Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বিজেপি না তৃণমূল? ভোটাররা দোটানায়!

।। ময়ুখ বসু ।।

রাজ্যে প্রথম তিন দফার ভোট শেষ। আর তারপর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন। কারা কটা আসন পেতে পারে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন জোর তৎপরতা। যদিও প্রথম তিন দফার ভোট শেষে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয় দলই দাবি করেছে, তারা তিন দফায় ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে।

রাজ্যে প্রথম দুই দফায় ৬০ টি আসনে ভোট হয়ে গিয়েছে। তৃতীয় দফায় ভোট হয়েছে ৩১ টি আসনে। মোট এখনও পর্যন্ত তিন দফায় ৯১ টি আসনে ভোট হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দুই দফার নির্বাচন যে এলাকায় হয়েছে সেখানে বিজেপির প্রভাব ছিলো বেশ কিছুটা বেশী।

কারণ, প্রথম দুই দফার ভোটে একটা বড়ো অংশ শুভেন্দু অধিকারীর গড় বলে পরিচিত ছিলো। এদিকে তৃতীয় দফার ভোটে বিজেপির তেমন প্রভাব ছিলো না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। তৃতীয় দফার ভোটে তৃণমূল এবং বিজেপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করা হলেও তৃতীয় দফার ভোটে বিজেপি অল্প সংখ্যাক সিট পেতে পারে বলে মনে করছে অনেকে।

মোট তিন দফায় রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা যেটাই বলুন না কেন, বিজেপি ৩০ থেকে ৩২ টি আসন পেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ। সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বাকি আসনে তৃণমূলের পাশাপাশি জোটের প্রার্থীরাও ভালো ফল করতে পারে।

আরো পড়ুন : ‘দিদি মুখ নয় পা দেখাচ্ছেন ‘, ফের মমতাকে আক্রমণ দিলীপের

এবারের ভোটে মূলত ভোটারদের একটা বড়ো অংশ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছেন। একটি অংশ তৃণমূলের পক্ষ নিয়ে বলছে, রাজ্যে উন্নয়নের কাজ বেশ ভালোই হয়েছে। এই সরকারের আমলে সকলেই কমবেশী জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। মহিলারা বেশিরভাগই মমতার পক্ষে। অন্যদিকে বিপক্ষে বলা হচ্ছে, মমতা সরকার অপদার্থ। রাজ্যে শিল্প হয়নি। ছেলে মেয়েদের চাকরি নেই। মমতা মুসলমানদের খুব মাথায় তুলে রেখেছেন। তাদের জন্য সব কিছুতেই ছাড় দেওয়া হয়েছে, সব জায়গায় বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তৃণমূলের অনেক নেতারাই দুর্নীতিতে যুক্ত। অন্যদিকে জোটের তরফে দুই পক্ষকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে বিজেপির ভালো ফল করার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে এনআরসি। রাজ্যে এনআরসি লাগু করার প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিলেও আসলে এনআরসির কারনে রাজ্যবাসীকে কতোটা হ্যাপা পোহাতে হবে তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। অনেকে মনে করছেন, বিজেপির নাগরিকত্ব আইন (এনআরসি) একটি ভয়ঙ্কর বিপদ।

বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে এনআরসি করবেই। আর বাংলায় এনআরসি করলে ৫০ লক্ষ মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে। কারণ, এনআরসির নামে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ফর্মে সেলফ ডিক্লেয়ারেশন দিতে হবে প্রত্যেককে। আর সেখানে লিখতে হবে আপনার মা, বাবা, ঠাকুরদা, ঠাকুরমার জন্ম কবে কোথায়।

আমাদের রাজ্যে পূর্ববঙ্গ থেকে যারা এসেছেন তারা যখনই বিষয়গুলি ওই ফর্মে লিখবেন তখনই ধরা পড়ে যাবেন। আর তারপরেই পরিবার পরিজন ছেড়ে ঠাই নিতে হবে ডিটেনশন ক্যাম্পে। আসলে এনআরসির প্রকৃত তথ্য এখনও সামনে আনেনি কেন্দ্রীয় সরকার। আর এখানেই ধোঁয়াশা রেখে রাজনীতিটা করছেন মোদী ও অমিত শাহেরা।

ফলে অনেকে বিজেপিকে মন থেকে চাইলেও এনআরসির ভয়ে দোটানায় পড়েছেন। অন্যদিকে রাজ্যে তৃণমূলকে ফের ক্ষমতায় নিয়ে এলে স্থানীয় ভিত্তিক তৃণমূল নেতাদের দাপট ও চোখ রাঙ্গানি, দুর্নীতি, কাটমানি এবং যথেচ্ছচারের আশঙ্কায় অনেকেই তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দোনোমনা করে চলেছেন। সেক্ষেত্রে অনেকে মনে করছেন, রাজ্যে জোট শক্তি বেড়ে ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি তৈরি হলেই বরং স্বস্তি মিলবে রাজ্যবাসীর। তবে সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটবে আগামী ২ মে।