প্রয়াত ভারতীয় রাজনীতির ‘চাণক্য’

।। শর্মিলা মিত্র ।।

শিক্ষক থেকে রাষ্ট্রপতি। সব পদেই ভূষিত হয়েছেন তিনি। দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন সব গূঢ় দায়িত্ব। ভারত রত্নেও ভূষিত হয়েছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।বাঙালী রাষ্ট্রপতি হিসেবে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাইসিনা হিলসেও। ভারতীয় রাজনীতির ‘চাণক্য’ বলে উল্লেখ করা হত তাঁকে। জানা যায়, প্রণব মুখোপাধ্যায়কে না জিজ্ঞেস করে কিছুই করতেন না ইন্দিরা গান্ধী হোক বা মনমোহন সিং।

ইতিহাস, রাজনীতি বিজ্ঞান আর আইনে মাস্টার্স করে কলেজ শিক্ষক আর সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।কর্মজীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনে পরতে পরতে উন্নীত হতে হতে শেষ পর্যন্ত রাজনীতির শীর্ষে মেলে ধরেছিলেন নিজেকে। পাঁচ দশকের রাজনীতির পথ পেড়িয়ে ২০১২ সালে হয়েছিলেন ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি।প্রণববাবুর মেধা ও জ্ঞানে আকৃষ্ট হয়ে ১৯৬৯ সালে তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য করে পাঠান বাংলা কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা অজয় মুখোপাধ্যায়।

প্রণববাবুর মেধায় আকৃষ্ট হয়ে তাঁকে কংগেসে দুনম্বর জায়গা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। জানা যায়, এক সময় তাঁকে ইন্দিরা গান্ধীর মানসপুত্রও বলা হত। ১৯৮২ সালে প্রণববাবুকে অর্থমন্ত্রী করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।পরে যদিও গান্ধী পরিবারের সঙ্গে বিরোধের জেরে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যান তিনি। যদিও পরবর্তী সময়ে আবারও কংগ্রেসে ফিরে আসেন তিনি।২০০৪ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লোকসভায় নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচবার রাজ্যসভায়ও গিয়েছেন তিনি।

২০০৪ সালে কংগ্রেসের ক্ষমতাধীন সরকারের সময় অর্থমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদও দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।প্রণববাবু সবাইকে নিয়ে রাজনীতিতে একসঙ্গে চলার চেষ্টা করেছিলেন বলে তাঁকে রাজনীতির চাণক্য নামেও অভিহিত করা হত।কংগ্রেস দলের পাশাপাশি তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতার কারনে ভারতের রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলি এমনকি বিজেপি নেতাদেরও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।