Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বেচারাম মান্নার বাড়িতে ঢুকে পড়লো বিজেপি, সিঙ্গুরের ভূমিপুত্রের এবার কী করণীয়?

।। ময়ুখ বসু ।।

সিঙ্গুরের ভূমিপুত্র বেচারাম মান্নার বাড়ির ভিতরে এবার ঢুকে পড়লো বিজেপি। আর এই ঘটনায় রীতিমতো রাজনৈতিক চাঞ্চল্য শুরু হয়ে গিয়েছে হুগলির ভূমি আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান সিঙ্গুরের মাটিতে। শনিবার সিঙ্গুরের রতনপুরে তৃণমূল ছেড়ে বেশ কয়েকজন যোগ দেন বিজেপিতে। যারমধ্যে অন্যতমভাবে রয়েছেন তৃণমূলের হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্নার জেঠতুতো ভাই বিধান মান্না। আর বিধান মান্না তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিতেই সিঙ্গুরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে বিজেপিতে পা রেখেই বিধান মান্না দাবি করেছেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তিনি তৃণমূলের হয়ে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন।

তার বদলে তিনি দলের থেকে কিছুই পাননি। আর বুকভরা সেই ক্ষোভ নিয়েই বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। এদিকে মান্না পরিবারে এই ভাঙ্গনের কথা জানাজানি হতেই অনেকটাই বিপাকে পড়ে গিয়েছেন বেচারাম মান্না। উঠতে শুরু করেছে নানা প্রশ্ন। ফলে তড়িঘড়ি বেচারাম মান্না এতোদিন ধরে তার জেঠতুতো ভাই বলে পরিচিত বিধান মান্নাকে নিজের আত্মীয় বলে অস্বীকার করেছেন। ফলে সিঙ্গুরে রাজনৈতিক শোরগোলের পারদ বেশ চড়েছে। মূলত বেচারাম মান্নাকে নিয়ে সিঙ্গুরের মাষ্টারমশাই রবীন্রনাথ ঘোষের সঙ্গে দলের অন্দরেই সংঘাত রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাদিবসের দিনেই আলাদা আলাদাভাবে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাদিবস পালন করেন বেচারাম মান্না এবং রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

আরো পড়ুন : হিন্দু হলেই দেশভক্ত , হিন্দুত্ববাদের জিগির তুলে দিলেন…

রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, বেচারামের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দেন। হুগলির মাটিতে তৃণমূলের এই গোষ্ঠী কোন্দলের মাঝেই শনিবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান অস্বস্তি বাড়িয়েছে শাসকের। তার উপর মান্না পরিবারে ভাঙ্গনের রাজনীতি যে এলাকায় পদ্ম শিবিরের শক্তি একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে তা স্বীকার করে নিয়েছেন রাজনৈতিক মহল। এদিকে গত লোকসভা নির্বাচনে এই সিঙ্গুরে জয়ী হন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। ফলে ভূমি আন্দোলনের এই পীঠস্থানে একটু একটু করে পদ্ম যে যথেষ্ট পাপড়ি মেলেছে তা পরিষ্কার। সেখানে দাঁড়িয়ে এবারে বিধানসভা ভোটের আগে যদি তৃণমূল শিবিরে একদিকে গোষ্ঠীকোন্দল এবং অন্যদিকে ভাঙ্গনের ধাক্কা লাগে তাহলে অনেকটাই পিছিয়ে পড়তে হতে পারে রাজ্যের শাসক শিবিরকে।

অন্যদিকে, এই সিঙ্গুরের মাটিতে শনিবার জনসভা করে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে গিয়েছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তিনি বলেছেন, সিঙ্গুরে পা দিলেই একটা পাপবোধ হয়। যেভাবে এখান থেকে আন্দোলন করে টাটাকে তাড়িয়েছে, তাতে বাংলার শিল্পের পথ অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। সারা দেশ বাংলার সম্পর্কে জেনে গিয়েছে। তাই পাপবোধ হয়। মুকুল রায় সিঙ্গুর আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, সিঙ্গুরে আন্দোলন করে ভুল করেছিলাম। অন্যায় করেছিলাম। তবে লকেট সাংসদ হওয়ার পর সেই পাপবোধ কিছুটা কমেছে। ফলে একযোগে তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল, দলীয় ভাঙ্গন এবং মুকুলের তোপের মুখে দাঁড়িয়ে এই সিঙ্গুরের মাটিতে বিজেপি একুশের বিধানসভা ভোটে ঠিক কতোটা ঘুরে দাড়াতে পারবে সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের কাছে বড়ো প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।