Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বিজেপিকে ফের বহিরাগত বলে অভিষেকের আক্রমণ

1 min read


।। সাগর দাশগুপ্ত ।।


ফের বহিরাগত ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার গঙ্গারামপুরের সভা থেকে অভিষেক বলেন, ‘‘এই সব বহিরাগতরা ভোটের পর রাজ্য থেকে পালিয়ে যাবে।’’ শুভেন্দু অধিকারীর কথায় ‘তোলাবাজ ভাইপো’ বলার জবাবে শুভেন্দুকে পাল্টা তোলাবাজ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দিনই ‘তোলাবাজ ভাইপো হঠাও’ স্লোগান তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তার জবাবে আগেও শুভেন্দুকে পাল্টা তোলাবাজ বলে আক্রমণ করেছেন অভিষেক। গঙ্গারামপুরের সভাতেও যেদিন অভিষেক বলেন, ‘‘আমাকে তোলাবাজ ভাইপো বলা হচ্ছে। কিন্তু তোলাবাজ তো আপনি। টিভিতে টাকার বান্ডিল নিতে আপনাকেই দেখেছিল মানুষ।’’

এর পর জনতার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘টিভিতে টাকা নিতে দেখেছিলেন কাকে? কে টাকা নিয়েছিল?’’ একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, ‘‘তোলাবাজ প্রমাণ করতে পারলে আমি ফাঁসিতে ঝুলতেও রাজি আছি।’’ গঙ্গারামপুরের সভায় বিজেপিকে আক্রমণের পাশাপাশি অভিষেকের মূল নিশানায় এদিন শুভেন্দুই ছিলেন । শুভেন্দু একাধিক সভায় বলেছেন, তিনি চান কলকাতা ও দিল্লিতে একই সরকার থাকুক। অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘কেন দিল্লি আর কলকাতায় একই সরকার থাকবে? চুরি করায় সুবিধা হবে বলে?’’ তাঁর দাবি, ‘‘দেখবেন মধ্যপ্রদেশ, গুজরাতে কোনও চোর ধরা পড়ে না। দুর্নীতি ধরা পড়ে না। কারণ ওই সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে।

আরো পড়ুন : এবারের জেপি নাড্ডার বঙ্গ সফরে নিরাপত্তার বিষয়ে মুখ খুললেন কৈলাস

ফলে সিবিআই-ও নেই, ইডি-ও নেই। ২৯২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের এবার অন্যতম প্রধান ইস্যু ‘বহিরাগত’। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে লাগাতার বহিরাগত বলে আক্রমণ করছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। অন্য দিকে বৃহস্পতিবারই নেতাইয়ে গিয়ে তৃণমূল নেতাদেরই বহিরাগত বলে আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এই নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘আমাকে তোলাবাজ ভাইপো বলে আক্রমণ করছে। আমার নাম নিতে পারে না। কিন্তু আমি নাম করে বলছি দিল্লির নেতারা বহিরাগত। কৈলাস বিজয়বর্গীয় বহিরাগত। দিলীপ ঘোষ গুন্ডা। আকাশ বিজয়বর্গীয় গুন্ডা। হিম্মত থাকলে আমার নামে মামলা করে দেখান। আমি কোর্টে লড়ে নেব।’’

তবে এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এসব কথার উত্তর দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক কাউকে প্রাসঙ্গিক করতে চাই না।” প্রসঙ্গত শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অভিষেক তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘‘আগে নিজের বাড়িতে পদ্ম ফুটিয়ে দেখান। গঙ্গারামপুরের সভায় ফের সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ‘‘আমি বলার পরেই এক ভাইকে বিজেপিতে জয়েন করিয়েছে। বাকিদেরও কোয়রান্টিনে পাঠিয়ে দিয়েছে। ভালই হয়েছে। আমাদের চিহ্নিত করতে সুবিধা হয়েছে।’’ তবে এবারের রাজ্য রাজনীতিতে ভোটে মানুষের দাবির চাইতে পরস্পর বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরা ব্যাক্তিগত আক্রমণকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এটা বাংলার মেধাভিত্তিক রাজনীতির মান নামিয়ে দিচ্ছে।