Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

স্বামীজির মঞ্চে রাজনীতি নয় বলে পুরোটাই রাজনৈতিক ভাষণ দিলেন অভিষেক

1 min read


।। শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত ।।


রাজনীতির কথা আজ নয় বলেও স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৮ তম জন্মদিনে হাজরায় সভামঞ্চ থেকে পুরোটাই রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার গোলপার্ক থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিলে হাঁটলেন তৃণমূল (tmc) যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে হাজরায় সভামঞ্চ থেকে তিনি রাজনীতির বক্তব্য রাখবেন না বলেও নিজেকে সংযত করতে না পেরে রাজনৈতিক বক্তব্যই রাখলেন। প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “আমি অনেক মিছিল করেছি। তবে একদিনের নোটিশে এমন স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল আগে দেখিনি।

ছাত্র-যুবরা যেমন যোগ দিয়েছেন তেমন বাড়ির থেকে, রাস্তার দুপাশ থেকে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আজ অন্য কেউও মিছিল করেছে গাড়ি করে। আমি তাদের সঙ্গে তুলনায় যাচ্ছি না। তাও বলছি আমাদের মিছি তাদের(পড়ুন বিজেপি) ১০/০ গোলে হারিয়েছে।” এখানেই শেষ নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “আমি আজ ওদের নাম না নিয়ে বলছি, ওরা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ চায়। স্বামীজির ছবি সামনে রেখে, প্রচার করে ক্ষমতায় এসেছে। বেলুর মঠের জন্য কী করেছে? ওরা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ চায়। বিহার, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ দেখুন, সেখানে কী হচ্ছে।” এরপর অভিষেক বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্বামীজির অদর্শকে সামনে রেখে চলেন।

স্বামীজি বলতেন মানুষের ইচ্ছে শক্তিই সব। সেই মানুষের ইচ্ছে শক্তির জোড়েই স্বামীজির আদর্শকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৪ বছরের জগদ্দল বাম সরকারকে সরিয়েছেন। স্বামীজি বলতেন নারীর ক্ষমতায়নের কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পঞ্চায়েতে ৫০% নারীর জন্য জায়গা ছেড়েছেন। দেশের অন্য রাজ্য করেছে? আজ যে স্বাস্থ্যসাথী করা হচ্ছে তাও বাড়ির প্রবীন মহিলার নামেই হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারী শক্তিকে বিবেকানন্দের পথ ও মত মেনে এগিয়ে দিচ্ছেন।” এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবেকানন্দ উচ্চারণ ভুলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্প যখন বিবেকানন্দকে বিবেকামুন্ডা বলছেন তখন তাঁর পাশে বসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) হাততালি দিয়েছেন।

আরো পড়ুন : শুভেন্দু অধিকারীকে কী ওপেন চ্যালেঞ্জ দিলেন মদন মিত্র ?

ট্রাম্পের ভুল সংশোধন করে দেননি।” বিবেকানন্দের অহিংসার বানী ও শিকাগো ভাষণ উল্লেখ করে অভিষেক এদিন বলেন, “শিকাগোতে স্বামীজি বলেছিলেন, “আমি এমন একটা দেশে বাস করি যারা ধর্মে ধর্মে ভেদাভেদ করেনা। আমি নাগরিকত্ব বিল নিয়ে আলোচনার সময় বলতে উঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বলেছিলাম, আমি কী বিবেকানন্দকে মানবো না আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে মানবো? তিনিতো হাতে গোনা কয়েকটা জাতিকেই শুধু নাগরিকত্ব দেবেন বলছেন। আমাদের সর্দার প্যাটেলের ৩০০ কোটি টাকার মূর্তি করার জন্য কোনও ক্ষোভ নেই। কিন্তু যে বিবেকানন্দকে নিয়ে প্রচার করেন তাঁর মূর্তি হলনা কেন?”

এর পর নাম না করে দিলীপ ঘোষকেও একহাত নেন অভিষেক। বলেন, “একটি দলের রাজ্য সভাপতি, আমি আজ তাঁর নাম মুখে আনব না। তিনি বলছেন বাংলার জন্য বাঙালির কোনও অবদান নেই, এদের মানবেন? তিনি বলেন ঈশ্বরচন্দ্র সহজপাঠ লিখেছেন, মানবেন? স্বামীজি বলেছেন জীবনের সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার কথা৷ এরা কে কী খাবেন, কে কী পড়বেন সব ঠিক করে দিচ্ছেন, এসব মানবেন?” দর্শকাসন থেকে ধ্বনি ওঠে না। এর পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুধু লড়াইয়ের ময়দানে থাকুন। আমাদের নেত্রী নেতাজি, স্বামীজির মঞ্চ থেকে, তাঁদের ছবি সামনে রেখে রাজনীতি করতে শেখাননি।

তাই আজ রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলাম না। আপনারা সব ঐক্যবদ্ধ থাকুন। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার জিতবেন। বাংলা স্বামীজির মত ও পথেই এগোবে।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুরো সভামঞ্চটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে, প্রতিটি ছত্রে বিজেপিকে আক্রমণ করে, বিজেপির মিছিলের সঙ্গে নিজেদের মিছিলের তুলনা টেনে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলেন। কিন্তু মুখে বললেন, “এই মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক কথা বলব না। যদিও কেউ কেউ আমায় বলতে বলছিলেন। তবে আমরা নেতাজি, স্বামীজির মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখি না।” এখন প্রশ্ন একটাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য অরাজনৈতিক হলে রাজনৈতিক বক্তব্য আসলে কোনটা?