Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বিষ্ণুপুরের ৩৫০ বছর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বড় রথের দড়িতে টান পড়ল না !

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে এবারও গড়ালো না বিষ্ণুপুরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বড় রথের চাকা। আড়ম্বর ছাড়াই মাঙ্গলিক ক্রিয়া কর্মের মধ্য দিয়ে ব্যারিকেড করে টানা হলো ছোট রথ। ইতিহাস বলে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের প্রাচীন রথ উৎসব প্রায় ৩৫০ বছরেরও বেশি প্রাচীন। ১৬৬৫ খ্রীঃ বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজা বীর মল্ল বিষ্ণুপুর শহরের মাধবগঞ্জে রানি শিরোমণি দেবীর ইচ্ছা অনুযায়ী পাথরের পাঁচ চুড়া মন্দির তৈরি করেন। মন্দিরের বিগ্রহ রাধা মদন গোপাল জিউ। এই মন্দিরের অনুকরনেই তৈরি করা হয় পিতলের রথ। মল্লরাজাদের সময়ই এই রথ উৎসবের সূচনা হয়। বর্তমানে এই উৎসব পরিচালনা করেন মাধবগঞ্জ ১১ পাড়া রথ উৎসব কমিটি। মন্দিরের প্রধান বিগ্রহ রাধা মদন গোপালের বিগ্রহকে বাদ্য যন্ত্র ও কীর্তনের মধ্য দিয়ে নিয়ে আসা হয় রথে। রথের মধ্যে চলে পুজো অর্চনা ও আরতি। এরপর শুরু হয় রথের দড়িতে টান দেওয়ার পর্ব। দূরদুরান্ত থেকে বহু মানুষ এসে উপস্থিত হয় এই রথের দড়িতে টান দিয়ে পুণ্য অর্জনের জন্য।

তবে এবছর করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে সেই উৎসবের আমেজেও ছেদ পড়ল। নিয়মবিধি মেনে মন্দির থেকে বিগ্রহ কীর্তন সহকারে নিয়ে আসা হয় রথে। সেখানে পুজো অর্চনা ও আরতি নানান মাঙ্গলিক ক্রিয়া কর্ম পালনের মধ্য দিয়ে পালন করা হয় ঐতিহ্যবাহী এই রথ উৎসব। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে নিয়ম বিধি মেনে বড় রথ টানা হলো না। তার বদলে ব্যারিকেড করে ছোট রথ ঘোরালেন পূজারীরা। এই রথের বিশেষত্ব হল এখানকার রথে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা সওয়ার হন না। তার বদলে রথে সওয়ার হন রাধা মদন মোহন জিউ। আজ কোভিড বিধি মেনে ব্যারিকেড দিয়ে মাঙ্গলিক ক্রিয়া কর্মের মাধ্যমে রথ উৎসব পালন করা হলেও, ভক্তদের আবেগ ও উন্মাদনাকে আটকে রাখতে পরলো না রথ উৎসব কমিটি। সাতসকালেই ঐতিহ্যের রথ দেখতে উপছে পড়ে মানুষের ঢল।

গতবছরও করোনা সংক্রমণের কারণে রথের রশিতে টান দিতে পারেননি পুর্ণার্থীরা। এবারেও সেই সুযোগ না পাওয়ায় মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ রয়ে গেল বলছেন পুর্ণার্থীরা। রথের রশিতে টান দিতে না পারলেও রাধা মদন গোপাল জিউকে দর্শন করতে চোখে পড়লো মানুষের আবেগ। সারা বছর রথের জন্য অপেক্ষা করে থেকেও দুবছর ধরে রথের রশিতে টান দিতে না পারার কারণে স্বভাবতই মন খারাপ ভক্তদের। রথে রাধা মদন গোপালকে দেখেই নিজেদের আনন্দ উপভোগ করলেন পুর্ণার্থীরা।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories