১০ বছরে ৩০ ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর

1 min read

।।মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ।।

বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের তালিকায় ৫৮তম অবস্থানে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি ২০১০-১৯ পর্যন্ত ১০ বছরে ৩০ ধাপ এগিয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে ছয় ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

লন্ডনভিত্তিক শিপিং বিষয়ক প্রাচীন সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট প্রতিবছর এ তালিকা প্রকাশ করে। যাতে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৬৪তম। সর্বশেষ প্রকাশিত হলো ২০১৯ সালের তালিকা।২০১০-২০১৯ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৮৮, ৮৯, ৯০, ৮৬, ৮৭, ৭৬, ৭১, ৭০, ৬৪ ও ৫৮।

বিশ্বের ১০০ তম বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের এই অগ্রগতি হওয়ায় বন্দর সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি বন্দর দিয়ে ৬৩ কোটি ৪০ লাখ একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে, যা ২০১৮ সালের তুলনায় আড়াই শতাংশ বেশি। শীর্ষ ১০০ বন্দরের মধ্যে চীনের আছে ২৩টি। চীনের বন্দরগুলো দিয়ে বিশ্বের মোট কনটেইনারের ৩৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ পরিবহন হয়েছে। চীনে গত বছর কনটেইনার পরিবহন হয়েছে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ।

বৈশ্বিক তালিকায় উন্নতি হলেও চট্টগ্রাম বন্দরে এখনো বছরের বেশির ভাগ সময় জাহাজজট লেগে থাকে। এর কারণ হলো, বন্দরটিতে সক্ষমতার চেয়ে বেশি কনটেইনার আসে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনা, স্বল্প মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ, নতুন নতুন হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহের পাশাপাশি সরকার, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সহযোগিতায় একের পর এক সাফল্য স্বীকৃতি পাচ্ছে।

সূত্র জানায়, রোদ, বৃষ্টি, সাগরের ঢেউয়ের ঝাপটা থেকে নিরাপদে পণ্য পরিবহন এবং সহজে হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে কনটেইনারে আমদানি-রফতানি বাড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট পণ্য পরিবহনের ২৭ ভাগ কনটেইনারে হয়ে থাকে। যা দেশের মোট কনটেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশ। বাকি পণ্য বাল্ক, ব্রেক বাল্ক ও ট্যাংকার জাহাজে আমদানি হয়। এসব খোলা পণ্যের বেশিরভাগই সিমেন্ট, ইস্পাত, সিরামিক, চিনি, ডাল, গম ইত্যাদি খাদ্য, কয়লা, ভোজ্য ও জ্বালানি তেল।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, শিল্প ও সেবা খাতে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তার প্রতিফলন ঘটছে বন্দরের কনটেইনার পরিবহন বৃদ্ধির হারে। সামনে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারখানার জন্য কাঁচামাল আমদানি ও প্রস্তুত পণ্য রপ্তানি করতে হবে। ভারতের সাত রাজ্যে পণ্য পরিবহনের সুবিধাও চালু হয়েছে। তাতে কনটেইনার পরিবহন আগামী দিনে বাড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। সেইসাথে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকালের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের অগ্রগতির পেছনে বন্দর সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের অবদান রয়েছে। এজন্য আমি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান বে টার্মিনাল, মাতারবাড়ি বন্দরের কাজ শেষ হলে কনটেইনার পরিবহন আরো বাড়বে। তখন লয়েড লিস্টে চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থান আরও অগ্রগতি হবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের সেরা কনটেইনার পোর্টের স্বীকৃতি মিলেছে চীনের সাংহাইয়ের। এ তালিকায় চীনের আছে আরও ২২টি বন্দর। দ্বিতীয় স্থানে আছে সিঙ্গাপুর। ১০০তম হয়েছে তাইওয়ানের তাইপে বন্দর।