বিধানসভা ভোট ২০২১, যে দুটো ইস্যুই শেষ কথা বলবে মধ্যমগ্রামে রথীনের গড়ে !

।।ময়ুখ বসু।।


রাজ্যে বেজে গিয়েছে ভোট দামামা। করোনা আবহের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ময়দানে নেমে পড়েছে। জেলায় জেলায় কোন রাজনৈতিক দলের অবস্থান কেমন? তা জানতে এখন থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন। কোন জেলার কোন কোন বিধানসভায় কোন রাজনৈতিক দল এগিয়ে কোন রাজনৈতিক দল পিছিয়ে সেইসব নিয়ে একটা আগাম আভাস পাওয়ার চেষ্টায় এই প্রতিবেদন।

আমাদের আজকের বিধানসভা কেন্দ্র মধ্যমগ্রাম। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে অন্যতন নজরকাড়া কেন্দ্র এই মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। ঝাঁ চকচকে রাস্তা, অত্যাধুনিক শপিং মল, বহুতল আবাসন সহ আধুনিক ব্যাবস্থাপনায় এই জেলাতে অনেকটাই এগিয়ে মধ্যমগ্রাম। পাশাপাশি এই বিধানসভা কেন্দ্রে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট খাটো শিল্প তালুকও। এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের রথীন ঘোষ।

আরো পড়ুন : বিধানসভা নির্বাচন ২০২১, হুগলিতে বামেরা তুরুপের তাস !

রথীন ঘোষ এই মধ্যমগ্রাম পুরসভার পুরপ্রধান হিসাবেও দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি জানালেন, এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের পরিষেবা প্রদানই তাঁর কাছে শেষ কথা। এই কেন্দ্রে তৃনমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি যথেষ্টই শক্তপোক্ত।সেই তুলনায় বিজেপি কিংবা বামেরা সেই অর্থে কামড় বসাতে পারেনি। দীর্ঘদিন এই মধ্যমগ্রাম পুরসভা বামেদের দখলে থাকলেও আজ এই কেন্দ্রে বাম শক্তি কার্যত তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। সেখানে দাঁড়িয়ে গেরুয়া শিবির অনেকটাই ততপর এই কেন্দ্রে।

বাম ভাঙ্গানো শক্তি এবং তৃণমুলের বিক্ষুব্ধদের একটা অংশকে নিয়ে বিজেপি এই কেন্দ্রে নিজেদের শক্তি জানান দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রথীন ঘোষের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং তার কূটকৌশলের উপর ভর করেই কার্যত এই মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে অনেকটাই স্বস্তিতে শাসক শিবির। মূলত এই কেন্দ্রে কর্মসংস্থান এবং সাংগঠনিক শক্তির উপরে ভর করেই ভোটের হাওয়া ঘুরতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

তবে এই মধ্যমগ্রাম শহরে চিরাচরিত সমস্যা ছিলো যানজট। ভ্যান রিকশা এবং টোটোচালকদের দাপট। যা সাম্প্রতিক কালে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা। মধ্যমগ্রাম দেবীগড়ের বাসিন্দা দেবায়ন দাস জানালেন, যানজটের সমস্যা কাটিয়ে অনেকটাই গতি পেয়েছে শহর মধ্যমগ্রাম। তবে শহরের বাইরে বেশ কিছু জায়গায় জল নিকাশি, আবর্জনা পরিস্কার সহ কিছু অব্যবস্থা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

যদিও শাসক শিবিরের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ওই সমস্ত অভিযোগ বিরোধীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে এই বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বিরোধী শক্তি হিসাবে বিজেপি শাসকের অনেকটাই অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলে অনুমান রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। কারণ, বিজেপি তাদের সংগঠনকে যেমন ওয়ার্ড স্তরে বাড়ানোর লক্ষমাত্রা নিয়েছে, তেমনি উঠতি প্রজন্মের একটি অংশকে তারা তাদের দলে টানতে আরম্ভ করেছে।

সব মিলিয়ে প্রচারের আলোতে এসে বিজেপি চাইছে মধ্যমগ্রামে পরিবর্তনের একটা হাওয়া তুলে দিতে। তবে একথাও ঠিক যে, বিরোধীদের এই কেন্দ্রে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভাব অভিযোগ থাকলেও সেই অর্থে স্থানীয় ভিত্তিক অভিযোগের পাল্লা অনেকটাই নিন্মমুখী।