কৃষি বিল নিয়ে কী বললেন অধীর!

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।


বিজেপি সরকারের কৃষি বিলের বিরুদ্ধে সংসদের ভিতরে এবং বাইরে বিরোধিতা করেছি। ভারতবর্ষ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। হঠাৎ কোনো রাতারাতি ম্যাজিক এর মধ্য দিয়ে নয়। কৃষকদের পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে, তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলিয়ে, ভারত আজ খাদ্যে আত্মনির্ভর হয়েছে। এই কথা বললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদন করা যেত না।

ভারতবর্ষের জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য উৎপাদন করা যেত না। ৫৩ মিলিয়ন টন খাদ্য উৎপাদন হতো। বিদেশের কাছে গিয়ে খাদ্য চাইতে হত। আমেরিকা থেকে খাবার আসতো। বন্দর থেকে মানুষের ঘরে পৌঁছে যেত শিপ টু মাউথ এই পদ্ধতিতে। দেশে ইন্দিরা গান্ধী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীরা গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলেন যখন ভারতবর্ষে খাদ্য সংকট দেখা দিলো। ৬৬ সালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনাহার দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। মেক্সিকো থেকে আমেরিকান বিজ্ঞানী হাইব্রিড বীজ এর সাহায্যে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করতে পারল।

সেই খবর ভারতে পৌঁছতেই সেই বিজ্ঞানীর যে হাইব্রিড বা উচ্চ ফলনশীল বীজ নিয়ে এসে পাঞ্জাবে রোপন করা হলো। এই সবুজ বিপ্লবের মূল লক্ষ্য হলো কৃষককে ফসল উৎপাদন করতে উৎসাহিত করা। কৃষক যাতে তার উৎপাদিত ফসলের নিশ্চিত মূল্য পায় সেটা ঠিক করা। তবেই কৃষক সেই ফসল উৎপাদন করতে চেষ্টা করবে। ফসল উৎপাদন হলে ভারতবর্ষের সমস্ত মানুষ খাদ্য নিতে পারবে। সেই সবুজ বিপ্লবের ফলে ৫৩ মিলিয়ন টন থেকে আজ আমরা ২৯০ মিলিয়ন টন খাদ্য উৎপাদনের পথে এগিয়েছি।

এখন শুধু আমরাই খাদ্য উৎপাদন করে নিজেদের দেশের পেটভর্তি করতে পারি তাই নয় বিদেশেও খাদ্য পাঠাতে পারছি। এরপর ইন্দিরা গান্ধী শুরু করলেন কিভাবে খাদ্য বন্টন করা যায়। শুরু হল রেশন ব্যবস্থা। পাঞ্জাবে ১০০ শতাংশ জমিতে সেচের ব্যবস্থা আছে। বাংলার কৃষকদের পাম্প দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। সারা দেশের মানুষের জন্য মোট খাদ্যদ্রব্যের ৫০ শতাংশের বেশি পাঞ্জাব, হরিয়ানায় উৎপাদিত হয়। সেই খাদ্যপণ্য দেশের সমস্ত মানুষের কাছে রেশনের মাধ্যমে পৌঁছে যায়। ইন্দিরা গান্ধীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে কৃষক তার উৎপাদিত ফসল মান্ডিতে গিয়ে বিক্রি করতে পারে। সেখান থেকে নিশ্চিত মূল্য পেয়ে যায়।

কৃষক ফসল নিয়ন্ত্রিত বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেয়। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান গম কিনে নেয়। রেশন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সারাদেশে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে মানুষের খাদ্য সুরক্ষা থাকে। এখন সরকার কি বলছে। কৃষকরা বেসরকারি সংস্থার কাছে ফসল বিক্রি করে দাও। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নেই কেন? এই সরকার শান্তা কুমার কমিটি তৈরি করেছিল। সেই কমিটি সরকারকে জানিয়েছে যদি কৃষকদের কাছ থেকে ধান গম সরকার না ক্রয় করে তাহলে ১ লক্ষ কোটি টাকা লাভ হবে।

এই লাভের জন্য সরকার কৃষকদের বঞ্চিত করছে। শুধু কৃষক বঞ্চিত হবে না রেশন ব্যবস্থা বঞ্চিত হয়ে যাবে। রেশন ব্যবস্থা বঞ্চিত হলে মানুষের খাদ্য সুরক্ষা বিপদগ্রস্ত হবে। এরপর অধীর চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ফসল কিনুন। রাজ্যের কৃষকরা গরিব। এখানে মাঠে কাজ না থাকলে অন্যান্য রাজ্যে তারা রোজগারের আশায় চলে যায়। তাদের দিকে লক্ষ্য রাখুন। সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। কৃষক, শ্রমিক, বেকার যুবকদের জন্য কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি সরকার।এদিন কৃষি বিল নিয়ে এই কথা বললেন কংগ্রেস নেতা।