রেলপথে কমেছে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেনার হ্যান্ডলিং

1 min read

মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ।।

করোনা পরিস্থিতিতে দেশের আমদানি রফতানি ও সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ উলটপালট হয়ে গেছে। রাজধানীর কমলাপুর আইসিডিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এর গত তিনমাসের সংখ্যার সাথে বিগত বছরের একই সময়ের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সংখ্যা তুলনা করা হলে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা ফুটে উঠে। কমলাপুর আইসিডিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এই হ্রাস একটি অশনি সংকেত।

ঢাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা আমদানি পণ্য বোঝাই কনটেইনার রেলপথে পরিবহনের জন্য ১৯৮৭ সালে কমলাপুরে স্থাপন করা হয় দেশের প্রথম ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি)। প্রথম বছরে মাত্র ১৭৫ টিইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ডিপোটি। রেলপথে কনটেইনার পরিবহন নিরাপদ এবং ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় বাড়তে থাকে চাহিদা। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা পর থেকে আমদানি রফতানি কম হওয়ায় এর প্রভাব পড়ে এই আইসিডিতে।

বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ কনটেইনার রেলপথে ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে পরিবাহিত হয়। ঢাকা থেকেও বিপুল পরিমাণ কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত ঢাকার আইসিডিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৯ হাজার ৬৩০ টিইইউএস। তারমধ্যে আমদানি কনটেইনার ৯ হাজার ২৭১ টিইইউএস এবং রফতানি কনটেইনার ১০ হাজার ৩৫৯ টিইইউএস। যা আগের বছরের তুলনায় ৯ হাজার ২৫৬ টিইইউএস কনটেইনার কম হ্যান্ডলিং হয়েছে। যেখানে ২০১৯ সালে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৮ হাজার ৮৮৬ টিইইউএস কনটেইনার। এরমধ্যে ১৪ হাজার ৮৫ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ১৪ হাজার ৮০১ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার ছিল।

সারাদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটিকালীন সময়গুলোতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ মাসে আমদানি কনটেইনার ৪ হাজার ৩৪৪ টিইইউএস এবং রফতানি কনটেইনার ৪ হাজার ১৩৩ টিইইউএস হ্যান্ডলিং হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৭৯৮ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ৯০৩ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। মে মাসে ২ হাজার ২১০ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ২ হাজার ১৭৮ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। সাধারণ ছুটি পর এবং সদ্য বিদায় অর্থ বছরের শেষ মাস জুনে ১ হাজার ৯১৯ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ৩ হাজার ১৪৫ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের একই মাসগুলো পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ মাসে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩ হাজার ৫৮২ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ৩ হাজার ৭২২ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার। এপ্রিল মাসে ৩ হাজার ৩২৩ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ৩ হাজার ২৪৮ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। মে মাসে ৩ হাজার ৫৯৩ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ৩ হাজার ৯৬৯ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। ২০১৮-১৯ সালের সদ্য বিদায় অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ৩ হাজার ৫৮৭ টিইইউএস আমদানি এবং ৩ হাজার ৮৬২ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের রেলে কনটেইনারের অপারেশনাল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রেল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি (আরএমজি) ক্রেন এর মাধ্যমে। যা প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনের মেসার্স উক্সি হোডং হেভি মেশিনারি কোম্পানি লিমিটেড থেকে সংগ্রহ করা হয়। এটি রেলওয়াগান থেকে দ্রুত কনটেইনার উঠানো-নামানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। আর বন্দর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপে রেলপথে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টিইইউএস কনটেইনার কমলাপুর আইসিডিতে পৌঁছায়। এই পরিমাণ কনটেইনার যদি সড়কপথে যেত তাহলে পরিবেশ দুষণের পাশাপাশি বাড়তো সড়কে অতিরিক্ত চাপ। ভারি পণ্যবাহী কনটেইনার যখন ট্রাকে সড়কপথে যায়, তখন সড়কের অবকাঠামোতেও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়ে সড়কের আয়ু কমে যায়।

চট্টগ্রাম বন্দরে সদ্য বিদায় ২০১৯-২০অর্থ বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩০লাখ ৪ হাজার ১৪২ টিইইউএস। কনটেইনার হ্যান্ডেলিং এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ২ দশমিক ৯২ শতাংশ। যেখানে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯লাখ ১৯ হাজার ২৩ টিইইউএস। আর প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছিল ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। সে তুলনায় বিগত অর্থবছরে শূণ্য দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কম অর্জন হয়েছে।

ঢাকা আইসিডির কনটেইনার হ্যান্ডলিং এর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৪৪ হাজার ৩০১ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ৪৪ হাজার ৫৪৯ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার, ২০১৭-১৮ ৩৭ হাজার ২৬ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ৩৭ হাজার ৭১৫ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৬ হাজার ২৪৩ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ৩৬ হাজার ৭৫৫ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার, ২০১৫-১৬

অর্থবছরে ৩৪ হাজার ৫৮০ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ৩৪ হাজার ৪২৭ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৮ হাজার ২৪৩ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ১৮ হাজার ৫৮৮ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩০ হাজার ১৭৭ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার এবং ২৯ হাজার ৮০৭ টিইইউএস রফতানি কনটেইনার।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক প্রথম কলকাতাকে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে আমদানি রফতানি কম হওয়ায় ঢাকা আইসিডিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এর পরিমাণ কম হয়েছে। তবে করোনা সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর এক ঘণ্টার জন্যও বন্ধ হয়নি। বৈশ্বিক এ মহামারীর কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশের আমদানি-রফতানিতে প্রভাব পড়েছে। আমদানি রফতানি স্বাভাবিক হলে আবারও বাড়বে আইসিডিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এর পরিমাণ।

এম/বি