ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আদর্শ জায়গা চাঁদিপুর

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

তিন চারদিন হাতে সময় আছে ? নির্জন নিরিবিলিতে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সময় কাটাতে চাইছেন ? তাহলে অবশ্যই আপনাকে পৌঁছে যেতে হবে চাঁদিপুরে।ওড়িশার বালেশ্বর জেলায় বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত চাঁদিপুর। পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত এটি।

সমুদ্র অন্তর্ধান হয়ে যাওয়ার জন্য চাঁদিপুর বিখ্যাত। ভাটায় যেমন ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সরে যায় সমুদ্র। তেমনই আবার জোয়ারের সময় পাড়ে এসে ঢেউ ভাঙে সমুদ্রের। এই দৃশ্য পৃথিবীতে খুব কমই দেখা যায়।

এছাড়াও চাঁদিপুর রকেট, মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের জন্যও পরিচিত। এই ক্যান্টনমেন্ট এরিয়াটি চাঁদিপুরের অদূরে অবস্থিত।চাঁদিপুরে বেড়াতে গেলে সেখানে রাত্রিবাস করার জন্য রয়েছে বেশকিছু হোটেল। এছাড়াও রয়েছে ওটিডিসি-র পান্থনিবাসও।চাঁদিপুর থেকে কাছাকাছি রয়েছে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান।

নীলগিরি জগন্নাথ মন্দির

চাঁদিপুর থেকে নীলগিরি জগন্নাথ মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার। পাহাড়ের এই অংশ জগন্নাথ মন্দিরের জন্য প্রসিদ্ধ।

সিমলিপাল রিজার্ভ ফরেস্ট

চাঁদিপুর ঘুরতে এলে অবশ্যই ঘুরতে যাওয়া উচিত সিমলিপাল রিজার্ভ ফরেস্টে।
ভারতের সবচেয়ে বড় জাতীয় পশু সংরক্ষিত এলাকা এটি। চাঁদিপুর থেকে সিমলিপাল রিজার্ভ ফরেস্ট-এর দূরত্ব প্রায় ১২৫ কিলোমিটার। এটি ভারতের ব্যাঘ্র সংরক্ষিত এলাকারও অন্তর্গত।
বাঘ,লেপার্ড,হাতি,হরিণ,কুমীর সহ বিভিন্ন প্রাণীদের সামনে থেকে দেখতে চাইলে অবশ্যই যেতে হবে সিমলিপাল রিজার্ভ ফরেস্টে।

পঞ্চলিঙ্গেশ্বর

চাঁদিপুর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে নীলগিরি পাহাড়ে অবস্থিত পঞ্চলিঙ্গেশ্বর মন্দির। চাঁদিপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনস্থল হল পঞ্চলিঙ্গেশ্বর। শিবের পাঁচটি মূর্তির জন্য জনপ্রিয় পঞ্চলিঙ্গেশ্বর।

রেমুনা
চাঁদিপুর থেকে রেমুনার দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। এটি একটি ধর্ম স্থান। এই স্থানটি ক্ষীর চোরা গোপিনাথ মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। এটি ১৪ শতকে নির্মিত একটি মন্দির। এখানে ভগবানকে ক্ষীর ভোগ দেওয়া হয়।

বুড়ীবালাম নদীর মোহনা

চাঁদিপুর থেকে বুড়িবালাম নদীর মোহনার দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। একসময়কার বৈপ্লবিক কাজের জন্য জায়গাটি বিখ্যাত। এছাড়াও এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।

তবে, চাঁদিপুর যাওয়ার কোনো সরাসরি ট্রেন নেই। নিকটবর্তী রেলওয়ে স্টেশন বালাসোর।বালাসোর থেকে চাঁদিপুরের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। চাঁদিপুর থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ২৬০ কিলোমিটার। আর ভূবনেশ্বর থেকে চাঁদিপুরের দূরত্ব ২১০ কিলোমিটার।

এম/বি