ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত শেষমেশ পদ্মে?

।। শ্রীপর্ণা মুখোপাধ্যায় ।।

সরাসরি এবার ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক কে বিজেপিতে স্বাগত জানালেন অর্জুন সিং। বলার অপেক্ষা থাকে না তৃণমূলের অস্বস্তি বেড়েছে বিকেলের পর থেকে এমনটাই মনে করছেন য়াকিবহল মহলের একাংশ। জল্পনটা অনেকদিনের, ব্যারাকপুরে তৃণমূল বিধায়ক হয়তো শুভ্রাংশু রায়ের সাথেই বিজেপিতে যোগ দেবেন জল্পনা এমনই কারণ শীলভদ্র মুকুল রায়ের খুব ঘনিষ্ঠ বলে শোনা যায় মুকুল রায় যখন তৃণমূলে তখন থেকেই মুকুল রায়ের সাথে শীলভদ্র দত্তের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা কারো অজানা নয়।


খুব বেশিদিন নয়,কিছুদিন আগেই শীলভদ্র দত্ত ফেসবুকে একটা পোস্ট করেছিলেন, “দম বন্ধ হয়ে আসছে মন চাইছে মুক্ত আকাশ” বাংলার রাজনীতি একটু কিছু পেলেই হল, তিল থেকে হয়ে যায় তাল। ব্যারাকপুরে তৃণমূল বিধায়কের এই পোস্টের পর জল্পনা একেবারে তুঙ্গে উঠেছে বলাই যায়, তাহলে নির্ঘাত মুক্ত আকাশ মানে বিজেপিকে বোঝাতে চেয়েছেন শীলভদ্র বাবু জল্পনা শুরু হয়ে যায় চতুর্দিকে। যদিও ব্যারাকপুরে তৃণমূল বিধায়ক জানান, “তৃণমূল দল ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই তৃণমূলে থাকব”।

তবে শীলভদ্র বাবুর এসব কথায় বিশেষ পাত্তা পরেনি কারন ততক্ষনে আগুনে পরে গেছে ঘি। সূত্র বলছে ব্লক স্তরের নিয়ে রাজ্যসভার সাংসদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে ছিলেন শীলভদ্র বাবু তারপরই নাকি মুক্ত আকাশের খোঁজ করেন তিনি। চায় পে চর্চায় যোগ দিয়ে দিলীপ ঘোষ কতবার যে নাম না করে ব্যারাকপুরের বিধায়ককে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তার ইয়ত্তা নেই। তখন শীলভদ্র বাবুর জবাব ছিল, “ওনার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে আমি তৃণমূলের ভালো আছি অন্য দলে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছা আপাতত আমার নেই”।

“আপাতত” শব্দেই হয়তো ইঙ্গিত ছিল বলেই মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। গত বছরের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই শীলভদ্র দত্তের বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা, সম্ভাবনা নাকি বেড়েছে, এমনটাই বলছেন ওয়াকিবহাল মহল।মুকুল যখন বিজেপিতে জবার তোড়জোড় শুরু করেছিলেন তখন শীলভদ্র দত্ত কে বলতে শোনা যায়, “কে কী করছে জানিনা,আমি দলের সঙ্গেই আছি,মমতা ব্যানার্জি আমায় সম্মান দিয়েছেন, মমতা দি’ই আমার এক এবং একমাত্র নেত্রী।

মুকুলের “বিজেপি অভিযানে “সামনের সারিতে ছিলেন শীলভদ্র, হয়েছিলেন দলের বিরাগভাজন,তবে দূরত্ব বেড়ে যায় সময়ের সাথে সাথে মুকুল রায়ের সাথে। ২০১৯ এর নির্বাচনী প্রচারে যখন প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকে বলেছিলেন তৃণমূলের ৪০ জন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং তখন বলেছিলেন, ৪০ নয়,সংখ্যাটা ১০০, অর্জুন সিং এর ভালো লাগার তালিকায় তখন থেকেই ব্যারাকপুরে তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত।

আজ তারিখ টা ভালো করে মনে রাখা দরকার কারণ পরবর্তীতে কাজে লাগতে পারে পয়লা অক্টোবর ২০১৯ খোলামেলা প্রকাশের আহ্বান করেছেন শীলভদ্র দত্ত কে অর্জুন সিং, তবে কি ধরে নেওয়া যায় জেলার পর এবার কলকাতার আশেপাশে প্রশান্ত কিশোরের উদ্যম কমছে? বিরোধীরা কবে থেকেই বলছে,পিকে বহিরাগত জনসংযোগ মিশে যাবে ধুলোয়। রাজ্যের অনেক তৃণমূল পার্টি অফিসই তো রাতারাতি গেরুয়া হয়েছে,বিজেপি নেতারা বলছেন ধৈর্য ধরুন অপেক্ষা করছে আরও চমক, তবে কী সত্যিই তৃণমূলের উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে শীলভদ্র দত্ত পদ্মে?উত্তর দেবে সময়..