Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

একান্নপীঠের একটি সতীপীঠ শ্রীশৈল

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে মহাদেবের তান্ডব নৃত্য করার সময়ে শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খন্ড বিখন্ড হয়ে যায় সতীর দেহ এবং সতীর দেহ খন্ডগুলি যেখানে পড়ে সেখানেই তৈরি হয় এক একটি সতীপীঠ।

সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম হল সতীপীঠ শ্রীশৈল। বাংলাদেশের সিলেটের ৩ কিমি উত্তর-পূর্বে দক্ষিণ সুর্মার কাছে জৈনপুর গ্রামে অবস্থিত সতীপীঠ শ্রীশৈল।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে জানা যায়, এখানে দেবীর কন্ঠ বা গ্রীবা পড়েছিল। দেবী এখানে মহালক্ষী নামে পূজিতা হন। আর দেবীর ভৈরব হলেন সম্বরানন্দ।

জানা যায়, বহুকাল গুপ্ত ছিল এই পীঠ। এরপর দ্বাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতকের মধ্যে ওই জায়গায় রাস্তা তৈরির কাজ করাতে শ্রমিক নিযুক্ত করেন দেবীপ্রসাদ দাস নামে এক ব্যক্তি। রাস্তা তৈরির জন্য মাটি খুঁড়লে একটি কালো শিলা দেখতে পায় শ্রমিকরা। সেই শিলাটিকে সরাতে না পেরে এক শ্রমিক শাবল দিয়ে শিলাটি দুখন্ড করে দেয়। কথিত আছে, সেই সময় পাশের জঙ্গল থেকে একটি বালিকা বেরিয়ে শ্রমিকটিকে চড় মেরে নিমেষে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।

জানা যায়, এরপরই দেবীপ্রসাদকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে মহালক্ষ্মী বলেন যে, তাকে সেই স্থানে প্রতিষ্ঠা করে নিত্য পুজোর ব্যবস্থা করতে। পাশাপাশি তিনি বদ্ধ থাকতে চাননা, উন্মুক্ত অবস্থায় তিনি পুজো গ্রহণ করতে চান বলেও স্বপ্নাদেশে জানান দেবী। দেবীর নির্দেশ মতই পাকা মন্দির তৈরি না করে শিলার চারপাশে ইঁট দিয়ে ঘিরে দেন দেবীপ্রসাদ।

সেই থেকে সেইভাবেই চলে আসছে দেবী মহালক্ষীর পুজো। জানা যায়, আজও দেবীপ্রসাদের বংশধররাই উন্মুক্ত মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। দেবীর মন্দির থেকে ৩০০ মিটার দূরে সবুজ টিলার উপর অবস্থিত দেবীর ভৈরব সম্বরানন্দের মন্দির। হিন্দু ভক্তদের কাছে সতীপীঠ শ্রীশৈল একটি পবিত্র তীর্থস্থান।

Categories