করোনার কারণে পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি বৃদ্ধি পেয়েছে

।। স্বর্ণালী তালুকদার ।।

করোনা মহামারির কারণে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, হতাশা, একাকীত্বের মতো মানসিক সমস্যার একাধিক ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সেলিব্রিটি থেকে আমজনতা, এই ব্যাধির বিস্তার সর্বত্র। এই বিষয়ে জার্নোলজিঃ সিরিজ বি নামক একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে একটি সমীক্ষা। সেখানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। তথ্যে দাবি করা হয়েছে পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির ঘটনা বেড়েছে বহুল পরিমানে।

এই সমীক্ষাটি কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের সাইকোলজিকাল অ্যান্ড ব্রেন সায়েন্সে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনে ক্রেনড্ল এবং আইইউ ব্লুমিংটনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ব্রে পেরি করেছেন। ক্রেনড্ল জানিয়েছেন, পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা অনেক বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে।

যদিও তিনি জানিয়েছেন, যেসব ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগের বেষ্টনী সংকীর্ন, তাদের উপর মানসিক স্বাস্থ্যর ক্ষতিকর প্রভাব বিশেষ কোনও পরিবর্তন আনতে পারেনি। এই দুই অধ্যাপক সমীক্ষা থেকে জানতে পেরেছেন, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে মানুষ একাকীত্বের করাল গ্রাসের শিকার হয়েছে, যার ফলে সে সম্মুখীন হয়েছে হতাশা, দুশ্চিন্তার মতো মানসিক সমস্যার।

সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে ৬৮ শতাংশ মানুষ নিজের প্রিয়জনের সঙ্গে কম সময় কাটিয়েছেন, যতটা সময় তারা লকডাউনের আগে কাটাতেন। পূর্ণবয়স্কেরা দিনে গড়ে ৭৫ মিনিট করে ফোনে সামাজিকতা করার জন্য ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু তবুও একাকীত্বের সমস্যা পিছু ছাড়েনি তাদের।

তবে এই সমস্যা সারাজীবনের জন্য সঙ্গত দেবে এমনটাও মানতে নারাজ তারা। মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা শারীরিক কার্যক্ষমতার উপর দীর্ঘতর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এর নিরাময় সম্ভব। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অনুকূল হলেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নিজস্ব আগ্রহ এবং অদম্য ইচ্ছে থাকা প্রয়োজন স্বাভাবিক জীবনযাপন করার বিষয়ে। তবেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।