উপসর্গবিহীন করোনা রোগীদের ঘরেতেই চিকিৎসার পরামর্শ

।। প্রথম কলকাতা ।।

করোনা পরিস্থিতিতে এখন আমাদের মনে নানান রকম প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যেমন কি করে বুঝবো করোনায় আক্রান্ত কিনা? বাড়িতে কিভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকা সম্ভব? কখন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন? এই ধরনের নানা প্রশ্ন আমাদের মনে এখন ঘুরছে।


জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খ্যাতনামা চিকিৎসক ডক্টর অর্জুন সেনগুপ্ত প্রথম কলকাতায় দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে করোণা রোগ সম্পর্কে, করোণা চিকিৎসার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য জনসাধারণের উদ্দেশে তুলে ধরলেন।

করোনার উপসর্গ কতখানি সক্রিয়?

ডক্টর অর্জুন সেনগুপ্ত. বেশিরভাগ করোনা আক্রান্তদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে উপসর্গ নেই। আবার অনেকের অল্প উপসর্গ আছে।

যাদের উপসর্গ কম তারা কি হাসপাতালে ভর্তি হবেন?

ডক্টর অর্জুন সেনগুপ্ত. যারা উপসর্গবিহীন,যাদের অল্প উপসর্গ আছে তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোন দরকার নেই বলেই মত প্রকাশ করেছেন তিনি। ঘরেতে থেকেই বেশ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে সুস্থ হওয়া যায় বলেই তিনি জানিয়েছেন।

যারা বাড়িতে থাকবেন তারা কি কি সাবধানতা অবলম্বন করবেন?

ড অর্জুন সেনগুপ্ত. যিনি করোনা আক্রান্ত হবেন তিনি একটা আলাদা ঘরে থাকবেন। বাড়ির বাচ্চা ও বয়স্কদের থেকে দূরে থাকতে হবে তাকে।আলাদা বাথরুম থাকলে ভালো যদি আলাদা বাথরুম না হয় সে ক্ষেত্রে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি বাথরুম ব্যবহার করার পর তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তাছাড়া হাত ধোয়া বারবার, মাস্ক পড়তে হবে।

বাড়িতে এই ধরনের ব্যবস্থা না থাকলে কি করনীয়?
ডঃ অর্জুন সেনগুপ্ত. বাড়িতে যদি এরকম ব্যবস্থা না থাকে, সে ক্ষেত্রে সরকারের স্যাটেলাইট সেন্টার, বেসরকারি হাসপাতালে যে স্যাটেলাইট সেন্টার গুলি আছে সেখানে থাকাই শ্রেয়।


কখন রোগী ভর্তি হবেন?
ডঃ অর্জুন সেনগুপ্ত. যখন খুব বেশি শ্বাসকষ্ট হবে, প্রচুর জ্বর থাকবে অর্থাৎ শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে, অসম্ভব দুর্বল মনে হবে, বা কোন উপসর্গ যা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে আপনি বুঝতে পারবেন, তখন অবশ্যই হাসপাতলে ভর্তি হতে হবে।

সর্বশেষে ডঃ অর্জুন সেনগুপ্ত পরামর্শ দিয়েছেন, বেশি করে জল খেতে হবে, জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেতে হবে। বহু সংখ্যক মানুষ ঘরেতে থেকে সুস্থ হয়েছেন এবং হচ্ছেন। এর ফলে মানুষের মন থেকে করোনা সম্পর্কে যেমন ভয় দূর হবে তেমনি যাদের সত্যি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দরকার তারাও হাসপাতালের বেড পাবেন ও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।