চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে পরমাণু কেন্দ্র

।প্রথম কলকাতা।

বিজ্ঞান এখন এতটাই উন্নত যে, প্রথম কোনও পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসাবে চাঁদ ও লালগ্রহে পরমাণু কেন্দ্র তৈরির কথা ভাবছে আমেরিকা। পৃথিবীর বাইরে ভিনগ্রহে পরমাণু চুল্লি তৈরির পরিকল্পনা চলছে।
চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষেই পরমাণু শক্তি কেন্দ্র গড়তে চাইছে আমেরিকা৷ এরই মধ্যে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার থেকে জানতে চেয়েছে, কিভাবে এটা করা যেতে পারে। আমেরিকা চাইছে চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে ফিসন সারফেস পাওয়ার সিস্টেম গড়ে তুলতে, যাতে মানুষ দীর্ঘদিন সেখানে থেকে গবেষণা চালাতে পারে৷ মার্কিন পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ইদাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, এনার্জি ডিপার্টমেন্ট ও নাসা মিলে কিভাবে চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছে৷ এমন রিঅ্যাক্টর তৈরি করার কথা ভাবা হচ্ছে, যা ঠান্ডা করার জন্য জলের প্রয়োজন হবে না৷ পৃথিবীতে প্রায় সব পরমাণু চুল্লিই জল দ্বারা ঠান্ডা করা হয়। পরিকল্পনাটি দুটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে৷ প্রথমে পরমাণু চুল্লিটির ডিজাইন করা৷ দ্বিতীয় পর্যায়ে একটি টেস্ট রিঅ্যাক্টর বা চুল্লি তৈরি করা৷ দ্বিতীয় চুল্লিটি চাঁদে পাঠানো হবে মহাকাশযানে করে। মহাকাশযানটির ল্যান্ডার ওই পরমাণু চুল্লিটি চাঁদে বয়ে নিয়ে গিয়ে স্থাপন করে আসবে৷ একইভাবে মঙ্গলগ্রহেও পরমাণু চুল্লি স্থাপন করা হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে আমেরিকার লক্ষ্য, একটি পরমাণু চুল্লি, মহাকাশ যান ও ল্যান্ডার চাঁদে পৌঁছে দেওয়া৷ অন্তত ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারবে এমন রিঅ্যাক্টর তৈরি করে চাঁদে পাঠানো হবে। তবে সেই পরিকল্পনা সফল হবে কিনা সে নিয়ে এখনও শতভাগ নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।