Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মন্ত্রী হয়েছেন শান্তনু, নাগরিকত্বের আশায় নতুন করে বুক বাঁধছেন মতুয়ারা

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


বাজছে ঢাক, ঢোল, কাঁসর, শিঙা। পুজো চলছে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে। চলছে আনন্দের হুল্লোড়। এই চিত্র শুধুমাত্র উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে বললে হয়তো ভুল বলা হবে। এই চিত্র আজ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বহু মতুয়া সমাজের মধ্যে। আর এই আনন্দের মধ্যমণি অবশ্য একজন, তিনি হলেন শান্তনু ঠকুর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হয়েছেন তিনি। আর সেই আনন্দেই এখন ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি এবং মতুয়া সমাজের একটি বড়ো অংশে উৎসবের বাতাবরণ। শান্তনু ঠাকুর মন্ত্রী হয়েছেন ফলে আশা বেড়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনের। তাঁদের আশা, এবারে মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নতি হবে।উন্নয়ন ঘটবে মতুয়া সমাজের ছেলে মেয়েদের। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের উপর আস্থাও বেড়েছে তাঁদের।

মতুয়া সম্প্রদায়ের অনেকেই মনে করেন, শান্তনু ঠাকুর যেহেতু মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন তাই আজ হোক আর কাল হোক মতুয়ারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেনই। স্বাভাবিকভাবেই শান্তনু ঠাকুর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ায় উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি বড়ো অংশের মধ্যে। শুধু ঠাকুরনগরেই নয়, উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁ, গাইঘাটা, বাগদা সহ জেলার যে যে অংশে মতুয়ারা রয়েছেন তাদের অধিকাংশই আজ খুশী। ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি থেকে সোজা দিল্লি দরবারে পৌছে গিয়েছেন তাঁদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। এটা ভেবে খুশীতে মেতে উঠেছেন বেশিরভাগ মতুয়ারাই। তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে এর আগে একুশের নির্বাচনের মুখে ঠাকুরনগরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, দেশে করোনার প্রকোপ কমে গেলেই নাগরিকত্ব আইন লাগু করা হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা মতুয়ারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পরেও দোলাচলে পড়েছিলেন বহু মতুয়ারা।

প্রশ্ন ওঠে অন্য জায়গায়, রাজ্যে নাগরিকত্ব আইন বলবত করতে গেলে মূলত রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আগেই জানিয়ে দিয়েছে, বাংলায় বসবাসকারী প্রতিটি মানুষ যাদের ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, আধার কার্ড আছে, তাঁরা সকলেই ভারতের নাগরিক। সেক্ষেত্রে নতুন করে কাউকে নাগরিকত্বের দরকার নেই। এমনকি কেন্দ্রের নাগরিকত্ব আইনের বিরোধীতা করে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, নাগরিকত্ব আইনের নামে কাউকে এদেশ থেকে তাড়ানো যাবে না। ফলে রাজ্যে নাগরিকত্ব আইন পাশ করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার বিরোধীতা করলে কোন পন্থা নেবে কেন্দ্র? যা নিয়ে সংশয় থাকলেও আপাতত সেইসব সংশয় নিয়ে খুব বেশী ভাবতে রাজি নন মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি অংশ। তাঁদের আশা, শান্তউ ঠাকুর যেহেতু প্রধানমন্ত্রী মোদীর মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ফলে আজ হোক বা কাল হোক কিংবা পরশুই হোক মতুয়া সম্প্রদায় যে ভারতের নাগরিকত্ব পাচ্ছেনই সেই বিষয়ে আপাতত আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন তাঁরা।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories