এ গল্প, অল্প স্বল্প

।। প্রথম কলকাতা ডেস্ক ।।

ছোট্ট একটা গল্প দিয়েই এই প্রতিবেদনের অবতারনা না করে পারছি না। একবার এক গুরুদেব তার শিষ্যদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তোমরা যারা আমার সঙ্গে সর্বক্ষণ ধরে রয়েছো তাদের আমি মরার আগে একটা জিনিস দিয়ে যাবো। যা দিয়ে তোমরা সারাজীবন বসে খেতে পারবে। হ্যা, গুরুদেব তার কথা রেখেছিলেন। গুরুদেব মরার পর তার প্রিয় শিষ্যরা গুরুদেবের ঘরে গিয়ে দেখেন, গুরুদেব তাদের জন্য একটি তালাবন্ধ বাক্স রেখে গিয়েছেন। তড়িঘড়ি শিষ্যরা সেই বাক্স ভেঙ্গে দেখতে পান, গুরুদের তার প্রিয় শিষ্যদের জন্য কাঁঠাল কাঠের কয়েকটি পিঁড়ি রেখে গিয়েছেন। স্বভাবতই এই পিড়িতে বসেই সারাজীবন খাওয়া যাবে। তাহলে ভুল কোথায়?

আজ এই গল্পের অবতারণা হালফিলের রাজনীতির কথা ভেবেই বলতে পারেন। আজ ট্রাডিশন হয়ে গিয়েছে, রাজনীতিবিদদের সঙ্গে লাইন লাগালে হয়তো করে কম্মে বা সারাজীবন বসে খাওয়া গোছের কিছু একটা পন্থা বের হয়ে যাবে। সেই আশা নিয়ে নেতাদের পিছনে বাইক মিছিল আকছার দেখা যায়। তবে সেই মিছিলের ভিতর থেকে বুদ্ধিমান জ্ঞানদীপ্ত কিছু মানুষ ছাড়া আসল ফায়দা তুলতে অপারগ থেকে যান অধিকাংশই। বড়োজোর টেনেটুনে কন্ট্রাক্টচ্যুয়াল একটা চাকরি বা ঠিকাদারির একটা লাইসেন্স। এর বেশি নেতাদের ঝান্ডা বয়ে খুব বেশি কিছু একটা পাওয়া যায় বলে মনে হয় না। হয়তো ব্যাতিক্রমী কিছু থাকতে পারে। তবে ওই গল্পের মতোই নেতা ফুরালে অনুগামীদের জন্য থেকে যায় কিন্ত কঠোর বাস্তব। দিনভর হাড়ভাঙ্গা খাটুনি শেষে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া। যা দেশের আর দশটা মানুষের ক্ষেত্রে ঘটছে।

আসলে কাঁঠাল কাঠের পিঁড়ি টাই আসল বাস্তব। রাজনীতি, দলাদলি শ্লোগান তুলতে জনবল প্রয়োজন। তাই নেতা মানেই জনশক্তির আধার, সেকথা সত্যি। তবে নেতার পিছু নিয়ে স্বপ্ন সাগরে আবগাহন করলেই বোধহয় বিপদ। কারন জাদুদন্ডের অধিকারী কোনও নেতাই নন। নেতাগিরির তাবেদারি করলেই বসে খাওয়া যাবে এমনটা ধারনাও আজকের বাজারে দাঁড়িয়ে ঠিক নয়। দেশের অর্থনীতি পরিকাঠামো আর কর্মসংস্থানের মাপকাঠি আপনার একমাত্র ভবিতব্য। তাই মিছিল চলুক, শ্লোগান চলুক, চলুক নেতার পিছনে অনুগামীরাও। তবে সবটাই হোক বাস্তবের চোখে চোখ রেখে। না হলেই শেষে আপনার আমার জন্য পড়ে থাকবে সেই কাঁঠাল কাঠের পিঁড়ি। যা কঠোর থেকে কঠোরতম বাস্তব।