Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

জঙ্গিদের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে কলকাতা ? জেএমবি জঙ্গি গ্রেফতারে উঠছে প্রশ্ন

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণের মধ্যেই কি জাল বিস্তার করতে শুরু করেছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জেমবি ? কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এর অভিযানে তিন জেএমবি সদস্য গ্রেফতারের পরেই এমন সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। করোনা সংক্রমণের এই বাতাবরণের মধ্যেও কীভাবে তারা বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতায় এলো তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি জেএমবি সংগঠনের আর কোনও সদস্য রাজ্যের কোথায় কোথায় ঘাপটি মেরে রয়েছে তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি তারা কতোদিন ধরে ঠিক কী কারনে কলকাতায় লুকিয়ে ছিলো তা নিয়েও বড়োসড়ো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা গিয়েছে ধৃত তিন জনেই বাংলাদেশের বাসিন্দা। তবে তারা কীভাবে কলকাতায় প্রবেশ করেছে তা এখনও জানা যায়নি। এসটিএমের জালে মূলত কলকাতায় ধরা পড়ল বাংলাদেশের জেএমবি জঙ্গি সংগঠনের তিন সদস্য। শনিবার রাতে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অভিযান চালিয়ে ওই জঙ্গিদের গ্রেফতার করে। প্রাথমিকভাবে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গি সংগঠন জেএমবির তিন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই বড় মাপের নেতা বলে অনুমান করা হচ্ছে। ধৃতরা সবাই বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এসেছে। তবে তারা কী কারণে এসেছিল, কিংবা কোনও জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, এমনকি ওই সদস্যদের সঙ্গে আল কায়দা জঙ্গি গোষ্ঠীর কোনও সম্পর্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উল্লেখ্য, জেএমবি জঙ্গি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ড যার বড়ো উদাহরণ। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে ইতিপূর্বে জেএমবি সংগঠনের একাধিক সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। যা থেকে পুলিশ আধিকারিকরা মনে করছেন, এই জঙ্গিগোষ্ঠী পশ্চিমবাংলায় যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে। তবে বর্তমানে ধৃতরা নব্য না আদি গোষ্ঠীর সদস্য তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে এর আগে জেএমবি সংগঠনের একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ বাহিনী। বর্তমানে ধৃতরা ওই জঙ্গি সংগঠনের বড় মাপের নেতা বলেই মনে করছে পুলিশ।

অন্যদিকে, রবিবার সকালেই জঙ্গিদের নাশকতার ছক বানচাল করে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের পুলিশ। সেখানকার এসটিএফ বাহিনীও জেএমবি জঙ্গি সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করে। লখনউয়ে জঙ্গি হামলা হতে পারত বলে মনে করছে সে রাজ্যের প্রশাসন। উত্তরিপ্রদেশে পুলিশের ওই অভিযান যখন চলছে, ঠিক সেই সময়ই কলকাতায় ধরা পড়ল জঙ্গি সংগঠনের একাধিক সদস্য। একইসঙ্গে এদিন জম্মু-কাশ্মীরে তল্লাশি অভিযান চলাকালীন সময়ে জঙ্গিদের বিষয়ে হাড়হিম করা তথ্য সামনে উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, উপমহাদেশে জঙ্গি তৈরির জন্য তরুণদের মগজধোলাই চলছে। আর সেজন্য টাকা জোগান দেওয়া হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর থেকেই। পাশাপাশি সেখানে জঙ্গি সংগঠনের ম্যাগাজিনের মাধ্যমেও তরুণদের উদ্ধুব্ধ করা হচ্ছে। সেখানে দাঁড়িয়ে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের জালে বাংলাদের জেএমবির তিন জঙ্গি ধরা পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মাটিতে জেএমবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। পাশাপাশি সেদেশে জঙ্গি দমনে ধরপাকড়ের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট ততপর বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার। ফলে জেএমবি জঙ্গিরা কি বাংলাদেশের মাটিতে স্থান না পেয়ে এখন পশ্চিমবাংলায় ঢুকে তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এর আগে বারবার বিজেপি অভিযোগ তুলেছে পশ্চিমবাংলায় বাংলাদেশী জঙ্গিদের আনাগোনা বাড়ছে। এর আগে মুর্শিদাবাদের নিমাতিতা স্টেশনে রাজ্যের মন্ত্রীর উপরে বোমা বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে নেপথ্যে জঙ্গিযোগের সম্ভাবনা উঠে আসে। ফলে সেই ঘটনার কয়েক মাসের অধ্যেই খোদ কলকাতা থেকে বাংলাদেশের জেএমবি জঙ্গি গ্রেফতার হওয়ায় এবার অনেক সম্ভাবনাই সামনে চলে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories