নিষেধাজ্ঞা শেষে রুপালি ইলিশ ধরার আশায় সাগরে চট্টগ্রামের জেলেরা

1 min read

।। মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ।।

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে রুপালি ইলিশ ধরার আশায় সাগরে যাত্রা শুরু করেছেন চট্টগ্রামের জেলেরা। চট্টগ্রাম নগরীর ফিসারিঘাট, মাঝিরঘাট, চাক্তাই, ফিরিঙ্গিবাজার, কাট্টলী আর জেলার সীতাকুণ্ড ও আনোয়ারা উপকূলে মাছ ধরার সব ট্রলার ও নৌকা গিয়েছে সাগরে।

কাট্টলী-সীতাকুণ্ড এলাকায় উপকূলের কাছাকাছি ছোট আকারের বোট নিয়ে মাছ ধরে উত্তর চট্টলা উপকূলীয় জলদাস সমবায় কল্যাণ সমিতির সদস্য জেলেরা।

সমিতির সভাপতি লিটন দাশ বলেন, “এবার করোনা আর নিষেধাজ্ঞা মিলিয়ে আমাদের গরিব জেলেরা খুব অসহায় দিনযাপন করেছে। চার মাসের বেশি সময় রোজগার নেই। ধার করে অনেকে সাগরে যাচ্ছে। এবার ইলিশ বেশি ধরতে পারলে হয়ত ধার শোধ করে কিছু আয় হবে এটাই আশা সবার।”

এফবি মুনিরুল মোস্তফা ট্রলারের মাঝি মো. ইউসুফ বলেন, সরকারিভাবে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকার কারণে নানা সমস্যায় দিন কেটেছে। সুদে টাকা নিয়ে কোনোরকম সংসার চালিয়েছি। এখন সাগরে মাছ ধরতে যাব, টাকা পাব, তা দিয়ে পাওনা শোধ করব।

এফবি আল্লাহর দান ট্রলারের জেলে আবদুল করিম বলেন, ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের পর যখন সাগরে যাচ্ছি, তখন মনে একটু ভয় লাগছে। কারণ, জলদস্যুরা আক্রমণ করতে পারে।

এদিকে জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ডের সার্বক্ষণিক টহল নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লে. কমান্ডার সাইফুল ইসলাম।

জানা যায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে প্রত্যেক বছর এ সময়ে সমুদ্রে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এই ৬৫ দিন জেলেদের পরিবারের জন্য সরকার মাসিক ৪০ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা করে। এসময় মাছ ও ক্রাস্টাশিয়ান্স প্রজাতির (কঠিন আবরণ বা খোলসযুক্ত সামুদ্রিক মাছ ও জলজ প্রাণী) আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এ প্রজাতির (চিংড়ি, লবস্টার, কাটলফিশ ইত্যাদি) মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও সঠিকভাবে বেড়ে উঠার পাশাপাশি সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

ফিসারিঘাটের পুরান বাজার চট্টগ্রাম মহানগর মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম বলেন, এই সময় ইলিশের সাইজ অনেক বড় হয়। আজ খবর পেলাম চাঁদপুরের দিকে যা ধরা পড়ছে সব এক কেজির উপরের ইলিশ। এবার মাছ বড় হবে। লকডাউন আর নিষেধাজ্ঞায় সাগরে জাল পড়েনি তাই এবার মাছের পরিমাণও বেশি হবে। এখন পর্যন্ত তিনশ বোট রওনা হয়েছে। রাতে আরো চার-পাঁচশ রওনা হবে।

চট্টগ্রাম জেলার মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে সমুদ্রে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন সচরাচর সে রকম মাছ পাওয়া যায় না। প্রজননকালীন সময়েও সাগরে মাছ শিকার এর অন্যতম কারণ। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভালো হয়েছে। সাগর মৎস্য ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে।’

সোনালী যান্ত্রিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির আহ্বায়ক মো. শামসুল আলম জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলে ও তাদের পরিবারের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বৃহষ্পতিবার ভোর থেকে জাল নিয়ে সাগরে গেছেন বেশিরভাগ জেলে। চট্টগ্রাম মহানগর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। যাদের সবাই গেছেন সাগরে।

প্রসঙ্গত, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সকল প্রকার মাছ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। গত ১৭ মে সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।