Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বাংলা দখলের লক্ষ্যে হিন্দুত্ববাদের তাস খেলা শুরু করে দিলো বিজেপি!

।। ময়ুখ বসু ।।

বাংলা দখলের লক্ষ্যে হিন্দুত্ববাদের তাস খেলা কি শুরু করে দিলো বিজেপি? অন্তত কৈলাস বিজয়বর্গীয় তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন বলে মনে করছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের এক সভা থেকে কৈলাস বিজয় বর্গীয় ঘোষণা দিয়ে দিলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের কীর্তন শিল্পীরা পেনশন পাবেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রের মোদি সরকার আগেই কীর্তন শিল্পীদের কথা ভেবে পেনশনের বন্দোবস্ত করেছেন। ৬০ বছর বয়েস হয়ে গেলে কীর্তন শিল্পীদের আর খোল করতাল বাজানোর ক্ষমতা থাকে না। গলার স্বরেও আর তেজ থাকে না। কীর্তনের আসরের বায়নাও কমে আসতে থাকে। তার তাঁদের প্রবীণ জীবনের কথা মাথায় রেখেই কীর্তন শিল্পীদের জন্য পেনশন চালু করেছে মোদি সরকার। কিন্ত কেন্দ্রের এই প্রকল্প রাজ্য সরকার কার্যকর করতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে কীর্তন শিল্পীরা পেনশন পাবেন বলে ঘোষনা দিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের ধারনা, ভোটের বাজার গরম হতে না হতেই বিজেপি হিন্দুত্বের তাস খেলা শুরু করে দিলো। এরপর হিন্দু সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে যদি ভোট প্রচারের ময়দানে বিজেপির আরও চমক থাকে, তাহলে বাংলায় হিন্দু ভোটের একটা বড়ো অংশকেই করায়াত্ত করে নিতে পারবে বিজেপি। আর আপাত দৃষ্টিতে বিজেপির রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত বলছে, সম্ভবত সেই পথেই হাটছে গেরুয়া শিবির। বাংলার বুকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিয়ে তৃণমূল বা বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি জয় পরাজয়ের অংক কষে থাকে। সেটাই চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। সেখানে দাঁড়িয়ে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে আসাদ্দুদিন ওয়েইসির দল মিম কিংবা আব্বাস সিদ্দিকির দল যদি ময়দানে নামে তাহলে সংখ্যালঘু ভোট যে কাটাকুটি হয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেটা হলে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বা বাম কংগ্রেসের ক্ষতি হবে, তেমনি হিন্দু ভোটের সংখ্যাতত্বের উপর দাঁড়িয়ে সংখ্যালঘু ভোট ভাগে লাভবান হবে বিজেপি। বাংলায় বিজেপি যে হিন্দু সম্প্রদায়কে টার্গেটে রেখে ভোট রাজনীতিতে বিভাজনের পথে এগোচ্ছে তা বেশ পরিষ্কার। কারণ, রাজ্যে অমিত শাহ এসে আদিবাসী পরিবারের মধ্যাহ্নভোজন এবং পরদিন মতুয়া কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজন সেরে বুঝিয়ে দিয়ে যান, তিনি বা আসলে বিজেপি তাদেরই লোক। এক্ষেত্রে এখন দেখার বিজেপির এই হিন্দুত্ববাদী পথে ঝুকে পড়া রাজনীতির অংককে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বা বাম কংগ্রেস কীভাবে সামাল দেয়।