আর নয় মমতা মানুষের মনের মধ্যে বাজছে:জয়প্রকাশ

।। রাজীব ঘোষ ।।

রেশনে চাল না পাওয়ার জন্য ঘূর্ণিঝড়ের পরে ত্রাণ না পাওয়ার জন্য আর নয় মমতা মানুষের মনের মধ্যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাজছে। রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে বললেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি আরো বলেন একজন স্ত্রী তার স্বামীর শরীর নিজে তুলতে পারছেন না সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা সারা রাজ্য দেখলো। এ কোন বাংলায় রয়েছি। বিহার থেকে নির্বাচন কৌশলী প্রশান্ত কিশোর এসে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে কিভাবে রাজনীতি করতে হবে শেখাচ্ছেন।

এটা একটা নতুন ঘটনা। সকলের বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই করে এসেছেন অগ্নিকন্যা রাজ্যে মমতার কোনো বিকল্প নেই। উল্টো দিকে দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের কয়েকশো কোটি টাকা দিয়ে ভাড়া করা হচ্ছে। বাংলায় কিভাবে রাজনীতি করতে হবে তা শেখানোর জন্য। প্রসঙ্গত, প্রশান্ত কিশোর রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারাভিযান শুরু করে দিয়েছেন। একাধিক নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যজুড় জনসংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে দিদিকে বলো বাংলার গর্ব মমতা কর্মসূচি রূপায়ণ করেছেন।

সেই প্রসঙ্গেই জয়প্রকাশ বলেন শস্য শ্যামল সবুজ বাংলাকে আমরা জানি। আর প্রশান্ত কিশোর হোডিং এ যে বাংলার মানচিত্র দেখিয়েছেন তাতে ধূসর রূপ দিয়েছেন। মরুভূমির রং দিয়েছেন তিনি এই বাংলাকে। এই হচ্ছে বাংলার গর্ব মমতা। এরপরে তৃণমূলের কর্মসূচি দিদিকে বলো প্রসঙ্গে বলেন দিদিকে বলোতে ফোন করলে পর পর ২৫ জন ধরবে এবং তারা দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর বলবে আপনার কথা নোট করা হলো পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একটা যন্ত্রের সঙ্গে রাজ্যের মানুষ কথা বলছে। বলা হচ্ছে দিদিকে বলো।

এরপর দেখা গেল নতুন কর্মসূচি নিয়ে এলেন সোজা বাংলায় বলছি। কে বলছেন। ডেরেক ও ব্রায়েন। যিনি নিজেই বাংলা বলতে পারেন না। তিনি অদ্ভুত একটা বাংলা বলেন। বলছেন সোজা বাংলায় বলছি। এটা কি বাংলার অপমান নয়। তৃণমূল মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন সোজা বাংলায় বলছি কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার কম বলে জানিয়েছেন। সেখানে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার রাজ্যে উন্নতিতে কি কি করেছে তা তুলে ধরেছেন। সেই প্রসঙ্গে জয়প্রকাশ বলেন বেকারত্বের যে সংখ্যা দেখাচ্ছেন বাংলা থেকে প্রচুর পরিযায়ী শ্রমিক অন্য রাজ্যে গিয়েছেন। প্রশ্ন এরা অন্য রাজ্যে কি জন্য গিয়েছেন।

রুটি রুজি যোগাড় করার জন্য তারা বাইরে গিয়েছিলেন। বাংলায় থাকলে কোনো চাকরি নেই। তারপরেও বলা হচ্ছে বেকারত্ব কমে গিয়েছে। কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছেন না। রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারছেন না। আর বলছেন সোজা বাংলায় বলছি। তৃণমূল নেতা নেত্রীদের উদ্দেশ্যে বলছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার রাজনীতি বোঝেন না এটা আপনারা স্বীকার করছেন। তাই প্রশান্ত কিশোর কে নিয়ে এসে বাংলার রাজনীতি বোঝাতে হচ্ছে। রাজ্যবাসীর মনে রয়েছে বিজেপি আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুঃস্বপ্নের রয়েছে বিজেপি।

এই দাবি করেন জয়প্রকাশ মজুমদার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে তুচ্ছ দল বলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে জয়প্রকাশ বলেন বিজেপিকে ভয় পাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য দখল করতে পারে বিজেপি। তাই তিনি এই সব কথা বলছেন। এর পরেই তিনি বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান এর প্রসঙ্গ নিয়ে এসে বলেন উনি একটি ভিডিও দেখিয়েছেন। তিনি বলছেন মাননীয়া আপনি বলছেন অন্য দল থেকে তৃণমূলে আসবে।

আপনার দল থেকে ১০০ জন বিধায়ক মন্ত্রীসহ অন্যান্যরা জানুয়ারি মাসের মধ্যে দল ত্যাগ করবে। তাই মুকুল রায়কে নিয়ে জল্পনার বিষয় নেই। তবে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে নেই দলীয় সংগঠন। বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একটা অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাই হয়তো দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য এইসব করা হচ্ছে। এদিন এক সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে বলেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার।