Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

নির্বাচন আসতেই আবার পাহাড়ে বিমল গুরুং ফ্যাক্টর

।। ময়ুখ বসু ।।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে পাল্টাতে চলেছে সমীকরণ। দীর্ঘ তিন বছর ধরে আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকার পর এবার ভোটের আগে প্রকাশ্যে এসেছেন বিমল গুরুং। তবে এবার পাহাড়ে নয় সমতল শিলিগুড়িতে সভা করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে চলেছেন তিনি। গুরুং পন্থীরা দাবি করেছেন, বিমল শিলিগুড়িতে সভার পরেই দার্জিলিংয়ে ফিরবেন তিনি। এদিকে তিন বছর ধরে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বিমল গুরুং।

তাকে পাকড়াও করতে পুলিশ বহুবার চেষ্টা করেছে। কিন্ত তার নাগাল পায়নি। বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু করে রেখেছে তৃণমূল সরকার। এর আগে গত ২১ অক্টোবর আচমকা কলকাতায় এসে তিনি ঘোষণা করে দিয়ে যান, তৃণমূল সরকারের সঙ্গে রয়েছেন তিনি। পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে একটা সময় বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েও পরে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এমনই বর্ণময় রাজনৈতিক সমীকরণে দাঁড়িয়ে এবার তিনি প্রকাশ্যে এসে শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে সভা করতে চলেছেন বলে খবর। এদিকে গুরুং পন্থী নেতা বিশাল ছেত্রীর দাবি, গুরুংয়ের ওই সভাতে দার্জিলিং, ডুয়ার্স এবং তরাই থেকে মানুষের ঢল নামবে।

এদিকে ২০১৭ সালে এই বিমল গুরুংয়ের ডাকে পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে। ওই সময় কার্যত অচল হয়ে পড়ে পাহাড়। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিমল গুরুংয়ের বিপরীতে পাশে পান বিনয় তামাংদের। গুরুংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় চার্জ গঠন করা হয়। তারপর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন বিমল গুরুং। এরপর কলকাতায় এসে তৃণমূল সরকারের পাশে থাকা কি আসলে মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে প্রকাশ্যে আসার চাল ছিলো গুরুংয়ের? প্রশ্ন রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে বিমল গুরুং প্রকাশ্যে সভা করলে কি করবে তৃণমূল? গত লোকসভা ভোটে তামাং বা থাপাদের হাত ধরে পাহাড়ে তেমন সাফল্য আদায় করতে পারেনি তৃণমূল। যদিও তাদের দূরে ঠেলে দেয়নি তৃণমূল। তারপর গুরুং যে কারনেই হোক তৃণমূলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন।

তবে সে বার্তায় তৃণমূল সাড়া না দিলেও এবারে যদি গুরুং সমতলে এসে প্রকাশ্য সভা করে ফের গোর্খ্যাল্যান্ডের জিগির তুলে দেয় তাহলে…। প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। এদিকে গুরুং প্রকাশ্যে আসছেন এই নিয়েই ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে পাহাড় জুড়ে। সভাতে কি বার্তা দেবেন গুরুং? আবার কি গোর্খ্যাল্যান্ডের দাবি? আবার কি বিজেপির সঙ্গে হাত ধরার বার্তা? নাকি তৃণমূলের সঙ্গে থাকার বার্তা? তবে রাজনৈতিক মহলের আশংকা, পাহাড়ে বিমল গুরুং আসা মানেই ফের অশান্তির আশংকা। ভোটের মুখে পাহাড়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়ে আসলে কি পাহাড়ের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চাইছেন বিমল গুরুং? সেক্ষেত্রে পাহাড় দখলের ক্ষেত্রে তৃণমূল কিংবা বিজেপির হয়ে বিমল কি হয়ে উঠবেন তুরুপের তাস?