Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

২১ শে জুলাই তৃণমূলে শত্রুঘ্ন সিনহা? বড় ইনভেস্টমেন্ট মমতার

1 min read

৷৷সুচিত্রা রায় চৌধুরী৷৷

চব্বিশের স্বপ্নভঙ্গ হতে পারে তৃণমূলের৷ বাংলার বাইরে বিজেপিকে মাত দেওয়া এত সহজ নয় ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ‘বিহারীবাবু’কে এনে চমক দিতে চায় তৃণমূল বিহার-উত্তরপ্রদেশে শক্রঘ্নের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবে ঘাসফুল মমতার স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে আরএসএস৷

২০২৪ শের স্বপ্নে বিভোর তৃণমূল কংগ্রেস৷ বাংলার পর এবার তৃণমূলের টার্গেট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লির মসনদে পৌছনোর৷ যদি আর একটু সহজ করে বলি তাহলে মোদীকে হঠিয়ে মমতাকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানোর৷ জ্ঞানীরা বলেন, স্বপ্ন দেখা ভালো, তবে দিবাস্বপ্ন নয়৷ বাংলায় বিজেপিকে গোহারা হারালেও বাংলার বাইরের মাটিটা তৃণমূলের এত শক্ত নয়৷ বঙ্গের বাইরে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা রাজ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সেটাও প্রায় না থাকার মতই বলা যায়৷ তাই সেসব রাজ্যে তৃণমূলকে শক্তপোক্ত করার দায়িত্ব পরেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে৷ পেছনে অবশ্যই থাকবেন না রয়েছেন মুকুল রায়৷ কিন্তু মোদী বনাম মমতা খেলাটা কি এতটা সহজ হবে? তৃণমূলের অন্দরের নেতারাই বলছেন, একেবারেই সহজ নয়৷ কিন্তু মোদীর গদি টলানোর জন্য চেষ্টা তো করতেই হবে৷ আপনারা সঙ্গে থাকলে আজ আলোচনা করব, কীভাবে ভীনরাজ্যে জাল বিছোচ্ছে তৃণমূল? কীভাবে ছক কষা চলছে? এসবের পরও চব্বিশের স্বপ্ন কী আদৌ পূরণ হবে মমতার?



চব্বিশে জন্য বড়সড় ইনভেস্টমেন্ট করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ফ্যাক্টর হবেন, পিকে-মুকুল-অভিষেক৷ চব্বিশই মেইন টার্গেট, আর সেই মূল লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য ছোট ছোট কিছু টার্গেট ফিক্স করে নিচ্ছে জোড়াফুল৷ সেই লিস্টে প্রথম চেকবক্সে রয়েছে ভীনরাজ্যে সাম্রাজ্য বিস্তার(গ্রাফিক্স)৷ ত্রিপুরা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ(গ্রাফিক্স)৷ আপাতত এই তিন রাজ্যেই পাখির চোখ মমতার৷ আর এই তিনরাজ্যে নিজেদের সংগঠনকে বাড়াতে বা ইলাবোরেট করতে রণনীতি ঠিক করে ফেলেছে তৃণমূল৷ সেই স্ট্রাটেজি সফল হবে না হবে না সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে আসুন আপনাদের দেখাই ঠিক কী প্ল্যান করেছে এরাজ্যের শাসকদল৷

১)বিহারীবাবুর এক্সপিরিয়েন্স বিহারে: একুশে জুলাইয়ের মঞ্চেই তৃণমূলের ঝান্ডা হাতে তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিজেপির প্রাক্তনী শক্রঘ্ন সিনহার৷ ২০১৯শে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে গিয়েছিলেন তিনি৷ লোকসভা নির্বাচনে পটনাসাহিব থেকে রবিশঙ্কর প্রসাদের কাছে হেরে যান শক্রঘ্ন৷ তারপর কংগ্রেসের থেকেও কার্যত নিস্ক্রীয় বিহারীবাবু৷ বিহারের বাসিন্দা শক্রঘ্ন সিনহার কট্টর বিজেপি বিরোধিতাকেই কাজে লাগাতে চান মমতা৷ তৃণমূলের বিহার মিশনের বড় অঙ্গই হলেন শত্রুঘ্ন সিনহা৷ তাঁকে নিয়ে বিহারে তৃণমূলের সংগঠনের বিস্তার ও তা মজবুত করার কাজ চলবে৷ কিন্তু এই কাজ মাত্র তিনবছরের মধ্যে কমপ্লিট করে ফেলা এতটা সহজ নয়৷ তবুও চেষ্টা করতে ক্ষতি কী? এত মনোভাব নিয়েই চলছে তৃণমূল৷ জাতপাতের জটিল অঙ্ক ইউপির মতো বিহারের ভোটেও ফ্যাক্টর৷ তাই তো সেখানকার হেভিওয়েটকে দলে রাখলে সুবিধাই হবে৷

২)যশবন্তের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে গোবলয়ে: বিজেপির মার্গদর্শকের তালিকা বা কোনআনকোট বাতিলের তালিকায় থাকা যশবন্ত সিনহাকে নিজেদের দলে নিয়েছে তৃণমূল৷ একসময়ের উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন যশবন্ত সিনহা৷ বলা যেতে পারে গোবলয়ের রাজনীতির আটঘাঁট যশবন্তের আয়ত্তে৷ তাই উত্তরপ্রদেশে সংগঠন বিস্তারের কাছে যশবন্তের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতাকে কাজে লাগাবে অভিষেক৷ আর মাত্র কয়েকমাস পরই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস যদি কোনও ছাপ রাখতে পারে তাহলে তা চব্বিশের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে তৃণমূল৷

৩)সুদীপ বর্মন বড় ফ্যাক্টর: ত্রিপুরা এবার অনেকটাই তৃণমূলের ফেভারে যাবে, মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷ কারণ বিজেপিকে নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে ত্রিপুরাবাসির মধ্যে৷ তাই তৃণমূলের দিকে জনতার ঝোঁকার হাই চান্স রয়েছে৷ মুকুল রায় সেই চান্স কাজে লাগাবেই লাগাবে৷ ত্রিপুরায় বিজেপির অন্দরে রয়েছে বিপ্লব দেবকে নিয়ে অসন্তোষ তীব্র। মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ সুদীর রায় বর্মনের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক পৌঁছেছে আদায়-কাঁচকলায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা সুদীপ রায় বর্মনকে নিয়ে তৃণমূল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা তলায় তলায় হয়ত শুরু করেও দিয়েছে। ওই যে বলেছি রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু হয় না৷ ত্রিপুরায় তেইশে যদি তৃণমূল কোনওভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে কনফিডেন্স অনেকটাই বেড়ে যাবে তৃণমূলের৷ এদিকে ত্রিপুরার সঙ্গে সঙ্গে নর্থ ইস্টের মণিপুর ও অসমের ক্ষেত্রেও তৃণমূল সংগঠন বিস্তারে জোর দিচ্ছে।


চব্বিশকে পাখির চোখ করে তৃণমূল যে চেষ্টা করবে তা একুশের নির্বাচনের রেজাল্টের দিনই পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল৷ দেরি না করে কাজে লেগে গিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর, অভিষেক, মুকুল৷ তবে গোটা দেশে মাত্র ৩ বছরে মোদী বিরোধী হাওয়া তোলা খুব সহজ হবে না তৃণমূলের পক্ষে৷ সেক্ষেত্রে ২০১৯শের রেজাল্ট মাথায় রাখতে হবে তৃণমূলকে৷ বিজেপিও নানাভাবে চাইবে বাংলায় নানান শাসকবিরোধী ইস্যু খাড়া করে মমতাকে বাংলার মধ্যেই ব্যস্ত রাখার৷ তাই তো বিরোধী দলনেতার আসন পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী৷ মোদী-শাহ চাইবে বাংলার মধ্যেই যাতে বন্দি করে রাখা যায় কোনআনকোট দিদিকে৷ রাজ্য ও দেশীয় রাজনীতির মধ্যে ফারাক বিস্তর৷ তৃণমূলের মতো আঞ্চলিক দলের থেকে বিজেপির অভিজ্ঞতা বেশি, অনেক বেশি৷ দেশের প্রতিটা রাজ্যের রাজনীতির পদ্মশিবিরের নোখের ডগায়৷ তাই তৃণমূল প্রতিটি রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলিকে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে৷ বিজেপি নেতারা বলছেন, ভুললে চলবে না মমতা শের হলে মোদী-শাহ সওয়া শের৷ এখন কীভাবে, কোন কৌশলে মোদী মাত দেওয়ার চেষ্টা করবেন মমতা, ধাপে ধাপে তা উঠে আসবে আমাদের আলোচনায়৷ আজ এখানেই শেষ করলাম৷ পাশে থাকুন৷

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories