এবারের পুজোয় চট্টগ্রামের ঢুলিদের জন্য সাম্মানিকে পড়েছে টান

1 min read

।। চট্টগ্রাম ব্যুরো ।। বাংলাদেশ ।।

আর কয়েকদিন বাদে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। আর পূজায় বাজনা হতে হবে অনন্য সুন্দর। প্রতিটি পূজার মণ্ডপে এই অনন্য সুন্দর বাজনার জন্য প্রসিদ্ধ জালিয়া ঢুলিদের চাহিদাটা একটু বেশিই থাকে। কিন্তু করোনার কারণে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় তারা হয়ে পড়েছে অনেকটা মূল্যহীন। প্রতিটি পূজা মণ্ডপের আয়োজন হচ্ছে ছোট পরিসরে। যার ফলে পেশা পরিবর্তনের পরে নতুনভাবে আবার ফিরে আসতে পারছেনা অনেকে তাদের পুরনো পেশায়।

আগামী ২১ অক্টোবর চলতি বছরে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে । প্রতিবছর বড়োসড়ো আয়োজন থাকলেও এ বছর তা হচ্ছে ছোট পরিসরে। বড় বড় মণ্ডপগুলোতেও প্রতিমা গড়া হয়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায় ছোট পরিসরে। এরইমধ্যে আয়োজন হয়ে গেছে বাজনার। মণ্ডপে বাজনার জন্য জালিয়া ঢুলিদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও অন্যান্য বছরের ন্যায় তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা দিয়ে খুশি করতে পারছেনা পূজা উদযাপন কর্তৃপক্ষরা।

লোকসংখ্যাও চাইছে কম। যার ফলে পেশা পরিবর্তন করার পরেও তারা আবার নতুনভাবে ফিরে আসতে পারছে না তাদের পুরনো পেশায়। কেউ করছে জেলে কাজ, কেউ বিক্রি করছে মাছ কেউবা পেশা পরিবর্তনের পর চালাচ্ছে রিক্সা। অন্যদিকে যে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাদের জীবিকা চলত সে সব বন্ধ আছে করোনার ভাইরাসের কারণে অনেকদিন । বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান সভা-সেমিনার র‌্যালিতে তাদের বাজনার জন্য নিয়ে যাওয়া হতো। সেসব অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যার ফলে তারা পেশা পরিবর্তনে একপ্রকার বাধ্য হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ প্রতিমা শিল্পীদের শেষ তুলির টানের পালা

বান্ডেল রোডের নিউ তবলা বিতানের ঋষি ও স্বত্বাধিকারী অজিত দাস বলেন, অন্যান্য বছরে কাজের জন্য নিঃশ্বাস নেয়ার সময় হয়না। এ বছর তুলনামূলক কাজের চাপ অনেকটাই কম। প্রতিবছর মৃদঙ্গ, ঢাক, ঢোল, কঙ্গ-বঙ্গ, জোরখাই মেরামতে লাইন পড়তো। মেরামত করতে আসায় এ সকল যন্ত্রাংশ রাখার জায়গা সংকট হত। কিন্তু এ বছরে খুব কম সংখ্যক বাদকেরা এ সকল যন্ত্রাংশ মেরামতে দিয়েছে। প্রতিবছর বাংলা ঢোলে চামড়ার ছাউনি লাগাতে অসংখ্য বাদক আসতেন। এ বছরে বাংলা ঢোলও কেউ মেরামত করতে আসিনি।

তরনী সর্দার দলের তরণী দাসের সন্তান ও বর্তমান এ দলের স্বত্বাধিকারী দিপু দাস বলেন, গত বছর যে বাজনা কন্ট্রাক্ট করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকায় এবছর তা করতে হচ্ছে ২০ হাজার টাকায়। প্রতিবছর দুর্গাপূজায় আমাদের ১৫ থেকে ২০ জন টিম নিয়ে বাজনার কাজ করতাম। কিন্তু এ বছর তা কমে হয়েছে তিনজনে। অন্যান্য বছর সানাই, ডগর, বাংলা ডোল, কাসা, কীবোর্ড, সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু এ বছর ঢাক, ঢোল, জোরখাই ছাড়া আর কোন বাজনা নেওয়া হচ্ছে না। যার ফলে মিলছে না তাদের পরিবার চালানোর খরচটুকু। আমার সাথে কাজ করা অনেকেই জেলে পেশায়, কেউ রিকশা চালাচ্ছে অথবা কেউ মাছ বিক্রি করছে।

তিনি বলেন, আশ্বিন মাস থেকে মোটামুটি বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়। কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে বিয়ের লগ্নটা একটু বেশি থাকে। চলতি বছরে বিয়ের এ লগ্ন কিভাবে কাটবে তা এখনো বলতে পারছিনা। কিন্তু এ বছরে বিয়েগুলো হচ্ছে সীমিত আকারে খুব অল্প মানুষের অ্যারেঞ্জমেন্ট হচ্ছে। যার ফলে বাজনার জন্য বাদক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দুই থেকে তিনজন। পূর্বে আমরা বিয়ের অনুষ্ঠানে বাজনার জন্য নিয়ে যেতাম অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনের টিম।

নগরীর কোতোয়ালী থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৈকত দাশ বলেন, চট্টগ্রামে প্রতিবছর বড় পরিসরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হয়। কিন্তু এ বছরে করোনার প্রকোপে তা সীমিত পরিসরে করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন পাড়া মহল্লার পূজাতে বাজেট বেশি থাকার কারণে ও বিভিন্ন ধরনের সংগীতানুষ্ঠান সহ ঢুলিদের আমন্ত্রণ করতেন। কিন্তু এ বছর স্বল্পতা ও সীমিত পরিসরে পূজা উদযাপনের কারণে অন্যান্য বছরের মতো আয়োজন নেই। আগে যেখানে ১০ থেকে ১৫ জনের বাজনা দল আনা হতো সেসকল মণ্ডপে এবছর ৩ থেকে ৪ জন বাদক আনা হচ্ছে। পূজার অংশ হিসেবে ঢুলিদের বাজনা অনেকটা পূজার আমেজ বাড়িয়ে দেয়।