Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ডিগ্রি থাকা সত্বেও কিছু করতে পারলাম না, আক্ষেপ রতন টাটার

||প্রথম কলকাতা||

ভারত তথা গোটা বিশ্বের খ্যাতনামা শিল্পপতিদের মধ্যে একজন টাটা গ্রূপের চেয়ারম্যান রতন টাটা। শিল্পের সিংহাসন তো বটেই মানুষের মনেও তাঁর বিশ্বজোড়া খ্যাতি। কিন্তু এতো কিছু সত্ত্বেও আক্ষেপ রয়ে গেছে তাঁর। রয়ে গেছে কিছু একটা না পাওয়ার কষ্ট। সালটা তখন ১৯৫৯, বিখ্যাত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করলেন আর্কিটেকচারের ডিগ্রি। চেয়েছিলেন আগামী জীবনে স্থপতি হতে। অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ারও ছিল প্রবল ইচ্ছা। কিন্তু সেই ইচ্ছা ইচ্ছাই থেকে গেল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আমি সর্বদা একজন স্থপতি হতে চেয়েছিলাম। এই বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী এবং অনুপ্রাণিত ছিলাম। কিন্তু তাঁর বাবা অর্থাৎ নাভাল টাটার ইচ্ছা ছিল ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার করার। সেই জন্য একটি ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে ভর্তি হন রতন টাটা। সেই স্কুলে দু’বছর কাটিয়ে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর আগ্রহ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নয় আর্কিটেকচারে রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি কখনও স্থপতি হওয়ার জন্য আফসোস করি না। আমি কেবল আক্ষেপ করেছি যে আমি দীর্ঘদিন এটি অনুশীলন করতে পারিনি।”

তিনি চেয়েছিলেন যে তাঁর বাকি জীবন আর্কিটেকচারেই অতিবাহিত করবেন। এর জন্য কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
আর্কিটেকচারে স্নাতক শেষ হওয়ার দু’বছর বাদে লস অ্যাঞ্জেলেসে একজন স্থপতিদের অফিসে কাজ করেছি।

৮৩ বছর বয়সী রতন টাটা জানান, কোনো জিনিসকে গুছিয়ে একসাথে রাখার দক্ষতা স্থাপত্য পাঠ্যক্রমে শেখানো হয়। স্থপতি হিসাবে একরকম সংবেদনশীলতা তৈরি হয়। জিনিসপত্র একত্রে রাখার ক্ষমতা, বাজেটের ভিত্তিতে একটি প্রকল্প পরিচালনা করা, বিভিন্ন উপকরণের জটিলতা একসাথে বোঝা এই সব কিছুই স্থাপত্য পাঠ্যক্রমগুলিতে ভালোভাবে শেখানো হয়। এমনকি তিনি বলেন, যদি কেউ বলে স্থপতি হিসাবে ব্যবসা করা যায় না তবে সেটি একদমই সঠিক বক্তব্য নয়।

ইনস্টাগ্রামের একটি প্রশ্নত্তরে তিনি কথায় কথায় বলেন, টাটা গ্রূপে না আসলে আজ তিনি একজন সফল আর্কিটেকচার হিসাবে পরিচয় পেতেন। তাঁর উত্থান একজন শিল্পপতি হিসাবে নয় একজন স্থপতি হিসাবেই মানুষ জানতেন। প্রশ্নত্তরে রতন টাটার এক অনুরাগী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে তাঁর স্বপ্নের প্রজেক্ট কি? উত্তরে রতন টাটা জানান, আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট হল দেশজুড়ে শিশুদের অপুষ্টির হার কমানো। এক ক্ষুধামুক্ত ভারত গড়ে তোলা।

Categories