পূর্ণ সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়োগ করুন মমতা, দাবি বিরোধীদের

1 min read

।। রাজীব ঘোষ ।।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত একজন পূর্ণ সময়ের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা। এই কথা বলেছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। প্রসঙ্গত, কোভিড সংকটের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিরোধী দল এবং কংগ্রেস রাজ্য বিধানসভার বাইরে ধর্নায় বসার কর্মসূচি নিয়েছিল। কিন্তু বিধানসভার এক কর্মীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ায় সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

কেননা আগামী দশ দিন বিধানসভা বন্ধ থাকছে। তিনি বলেছেন রাজ্যের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তারা যত না করোনাভাইরাস কে ভয় পাচ্ছেন তার থেকে বেশি ভয় পাচ্ছেন রাজ্যের অব‍্যবস্থা দেখে। তারা ভাবছেন যদি তাদের ভবিষ্যতে করোনা টেস্টে সংক্রমণ ধরা পড়ে তবে তারা কি আদৌ কোনো হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবেন। তারা নিশ্চিত নয়। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী যা খুশি তা-ই করছেন। এখন সময় এসেছে পশ্চিমবঙ্গে একজন পূর্ণ সময়ের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা।

মানুষ জানেন না করোনা টেস্ট করতে তারা কোথায় যাবেন। সরকারি অব্যবস্থা এবং অপদার্থ তার কারণে পশ্চিমবঙ্গে করোনার সংক্রমণ দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে। এমনটাই মনে করে রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। সাধারণ মানুষ থেকে রাজ্যের দক্ষ প্রশাসক কেউই করোনার ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে জানান আগামী দুই মাসে রাজ্য করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে।

শুধু তাই নয় এই রাজ্যে করোনা থেকে পুনরুদ্ধারের হার কমছে। ১ জুলাই যেখানে করোনা থেকে পুনরুদ্ধারের হার ছিল ৬৫.৩৫ শতাংশ সেখানে বর্তমানে কমে ৬০.০৯ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। ১ জুলাই যেখানে ছিল ৩.৮৫ শতাংশ সেখানে বর্তমানে বেড়েছে ৫.৩০ শতাংশ হয়েছে। রাজ্যজুড়ে করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তার মধ্যে আরও উদ্বেগের কারণ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির জন্য একাধিক হাসপাতালের বেড এর জন্য ঘুরতে হচ্ছে। ভর্তির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে অনেকের মৃত্যু হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী কোভিড যুদ্ধে শামিল হয়ে প্রাণ হারানো রাজ্য সরকারি কর্মীদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। সেই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছেন যাদের মৃত্যুর পর মৃতদেহের খোঁজ মেলেনি তাদের কিভাবে ক্ষতিপূরণ দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন এই সময়ে নোংরা রাজনীতি করবেন না। এটা সময় নয়। উল্লেখ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার ঘোষণা করেছেন কোনো হাসপাতাল থেকে সংকটজনক রোগীকে ফেরানো যাবে না।

তারপরেও সরকারি-বেসরকারি একাধিক হাসপাতালে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন কারণে তারা রোগী ফেরাচ্ছেন।চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন না। একাধিক হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে অপেক্ষায় অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেও এখনো পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যের মানুষ চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। এখানে সরকারের অপদার্থতা এবং অব্যবস্থার বিষয়টি উঠে আসছে বলেই মনে করা হচ্ছে।