চট্টগ্রামে ঝাল বেড়েছে কাঁচামরিচের (লঙ্কার)

।।চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাংলাদেশ।।

এবছরে বন্যার জল দীর্ঘ দিন স্থায়ী হওয়ার ফলে তার প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। এক মাস ধরে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। এই পুরো সময়ে সর্বোচ্চ দাম কাঁচা মরিচের (লঙ্কা)। ভালোমানের এক কেজি কাঁচামরিচ কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে ৩০০ টাকা। তবে সাধারণ মানের আমদানি করা কাঁচামরিচ ২৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, মরিচের দামে বেশ ঝাল। কাঁচামরিচের ঝালে নাকাল সবজি বাজার। অবশ্য এর কারণও আছে। বন্যায় দেশের অনেক এলাকার ক্ষেত জলে তলিয়ে গেছে। যেসব এলাকার জল নেমেছে। সেখানেও অতিবৃষ্টির কারণে আবাদ শুরু হয়নি। তা ছাড়া আগে থেকেই করোনা সংক্রমণের কারণে এবার সবজির আবাদ কম হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে সবজির বাজার এখন বেসামাল হয়ে পড়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর পাইকারী বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার, বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, কাজীর দেউরি বাজার, কর্ণফুলী কাঁচাবাজার ঘুরে চড়া দামে সবজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে আড়াইশ’ গ্রাম কাঁচামরিচ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এ হিসাবে কেজি ২৪০ থেকে ৩২০ টাকা পড়ছে। কাঁচামরিচের কেজি ছিল জুন মাসে ৬০, জুলাই মাসের শুরুতে ১০০ এবং শেষে ১৬০ টাকা। চলতি মাসের শুরুতে ২০০ টাকার মধ্যে থাকলেও এখন তা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

অন্য সবজির মধ্যে ঝিঙে, কাঁকরোল, বেগুন ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি করলা ও ঢ্যাঁড়শের দাম চাওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা। চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও শসার কেজি ৬০ টাকা। প্রতিটি লাউ ও জালি ৫০ থেকে ৭০ টাকা। গত মাসের শুরুতে এসব সবজি অর্ধেক দামে বিক্রি হয়েছে।

বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. ইকবাল বলেন, পাইকারি আড়তে অনেক সময় সবজি কিনতে কাড়াকাড়ি করতে হয়। তখন দামের কোনো ঠিক থাকে না। এ কারণে বাজার ভেদে দামের পার্থক্য এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। দেশি কাঁচামরিচ এখন ২৮০ টাকায় কিনে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন।

ইকবাল আরো বলেন, বাজারে এখন আগের তিনভাগের একভাগ সবজি আসছে। বাজারে বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি বেশি আসছে। বন্যার শুরুতে সবজি আসা বন্ধ হয়েছে। এরপর এক মাস ধরে চট্টগ্রামের আশপাশের জেলার সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে। তা ছাড়া গ্রীষ্মকালীন এই সময়ে সবজির আবাদ কম থাকে। এ কারণে অন্য এলাকার সবজিও তেমন আসছে না।