Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

একদিকে আব্বাস অন্য দিকে রুহুল আমিল তৃণমূলের কাছে ভোট ব্যাংক অক্ষত রাখাই চ্যালেঞ্জ

1 min read
tmc

।। ময়ুখ বসু ।।


একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল (tmc) কি তাদের মুসলিম ভোট ব্যাংক অক্ষত রাখতে পারবে? এই প্রশ্ন এখন সবথেকে বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। একুশের বিধানসভা ভোটের আগে একদিকে যেমন তৃণমূল থেকে দল বদলের হিড়িক পড়েছে, তেমনি অন্যদিকে, বাংলায় সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক দল। ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি তৈরি করেছেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। পাশাপাশি প্রতাপপুর দরবার শরীফের পীরজাদা রুহুল আমিন তৈরি করেছেন ইউনাইটেড সেকুলার ফ্রন্ট। এখন এই দুই ফ্রন্ট কি বাংলার ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে থাবা বসাবে?

এই নিয়েই এখন বাড়ছে রাজনৈতিক হিসেব নিকেশের চর্চা। রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে। রাজ্যের ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটব্যাংকের অন্তত ২৫ শতাংশই আসে তৃণমূলের ভোট বাক্সে। বাংলার ইতিহাস বলছে, রাজ্যের মুসলিমরা কোনও সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে কোনওদিন থাকেনি। তারা কংগ্রেসী আমলে কংগ্রেসের সঙ্গে থেকেছে, বাম জমানায় বামেদের সঙ্গে থেকেছে, এবং তৃণমূলের জমানায় তৃণমূলের সঙ্গেই থেকেছে। এবার একুশের নির্বাচনে তৃণমূল সেই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক নিজেদের দিকে ধরে রাখতে পারবে কি না সেটাই দেখার।

আরো পড়ুন : তৃণমূলের সভায় অনুপস্থিত আরও এক সাংসদ, জল্পনা আবার

এদিকে আব্বাস সিদ্দিকি নতুন দল ঘোষনা করলেও বাম কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের রাস্তা খুলে রেখেছেন। অন্যদিকে রুহুল আমিল তার ফ্রন্টকে বিজেপি বিরোধী বলে ঘোষনা দিয়ে দিয়েছেন। এই অবস্থায় কংগ্রেসের সঙ্গে আব্বাস সিদ্দিকির প্রাথমিক বৈঠক হয়েছে বলেও খবর। ফলে আব্বাস সিদ্দিকির দল কি একুশের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে? ইতিমধ্যেই আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে মিম গাটছড়া বাঁধতে চলেছে বলেও খবর। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে আব্বাস সিদ্দিকিকে সামাল দেওয়ার ততপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে মুসলিম ভোট কেটে ধর্মীয় দলগুলি বিজেপিকে জিততে সাহায্য করেছে।

আব্বাসের দলও একই উদ্দেশ্যে বাংলার ময়দানে নেমেছে। এদিকে আব্বাসের দল নিয়ে তারা কাকা ত্বহা সিদ্দিকি বলেছেন, এই দলটার ভবিষ্যত অন্ধকার। এখন কিছুটা হইচই করলেও দুদিন পর সব চুপচাপ হয়ে যাবে। আব্বাসও নিজের ভুল বুঝতে পারবে। উল্লেখ্য, এর আগে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী পিপলস ডেমোক্র্যাটিক কনফারেন্স অফ ইন্ডিয়া নামে দল গড়েছিলেন। কিন্ত সেই দলও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং সিদ্দিকুল্লা উলটে তৃণমূলে যোগ দেন ও মন্ত্রী হন। ফলে বাংলার মাটিতে একুশের নির্বাচনে মিম, সিদ্দিকি কিংবা রুহুল আমিনের দল কতোটা প্রভাব ফেলবে এবং তৃণমূল তাদের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক কতোটা ধরে রাখতে পারবে সেখাই এখন দেখার বিষয়।