Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

রঙ তুলোয় সাজা রঙিন ক্যানভাস ‘খোয়াব গাঁ’

||শুভ্রদীপ চক্রবর্তী||

ঝাড়গ্রামের এক অপরিচিত গ্রাম লালবাজার। কিন্তু পরিচয় বদলে যায় যখন গ্রামের নাম পাল্টে হয়ে যায় ‘খোয়াব গাঁ।’ আপনি হয়তো ভাবছেন এ কেমন নাম? আসলে এই নামকরণটি এসেছে বিখ্যাত সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। গ্রামের সৌখিন শিল্পচর্চার মাধ্যম যে স্বপ্ন বা খোয়াব জাগানো হচ্ছে এই নাম তারই প্রতিফলন।

অসাধারণ সব চালচিত্রে মুড়ে রয়েছে গোটা গ্রামটি। রঙ তুলিতে ভরাট হয়েছে গ্রামের প্রতিটি বাড়ির দেওয়াল। জঙ্গলের বুকে চিরে লালমাটিতে ফুটে উঠেছে শিল্পের অলীক নিদর্শন। যেন স্বপ্নের ক্যানভাস। কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন এই ছোট্ট গ্রামটির কেবল ১৩টি বাড়িতে ৭৫ লোধা শবর সম্প্রদায় মানুষের বাস। জীবিকা হিসেবে কাজু বাদাম বিক্রি আর মাছচাষ করা। কিন্তু জীবিকার সীমা পার করেছে গ্রামের বাসিন্দা এবং অসাধারণ শিল্পী ষষ্ঠীচরণ আইচ। মাটির শিল্প, আঁকা, কাটুম কুটুম নিয়ে এক অসাধারণ প্রয়াস। যা অনুপ্রাণিত করে গ্রামে বাকি মানুষদেরও। তার এই প্রয়াসের শুভচিন্তক বর্তমানে গ্রামের কচিকাচারা।

সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন গ্রামের মানুষেরা তাদের কর্মপটুতায় মুগ্ধ করেছে বাংলা তথা সারা বিশ্বকে। আর তার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ খোয়াব গাঁ। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতে বঞ্চিত হতে হয় এইসব মানুষদের। গ্রামের রোজকার সংগ্রাম কে মাথায় নিয়েও ভিন্ন শিল্প কলায় পারদর্শিতা হাসিল করেছে এইসব মানুষগুলি। তাদের এই রূপকথায় আংশিক ভাগিদার হতে পাশে দাঁড়াতে হবে আমাদেরকেই। ইতিমধ্যে খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী যোগেন চৌধুরীর চালচিত্র একাডেমি এই কাজের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং প্রশংসাও করেছে।

কিভাবে যাবেন এই গ্রামে?

ঝাড়গ্রাম স্টেশন থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে পড়ে এই গ্রামটি। স্থানীয় লোকেদের জিজ্ঞেস করে গ্রামের রাস্তা ভেঙে পৌঁছে যাবেন এই গ্রামে।