Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

লালের পর সবুজে একসময় মেতেছে বর্ধমান, আজ শুধুই গেরুয়া ঝড় !

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

একটা সময় রাজ্য রাজনীতিতে বর্ধমান জেলাকে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের গড় হিসেবে দেখা হতো। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল লাল সন্ত্রাস এর জেরে মানুষ অসহায় সেখানে। রসিকতা করে অনেকেই বলতেন, বর্ধমানের সর্বত্র টিউবওয়েল টিপলে লাল জল বের হয়। এই বর্ধমানেই ঘটেছে সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। বিনয় কোঙার, নিরুপম সেন, অমল হালদার প্রমুখ নেতৃত্বের দাপটে বিরোধীরা সেখানে কার্যত কথা বলতে পারত না। এতটাই দাপট ছিল সিপিএমের। ২০১১ সালের পর থেকে পরিস্থিতি বদলায়। লাল থেকে সবুজের ছোঁয়ায় রেঙে ওঠে বর্ধমান।

তখন থেকেই সর্বত্র সবুজ ঝড় শুরু হয়। ক্রমশ ফিকে হতে হতে একটা সময় পূর্ব এবং পশ্চিম বর্ধমানে প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয় সিপিএম তথা বামফ্রন্ট। এ যেন পিসি সরকারের ম্যাজিক। সুকুমার রায়ের কথায় ছিল রুমাল, হয়ে গেল বিড়াল। কালের নিয়মে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেল সেই নতুন ধারাতেই। তবে হিন্দি সিনেমার সেই বিখ্যাত ডায়ালগ আজও সমান প্রাসঙ্গিক। পিকচার আভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত। সেটাই ঘটেছে বাংলার বহু জেলার পাশাপাশি বর্ধমানেও। পূর্ব এবং পশ্চিম দুই বর্ধমানেই চলছে গেরুয়া ঝড়। অর্থাৎ ফের রংবদল হয়েছে সেখানে। এখন সেখানে গেরুয়ার রংবাজি। সেটা প্রমাণ হল শনিবার বর্ধমানে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার (JP Nadda) রোড শো’কে ঘিরে।

আরো পড়ুন : দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান !১৬ ই জানুয়ারি থেকেই ভারতে শুরু করোনা টিকাকরণ

বর্ধমান ক্লক টাওয়ার থেকে কার্জন গেট পর্যন্ত রোড শো এর আয়োজন করেছিল জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া রঙের সুসজ্জিত ট্যাবলোয় ছিলেন বিজেপি (bjp) সভাপতি। সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সামনে ছিল সুশৃঙ্খল মিছিল। রাস্তার দু’পাশে কাতারে কাতারে মানুষ দাঁড়িয়ে। বাড়ির ছাদ মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ। ট্যাবলো থেকে ক্রমাগত ফুল ছুড়ে গিয়েছেন তিনি মানুষদের কাছে। কখনো তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কৃষকের প্রতীকী লাঙল। ভিক্টরি চিহ্ন দেখাচ্ছেন তিনি। সেভাবেই এগিয়ে গিয়েছে রোড শো। চারদিক মুড়ে গিয়েছে গেরুয়া পতাকায়। সবার মুখে স্লোগান জয় শ্রীরাম, ভারত মাতা কি জয়। এই ঘটনায় পরিষ্কার হয়ে গেল ফের রংবদল হয়েছে বর্ধমানে।

লাল থেকে সবুজ, সবুজ থেকে গেরুয়া। অর্থাৎ রংবদল অব্যাহত। অথচ পূর্ব বর্ধমান জেলায় গত লোকসভা ভোটে ফলের নিরিখে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে বিজেপির থেকে বেশ কয়েকটি বিধানসভায়। যদিও সাম্প্রতিককালে কালনা এবং মন্তেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে এসেছেন। স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডল একইভাবে দল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন। যোগাযোগ করছেন তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী দল ছাড়ার ব্যাপারে। বিজেপি তেমন দাবিই করছে। মানুষ বর্ধমানে বদল চাইছেন । সেই বার্তা দিয়ে গেল এদিনের ভিড়ে ঠাসা সুশৃঙ্খল মিছিল। এমন কথা বলছেন বিজেপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। এর আগে বোলপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রোড শোতে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল। এদিন সেই ব্যাপারে পিছিয়ে থাকলেন না নাড্ডা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুই বর্ধমান জেলাকেই অনেকটা অক্সিজেন দিয়ে গেলেন তিনি। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।