Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হুমকি! তৃতীয় দফায় নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বহু প্রশ্ন

।। প্রথম কলকাতা ।।

তৃতীয় দফার ভোটে নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছু নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাংশের বিরুদ্ধে। বহু জায়গায় ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে সকাল থেকে অভিযোগ আসতে শুরু করে। কিন্তু সেই সমস্ত অঞ্চলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়নি। দিনের সবচাইতে বড় অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্র থেকে। সেখানে একটি বুথের সামনে দুষ্কৃতীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানকে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।

তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এখানেই প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে? কেন তারা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছেন? তবে কি তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়নি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে? এই চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে সকাল থেকেই।

তৃতীয় দফার নির্বাচনে সকাল থেকেই প্রচুর অশান্তির খবর আসতে শুরু করে তিনটি জেলা থেকে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, উলুবেড়িয়া, গোঘাট প্রতিটি অঞ্চল থেকে প্রচুর অশান্তির খবর আসতে শুরু করে। ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বাসুলডাঙায় বিজেপি সমর্থকরা ভোট দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ ওঠে। তৃণমূল তাঁদের হুমকি দিয়েছে, এই অভিযোগে সরব হন তাঁরা।

সেখানকার বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার এলাকায় গিয়ে ভোটারদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ‘এলাকা ডমিনেশন’ করছে না কেন? কেন বাহিনীকে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না অশান্তি দমনের ক্ষেত্রে? বহু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এই অভিযোগে সরব হয়েছেন ভোটারদের একটা বড় অংশ।

নির্বাচনের আগে দেখা গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী গ্রামের ভেতর ঢুকে রুটমার্চ করছে। কিন্তু নির্বাচনের দিন যে পর্যায়ের তৎপরতা দেখানো দরকার ছিল, সেটা দেখা যায়নি। ক্যানিং পূর্বে আইএসএফ এবং তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে বোমাবাজি হয়। বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আইএসএফ প্রার্থীকে।

আরো পড়ুন : রায়দিঘিতে সিপিএম কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে তৃণমূলের কর্মীরা, অভিযোগ কান্তির

কিন্তু সেখানেও কেন্দ্রীয় বাহিনী বা রাজ্য পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। বলাবাহুল্য এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। যদিও কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি সামলেছে। বারুইপুরের একটি গ্রামের ভোটাররা ভোট দিতে যেতে পারছিলেন না নিরাপত্তার অভাবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর আশ্বাসে তাঁরা ভোট দিতে গিয়েছেন। কিন্তু সার্বিকভাবে নিরাপত্তার’ ছবিটা আরও আঁটোসাঁটো হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে সকলেই মনে করছেন।

কারণ এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তায় মধ্যে ভোট হবে, সকলের এটাই প্রত্যাশিত ছিল। বিপুল সংখ্যায় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে। তাই অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থাকা অবস্থায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানকে দুষ্কৃতীরা হুমকি দিচ্ছে, এটা নিরাপত্তার নিরিখে একেবারেই ভাল ছবি নয়।