছেন যে সাধারণ কৌশল প্রয়োগ করে মাতৃ দুগ্ধকে পাস্তুরিত করা হয় তাতে শ্বাসপ্রশ্বাসের উপসর্গ করোনা ভাইরাস ২ (‌সার্স–কোভ–২)‌–কে নিষ্ক্রিয় করে তা ব্যবহারের জন্য নিরাপদ করে তোলে। নিরাপদ পাস্তরিত দুধ নতুন এই সমীক্ষা যা প্রকাশিত হয়েছে কানাডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে।

সেখানে ২০১৯ করোনা ভাইরাস রোগ (‌কোভিড-১৯)‌ সম্পর্কে মহিলাদের পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে যে তাঁরা যেন সন্তানদের মাতৃদুগ্ধ খাইয়ে যান। কানাডায়, শিশুদের যত্ন নেওয়ার মান হিসাবে পাস্তুরিত দুধ দেওয়া হয় জন্মের সময় যে সব শিশুর ওজন খুব কম থাকে তাদের। যতদিন না পর্যন্ত ওই শিশুর মায়ের স্তনে দুধ আসছে ততদিন সেই শিশু পাস্তুরিত দুধ পান করে।

কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা এই গবেষণার গবেষক শ্যারন উংগার বলেন, করোনা পজিটিভ মহিলারাও মানব দুধ দান করতে পারেন, কারণ যে পদ্ধতিতে দুধ পাস্তুরিত হয় তাতে দুধের মধ্যে থাকা কোভিড-১৯ ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং তা পান করার যোগ্য হয়ে ওঠে।’‌

উংগার আরও বলেন, ‘‌এই সংক্রমণ যদি স্তন্যপায়ী গ্রন্থি বা শ্বাসকষ্টের ফোঁটা, ত্বক, স্তন পাম্প এবং দুধের পাত্রে মাধ্যমে সংক্রমিত হয়, তাও পদ্ধতিটি নিরাপদ।’‌ ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার পদ্ধতি পাস্তুরিত দুধের ক্ষেত্রে কানাডিয়ান দুধ ব্যাঙ্কগুলি যে পদ্ধতি ব্যবহার করে তাতে এইআইভি, হেপাটাইটিস ও অন্য সংক্রমিত ভাইরাস যা মানব দুধের মাধ্যমে আসে তা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

এই সমীক্ষায়, গবেষকরা সার্স-কোভি-২ এর ভাইরাল মানব দুগ্ধে দেয় এবং তা ৩০ মিনিটের জন্য ঘরের তাপমাত্রায় বসানো থাকে বা ৩০ মিনিটের জন্য ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করা হয় এবং তারপরে সক্রিয় ভাইরাসের জন্য পরিমাপ করা হয়েছিল।

এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে পাস্তুরিত দুধকে গরম করার পর ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ৬৫০টি মাতৃ দুগ্ধ ব্যাঙ্ক গবেষকরা জানিয়েছেন যে গোটা বিশ্ব জুড়ে ৬৫০-এর বেশি মানব স্তন দুগ্ধ ব্যাঙ্ক রয়েছে, যেখানে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে দুধের মতো পানীয়কে ভাইরাস মুক্ত করা হয় এবং তা দুর্বল শিশুদের জন্য সরবরাহ করা হয়।

এম/বি