শাহের পর মমতা, তৎপরতা তুঙ্গে তৃণমূলের

।। সুদীপা সরকার ।।

উৎসবের দৌড় সব শেষ হতেই জেলা সফর শুরু মুখ্যমন্ত্রীর। আগামী ২৩ শে নভেম্বর সোমবার যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়া। সেখানে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৫ শে নভেম্বর বুধবার বাঁকুড়া জনসভা করার কথা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। কদিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাঁকুড়ায় এসেছিলেন। এবার ২১ এর বিধানসভা ভোট কে পাখির চোখ করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরের হাল আরও মজবুত করতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে।

হারানো ভোটব্যাঙ্ক ফিরে পেতে তৃণমূল নেত্রীর এই জেলা সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। করোনা আবহে বাঁকুড়া জেলায় এটাই হতে চলেছে জেলার সর্ব বৃহৎ রাজনৈতিক সভা। আগামী বুধবার সুনুকপাহারি হাটতলা জনসভা করার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে জনসমাগমের প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা তৃণমূল।

জেলা নেতৃত্বের দাবি সুনুকপাহারি হাট তলায় কয়েকশো বিঘা জমি রয়েছে। ফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যাবে। এছাড়া করোনা পরীক্ষা এবং স্যানিটাইজার এর ব্যবস্থা থাকছে। বাঁকুড়া সফরে এসে অমিত শাহ তৃণমূলকে উৎখাত করার ডাক দিয়ে গিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছে এরই পাল্টা জনসভা থেকে বিজেপি কে আক্রমণ শানাতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরো পড়ুন : ফের চোখরাঙানি তৃণমূলকে, হাজরা’র পর শ্যামবাজার, ‘দাদা’ময় রাজ্য!

আর এই জনসভায় যে ভিড় উপচে পড়বে তার আশঙ্কা করছেন অনেকে। সামাজিক দূরত্ব কতটা বজায় থাকবে সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলে খারাপ ফল হয়েছিল তৃণমূলের। মনে করা হচ্ছে এবারের বিধানসভার ভোটে আর কোন ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্যের শাসক দল। তাই অমিত শাহের সফরের পর এই বাঁকুড়ায় নিজেদের মাটিকে শক্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী এই সফরে যাচ্ছেন।

বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি ও আদিবাসীদের সমর্থন যাতে হাতছাড়া না হয় তার জন্য ময়দানে নেমেছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে সেই রণনীতি অনুসারে আদিবাসী পরিবারের মধ্যাহ্নভোজন সেরেছিলেন অমিত শাহ। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিকে টেক্কা দিতে নানান কর্মসূচি ও সভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সফরে দলকে কী নির্দেশ দেয় তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

Categories