Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দিদির কাছে ক্ষমা চেয়েই ফিরেছিলেন দলে তবুও পদ থেকে ব্রাত্য জিতেন্দ্র

1 min read

।।সুদীপা সরকার ।।

কখনও চিঠির পর চিঠি আবার কখন ও সংবাদমাধ্যমের সামনে আসানসোলের মুখ্য প্রশাসক জিতেন্দ্র তিওয়ারি নিজের দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তার জন্যই কি জিতেন্দ্র তিওয়ারি দলে ফিরে আসার পরও আসানসোলের পুর প্রশাসক কে হবেন সেই নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল? সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসানসোলের পুর নিগমের প্রশাসক হিসাবে নিযুক্ত হলেন অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়।
গত ১৬ ই ডিসেম্বর পুরো প্রশাসক পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি (Jitendra Tiwari)।একইসঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সহ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

আবার দুদিনের মধ্যেই তিনি সুর বদলে ফেলেন। নিজের দলে ফিরে আসেন।নাম না করে ফিরহাদ হাকিম এর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে জিতেন্দ্র তিওয়ারি (Jitendra Tiwari) বলেছিলেন কলকাতার তৃণমূল নেতার নির্দেশে পাণ্ডবেশ্বর হামলা।তার সাথে সাথে আরেকটি জিনিস ঘটেছিল তৃণমূলের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা যেদিন শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছিলেন সেদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলা তৃণমূল সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারি। শুভেন্দু অধিকারী প্রশংসা করে ফিরহাদ হাকিমকে আক্রমণ চালিয়েছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি (Jitendra Tiwari)। জিতেন্দ্র তিওয়ারি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন ওরা চাইছে না আমি দ’লে থাকি।


আবার এইসব কথা বলার দুদিনের মধ্যেই নিজের সুর বদলে ফেলেছিলেন তিনি। রাজ্যে যখন দলত্যাগের হিড়িক চলছে তখন তৃণমূলে ফেরার কথা ঘোষণা করেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি (Jitendra Tiwari)। আসানসোলের পৌর প্রশাসক ও পাণ্ডবেশ্বর এর বিধায়ক ভুল স্বীকার করে ফিরে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এই ঘটনা বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করেছিলেন রাজনৈতিক মহল। জিতেন্দ্র তিওয়ারি পুরনো দলে ফেরার পর মন্তব্য করেছিলেন আমি শুনেছি আমার আচরণে দিদি কষ্ট পেয়েছে। দিদিকে দুঃখ দিয়ে কিছু করবো না। যা বলেছি আগে ভুল করেছি। স্বীকার করে নিয়ে ফের দলের কাজ করব।

আরো পড়ুন : লালের পর সবুজে একসময় মেতেছে বর্ধমান, আজ শুধুই গেরুয়া ঝড় !

সবকিছু মিটে গিয়েছে দিদির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব। আমি তৃণমূলে ছিলাম এখন ও আছি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যদি তৃণমূলেই থাকেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি তাহলে তাকে পৌর প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত কেন করা হলো না? শুরু হয়েছে জল্পনা। আবার তৃণমূলের সাথে জিতেন্দ্র তিওয়ারি দূরত্ব বাড়তেই রাতারাতি জিতেন্দ্রের বিরুদ্ধে মিছিল মিটিং করতে দেখা যায় দলীয় কর্মীদের। কারণ বেশ কয়েকদিন ধরেই জিতেন্দ্র তিওয়ারি বিজেপিতে যোগ দেবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল নানান মহলে। আবার অন্যদিকে নৈশভোজে জিতেন্দ্র তিওয়ারি যে হোটেলে খেতে যান সেখানে কৈলাস বিজয়বর্গীয় দিলীপ ঘোষ সহ অন্যান্য নেতারা থাকায় তার বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

কিন্তু তারপর ফেসবুক এবং টুইটারে খবরটি মিথ্যে আমি দিদির সাথে আছি থাকবো লিখে টুইট করেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। দল ছাড়ার পর নিজের দলের কাছে বিশ্বাস যোগ্যতা প্রমাণের পরীক্ষাও দিতে হয়েছিল তাঁকে। রাতারাতি বিদ্রোহের পর দিনই তৃণমূলের ফিরলেও জিতেন্দ্র তিওয়ারি কে তার পদ ফেরত দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। অনেকেই ভেবেছিলেন কিছু সময় পর হয়তো তাকে তার পদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তা হলোনা। জিতেন্দ্র তিওয়ারি যোগ্যতা এবং তার উপর দলের একাংশের মধ্যে যে প্রশ্ন এবং সন্দেহ ছিল দুটোই কিন্তু এখনও থেকেই গেল।