Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ট্রাম্পকে ঘিরে যত অস্বস্তি চীনের

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ডেস্ক  ।।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যতই সামনে এগিয়ে আসছে ততই চীনের সঙ্গে  ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতিবাচক সম্পর্কের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মার্কিন-চীন সম্পর্কটি বহু বছর ধরে দা-কুমরোর সম্পর্ক, কিন্তু গত কয়েত বছর ধরে তা যেনও আরো বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের গত দুইদিন আগের স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তিতে চীনকে আরো বেকায়দায় ফেলে দিলো ট্রাম্প প্রশাসন। চীন বিষয়টি নিয়ে বাকযুদ্ধে না নামলেও, পাকিস্তান এই চুক্তিটিকে তাদের নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখছে।       

এশিয়ার চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব মোকাবিলায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে চাইছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ওই চুক্তির নাম ‘দ্য বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট’ (বিইসিএ)। যুক্তরাষ্ট্র খুবই ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের সঙ্গে এই চুক্তি করে। এই চুক্তির ফলে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরো দৃড় হলো, যা চীনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

এ কথা অনস্বীকার্যযে, ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক সবচেয়ে উত্তেজনাকর ও তিক্ত রূপ ধারণ করেছে। কূটনৈতিক হুমকি-ধামকির পাল্টাপাল্টি প্রক্রিয়া সামরিক যুদ্ধের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আমলে যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা গড়িয়েছে দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তার অব্দি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু ভারতের সাথে সম্পর্ক শক্তিশালী করেনি ট্রাম্প, আশপাশের দেশগুলোতে বিশেষ করে যাদের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক খারাপ তাদের সাথেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের সময়ে আমরা দেখেছি হংকংয়ের ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়েও দুই দেশের উত্তেজনা এই সময়ে আরো বেড়েছে।

ট্রাম্পের শাসন আমলেই পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা হিসেবে পরস্পরের কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসে বোমা হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনেছে চীন। আর চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব চুরি করার অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এমনকি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।

চলতি বছর করোনা মহামারি এ বিরোধকে যেন আরও উস্কে দিয়েছে। করোনাভাইরাস চীনের তৈরী বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন: সমস্ত ভারতীয় কোভিড টিকা পাবে, জানালেন মোদী

ট্রাম্প আবারো ক্ষমতায় এলে দুই দেশের দ্বন্দ্বই কেবল বাড়বে না,  পুরো বিশ্বই সেই অস্থিরতায় ভুগবে বলে আশংকা তাদের। বিশ্লেষকরা বলছেন নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি দেশটির ভোটের রাজনীতিতে বেশ প্রভাব ফেলবে। দেশটির জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী নাগরিকদের পাশপাশি ভারতীয়দের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। তবে এই কথা প্রমাণিত যে মার্কিন নীতি নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয় না, কিন্তু অন্যান্য সময়ের তুলনায় ট্রাম্পের সময়ে চীন-মার্কিন সম্পর্ক অনেক বেশি খারাপ। তাই ট্রাম্পের জয়,  চীনের প্রত্যাশা না করার কথা।