Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ভাটপাড়া পুরসভায় সেয়ানে সেয়ানে টেক্কা চলবে বিজেপি-তৃণমূলের

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


রাজ্যে পুরসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের কোন পুরসভায় কোন রাজনৈতিক দলের অবস্থান কেমন তারই সুলুকসন্ধানে আমাদের এই প্রতিবেদন। আজকের পুরসভা উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ভাটপাড়া পুরসভা। ৩৫ আসনের এই পুরসভা ঘিরে রয়েছে শাসক ও বিজেপির তীব্র লড়াই। এর আগে চলতি বছরের গোড়ার দিকে বিজেপির হাত থেকে এই পুরসভা আস্থা ভোটে জয় করে তৃণমূল। তবে বর্তমানে পুর প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে এই পুরসভা। বর্তমানে এই পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন অরুণ কুমার ব্যানার্জি

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ি ভাটপাড়া পুর এলাকায় মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৯৫৬ জন।যারমধ্যে পুরুষ ৫৫ শতাংশ ও মহিলা ৪৫ শতাংশ। শিক্ষিতের হারেও এইপুরসভা অনেকটাই এগিয়ে জেলার মধ্যে। এই ভাটপাড়া পুরসভা বরাবরই ব্যারাকপুরের বিজেপি অর্জুন সিংহের খাস তালুক বলেই পরিচিত। তবে প্রতি মুহূর্তেই এই পুরসভা ঘিরে চলছে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি। রাজনীতির পাশা খেলায় কে কাকে কখন টেক্কা দেবে তা নিয়ে সারা বছরই প্রতিযোগিতা চলে এখানে। বিজেপির হাত থেকে এই পুরসভার রাশ ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে রাজনীতির খেলায় তৃণমূল এখানে কোনও অংশেই কম যায় না। মূলত, বারবার রাজনৈতিক নানা সমীকরণের সুত্র ধরে খবরের শিরোনামে উঠে থাকে ভাটপাড়া। বোমা গুলির লড়াই থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড সবেতেই উত্তর ২৪ পরগণা জেলার মধ্যে ভাটপাড়া এগিয়ে। মূলত আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে নিজের দুর্গ বলে পরিচিত ভাটপাড়া পুরসভার দখল নিতে অর্জুন সিং যে মরিয়া হবেন তা স্পষ্ট। কারণ, ভাটপাড়া পুরসভা তারকাছে প্রেষ্টিজ ফাইট।

পাশাপাশি, অর্জুনের প্রভাব ছাঁটতে ভাটপাড়া পুরসভার দখল নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চালে শাসক দল তৃণমূল কোনও অংশেই কম যাবে না সেটাও নির্বিধায় বলে দেওয়া যায়। এখানকার প্রতিটি ওয়ার্ডে রাজনৈতিক ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়েই এই পুরসভা দখলের রাশ নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলেই মত এলাকার বাসিন্দাদের। স্থানীয় ভিত্তিক একট প্রবাদ এখানে খুব পরিচিত, তা হলো জোর যার ভাটপাড়া তার। আসলেই কি তাই!

রাজনৈতিক মহলের মতে, কথাটা পুরোমাত্রায় সত্যি না হলেও আংশিক সত্যি। কারণ, এখানে রাজনৈতিক প্রভাব একটি বড়ো বিষয়। সেখানে দাঁড়িয়ে ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের পর থেকে বিজেপির রীতিমতো বাড়বাড়ন্ত ঘটে এই পুর এলাকায়। এখানে অবাঙালি ভাষাভাষী একটি অংশের মানুষ গেরুয়া শিবিরের দিকে প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন দেন। একইসঙ্গে বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশও জয় শ্রীরামে উদ্ধুদ্ধ হয়েছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে একুশের নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ব্যাপক জয়ের প্রভাব পড়েছে এই পুর এলাকাতেও। এলাকায় বিজেপির প্রভাব থাকলেও এখন অনেকেই বিজেপির ঝান্ডা ধরে ময়দানে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। একুশের ভোট ফলাফল অনেকাংশেই এই পুর এলাকার রাজনৈতিক বৃত্তকে বদলে দিয়েছে। চাপে ফেলে দিয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। তার উপর এখানে বিজেপির একমাত্র মুখ বলতে অর্জুন সিং। কিন্ত যেভাবে অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে একের পক এক মামলা ও জেলা তৃণমূলের নেতারা অর্জুন সিংয়ের উপর তোপ দেগে রাজনৈতিকচাপের রণনীতি কায়েম করে রেখেছেন সেখানে দাঁড়িয়ে আগামী পুরসভা নির্বাচনে অর্জুন সিং কতোটা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এই পুরসভাকে দখলে নিতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এই এলাকায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিকাশি ব্যাবস্থা ও জঞ্জাল সাফাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এলাকার উন্নয়নের থেকেও এখানে বুথ ভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন যাদের যতো শক্ত হবে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে তারাই বলবে শেষ কথা। আর সেখানে দাঁড়িয়ে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে অর্জুন সিংয়ের এই শক্ত ঘাঁটিতে শাসক দল যে অনেকটাই দাঁত ফুটিয়ে নিজেদের ঘর গোছাওর কাজ শুরু করেছে তা হয়তো বলাই যায়।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories