Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিজেপি থাকলেও শেষ হাসি হাসতে পারে তৃণমূল

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম নজরকাড়া পুরসভা অশোকনগর-কল্যানগড় পুরসভা। এই পুর এলাকাতেও আসন্ন পুরভোটের হাওয়া লেগেছে। শুরু হয়ে গিয়েছে শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তোড়জোড়। সেখানে দাঁড়িয়ে অ্যাডভান্টেজে কোন রাজনৈতিক দল! যার সুলুক সন্ধান নিয়েই এই প্রতিবেদন। একটা সময়ে বাম রাজনীতির অন্যতম ঘাঁটি ছিলো এই অশোকনগর। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ি অশোকনগরের জনসংখ্যা আনুমানিক ১ লাখ ২৩ হাজার ৯০৬ জন। যারমধ্যে পুরুষ ৬২ হাজার ৫৫৪ জন এবং মহিলা ৬১ হাজার ৩৫২ জন। এখানে স্বাক্ষরতার হার ৯২.৪৫ শতাংশ। এই এলাকা ১৯৫৯ এবং ১৯৬৬ এর খাদ্য আন্দোলন সাক্ষী ছিল। ১৯৬৭ সালে হাবড়া বিধানসভা এলাকা থেকে পৃথক হয়ে প্রথমবার গঠিত হয় অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্র। ১৯৬৭ সালের প্রথম নির্বাচনে সিপিআইয়ের প্রার্থী সাধন সেন জয়ী হয়েছিলেন।

তিনি ১৯৬৯ সালেও জয়ী হন। সিপিআইএমের ননী কর ১৯৭১, ১৯৮৭ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী কেশবচন্দ্র ভট্টাচার্যকে পরাজিত করেন। ননী কর অশোকনগর বিধানসভার পাঁচ বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাঝে ১৯৭২ সালের নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে কেশব ভট্টাচার্য ননী করকে পরজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে সিপিএমের নীরোদ রায়চৌধুরী কংগ্রেসের প্রার্থী ধীমান রায়কে পরাজিত করে বিধায়ক হন। ২০১১ সালে তৃণমূল প্রার্থী ধীমান রায় বিপুল ভোটে বিধানসভা নির্বচনে সিপিএম প্রার্থী সত্যসেবী করকে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে ধীমান রায় ফের নির্বাচত হন। এরপর ২০২১ সালে নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী বিজেপি প্রার্থী তনুজা চক্রবর্তীকে হারিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন।

তবে উল্লেখযোগ্য ২০২১ এর নির্বাচনে অশোকনগরে প্রথমবার সিপিআইএম প্রার্থী দেয়নি। তার বদলে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আইএসএফের তাপস ব্যানার্জী। অশোকনগর-কল্যাণগড় পৌরসভা বামফ্রন্টের অধীনে ছিল ২০১০ সাল পর্যন্ত। ২০১০ সালে রাজনৈতিক পালা বদল ঘটে এই পুরসভায়। সেই সময় তৃণমূলের সমীর দত্ত অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভার পৌরপ্রধান নির্বাচিত হন। ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনেও পৌরসভা তৃণমূল কংগ্রেস দখলে নেয়। তবে সেবার বিদায়ী পৌরপ্রধান সমীর দত্তকে উপ পৌরপ্রধান করা হয়। পৌরপ্রধান করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবোধ সরকারকে। ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন।

বর্তমানে পৌরসভায় প্রশাসক হিসাবে রয়েছেন প্রবোধ সরকার। এই অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপির যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। রয়েছে আইএসএফের ততপরতাও। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের অন্দরে বেশ কিছু গোষ্ঠীকোন্দল ছিলো দীর্ঘদিন ধরেই। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের নারায়ণ গোস্বামী বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর সেই গোষ্ঠী কোন্দল অনেকটাই নিম্নমুখী বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তার উপর রাজ্যে যেভাবে তৃণমূল ব্যাপক জয় পেয়েছে সেখানে দাঁড়িয়ে এই অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভা এলাকাতেও পড়েছে তার প্রভাব।

অত্যন্ত রাজনৈতিক সচেতন এই পুর এলাকায় একদিকে যেমন উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে তৃণমূল মানুষের মন জয়ে করেছে, তেমনি এখানে সিপিএমের সংগঠনের একটি বড়ো অংশ আজ তৃণমূলমুখী হয়ে উঠেছেন। যারা গত বিধানসভা ভোটের আগেও বিজেপির দিকে হেলে ছিলেন তারা এখন শাসক শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন। তার উপর অশোকনগরে তেলের খনিকে কেন্দ্র করে বিজেপি ভোটের আগে নিজেদের দিকে হাওয়া ঘোরাতে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা সাফল্য পায়নি। ফলে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার সুবাদে তৃণমূল এখন এই পুর এলাকাতেও নিজেদের প্রভাব পুরোদস্তুর ছড়িয়ে দিয়েছে। তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ভূমিকাও শাসককে এখানে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। ফলে আসন্ন পুর নির্বাচনে বিজেপি এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষ হাসির দৌড়ে তৃণমূলই এগিয়ে থাকবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

পিসিসি

Categories