Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজে ক্ষুব্ধ সব রাজনৈতিক দল, খুশি ভোটাররা

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আট দফা ভোটের মধ্যে ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে তিন দফা ভোট।
প্রথম দু দফার পাশাপাশি তৃতীয় দফাতেও সামনে উঠে এসেছে বেশ কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার ছবি। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে শাসক দল তথা তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের নেতা-নেত্রীরা অভিযোগ করছেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। একই অভিযোগ ইতিমধ্যেই শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও। কিন্তু এবার শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, আধাসেনার ভূমিকা নিয়ে সরব হল বিজেপি-ও।

দ্বিতীয় দফায় হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামের মত তৃতীয় দফায় ডায়মন্ড হারবারের দিকেও ছিল নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজর। মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় সেখানে মোটের উপরে শান্তিতে ভোট মিটলেও কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল বিস্তর। ডায়মন্ড হারবার থেকেই অন্তত ৩৯টি অভিযোগ আসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।

কোথাও দলের ব্লক সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ, তো কোথাও মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে ভোটার-নিগ্রহ। কোথাও আবার ভোটদান শেষ হওয়ার আগেই ভোটারদের বার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। ডায়মন্ড হারবার ছাড়াও মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিম, ফলতা, রায়দিঘি থেকে একই প্রকারের অভিযোগ এসেছে দফায় দফায়। পাশাপাশি প্রথম দু দফার মত তৃতীয় দফাতেও আধাসেনার বিরুদ্ধে বিজেপির অনুকূলে ভোট প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

মঙ্গলবার তৃতীয় দফার ভোটে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী দীপক হালদার জানান, ‘নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা কার্যত হতাশাজনক।’ ওই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পান্নালাল হালদারেরও অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যাপক অত্যাচার করেছে।’ অন্যদিকে, সিপিএম প্রার্থী প্রতীক-উর-রহমান বলেন, ‘খুব ভালও বলব না, আবার খারাপও বলব না।’ একইসঙ্গে ফলতা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিধান পাড়ুইয়ের মন্তব্য, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা একেবারেই ঠিক নেই। বহু বুথ দখল হয়েছে, ছাপ্পা ভোট পড়েছে। হেলদোল দেখা যায়নি বাহিনীর আচরণে। বেশ কয়েকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাব।’ বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, উঠে এসেছে বিস্তীর্ণ এলাকায় অন্যরকমের ছবিও। যে ছবি বুঝিয়ে দিয়েছে ভোটারদের শরীরী ভাষা কিন্তু অন্য কথা বলছে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ ভোটারদের বড় অংশই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকায় খুশি। ভোটারদের বক্তব্য, এই সব এলাকায় ভোটের আবহে যে-আতঙ্কের ইতিহাস ছড়িয়ে রয়েছে, যে-কারণে ভোটারদের ভোটের দিন তালাবন্দি থাকতে হত। বাহিনীর উপস্থিতি কিন্তু তাদের সেই আতঙ্ক কাটিয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দৃশ্যমানতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এ বার তৃতীয় দফায় বিভিন্ন এলাকায় টহল দিতে দেখা গিয়েছে আধাসেনা এবং রাজ্য পুলিশকে। ড্রোন উড়িয়েও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের কর্তারা।

তাই বলা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় বাহিনির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও বড় কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। কোনও রকম প্রশ্ন ওঠেনি আইনশৃঙ্খলা নিয়েও, বলে মত ভোটের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের।