Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মুকুল তুমি কার?

1 min read

৷৷প্রথম কলকাতা৷৷

মুকুল তুমি কার? পিএসির চেয়ারম্যান মুকুল রায় কোন দলের? এভাবে বিধায়ক পদ অক্ষত থাকবে তো মুকুলের?
মুকুলকে আসল সবক শেখাবেন শুভেন্দুই হবেন হবেন জল্পনা, শেষপর্যন্ত মুকুল রায় হয়েই গেলেন পাবলিস অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান৷ আর পিএসি চেয়ারম্যান হতে গেলে পিএইচডি ইন ইকোনমিক্স চাই না, তৃণমূলের পায়ে পড়ে থাকলেই বসা যায় পিএসির মাথায়৷ এমনটা আমরা বলছি না বলছে বিজেপি৷ অবশ্য যে চালে মুকুলের এই বাজিমাত সম্ভব করেছে শাসকদল তা কিন্তু মানতে হবে৷ কোনওভাবেই মুকুল রায়কে আটকাতে পারল না বিজেপি৷ কিন্তু তার মানে একদমই এটা নয় যে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী৷ শুক্রবারই বিধানসভায় বসে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিয়েছেন তিনি৷ এখন যে প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে আসছে সেটা হল মুকুল রায় আসলে কোন দলের? বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক হয়েই পিএসি চেয়ারম্যান হলেন এমনকি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পাশেই বসছেন৷ বিজেপিতে না থেকেও তো ফুলদমে ফায়দা তুলে যাচ্ছেন তিনি৷ বিজেপি বলছে তৃণমূলের লোক মুকুল আর এদিকে তৃণমূল বলছে বিজেপির লোক তিনি৷ আর সেখানেই বাড়ছে ধোঁয়াশা, কনিউশন৷

তৃণমূলে যোগদান করার পরের দিন থেকে একবারও আর সাংবাদিকদের মুখোমুখি আপনারা হতে দেখেছেন মুকুল রায়কে? দেখেননি কারণ তিনি হননি৷ কোনও বিষয়ে কোনওরকম প্রতিক্রিয়া দিতে এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি মুকুল রায়৷ চুপচাপ, নিঃশব্দে শুধু ভেতর ভেতর খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন মুকুল৷ আর এমন এমন ধাক্কা বিজেপিকে দিচ্ছেন যেটা সামলাতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীকেও৷ এখন প্রশ্ন, মুকুল আসলে কোন দলের? যদি বলি বিজেপিতেই আছেন মুকুল রায়৷ তাহলে বিভ্রান্ত হবেন তো? আসুন একটু তথ্য দিয়ে বিষয়টা বিচার করে দেখি৷

১)বিজেপিতে আছেন মুকুল
বিজেপি ছেড়ে রাতারাতি তৃণমূলে ফেরত চলে গেলেও বিজেপিতেই এখনও রয়েছেন মুকুল রায়৷ এই কথার মানে খাতায় কলমে মুকুল রায় বিজেপির বিধায়ক৷ কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটে জেতা বিজেপি বিধায়ক৷ কিন্তু মুকুল রায়ের নাম বিজেপির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে নেই৷ মুকুল তৃণমূলের যার পরপরই তড়িঘড়ি অমিত মালব্যর নির্দেশে মুকুলের নাম মুছে দেওয়া হয় বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদ থেকে৷ একইসঙ্গে ওয়েবসাইটে বিধায়কদের যে তালিকা রয়েছে সেখানে কৃষ্ণনগর উত্তরে নাম নেই মুকুলের৷ নাম রয়েছে রাণাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের৷ তবে ওয়েবসাইট থেকে নাম মোছা এত সোজা হলেও মুকুলের বিধায়ক পদ কেড়ে নেওয়া এত সোজা কাজ হচ্ছে না৷ দলত্যাগী বিরোধী আইন মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করার কম চেষ্টা করছেন না শুভেন্দু৷ শুক্রবারই শুভেন্দু হুমকি দিয়ে দিয়েছেন, এবার আদালতে যাবে বিজেপি৷ সেটা যদি হয় তাহলেও খুব একটা তাড়াতাড়ি কিছু হওয়ার নয়৷ এদিকে রাজ্যপালের কাছেও প্রতিনিধি দল নিয়ে এবিষয়ে নালিশ ঠুকতে যাবেন শুভেন্দু৷ কিন্তু তাতে লাভের লাভ কতটা হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে৷

২)তৃণমূলের কোন পদে মুকুল
১১ জুন তৃণমূলে ফেরার পর থেকে মুকুল রায়কে নিয়ে বেশি কথা বলতে রাজী নয় শাসকদল৷ আসলে যা হচ্ছে সবটাই নিঃশব্দে৷ যেন মুকুলকে নিয়ে খুব বেশি হইচই এমূহুর্তে চায় না তৃণমূল৷ এখন পর্যন্ত দলের নিরিখে মুকুল রায়ের ডেজিগনেশন শুধু একজন তৃণমূল নেতা৷ কোনও বড় পদ এখনও মুকুলকে দেয়নি তৃণমূল৷ তবে মুকুল তৃণমূলে ফেরার পর জল্পনা ছিল যে সর্বভারতীয় সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হবে মুকুলকে৷ সংগঠনগতভাবে যে কোনও দক্ষিণপন্থী সংগঠনের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের হাতেই ক্ষমতা থাকে। অভিজ্ঞমহলের মতে, সহসভাপতি করে তাঁকে অন্য রাজ্যে দলের শক্তি বৃদ্ধির কাজে দায়িত্ব দেওয়া হবে৷ পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে এই পথ ধরেই এগোতে পারে তৃণমূল৷ ত্রিপুরার তৃণমূলের উত্থান মুকুল ছাড়া সম্ভব নয় সেক্ষেত্রে মুকুলকে অবশ্যই দরকার৷


মুকুল রায় তাই বহিরঙ্গে বিজেপি হলেও অন্তরঙ্গে তৃণমূল৷ শুক্রবার অধিবেশন শেষে স্পিকার পিএসি-র চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করতেই ওয়াকআউট করেছিলেন বিজেপি বিধায়করা। এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে শাসকদলকে তুলোধনাও করেছিলেন শুভেন্দু৷ এবার তারা রাজ্যপালের কাছে নালিশ ঠুকবেন একইসঙ্গে আইনি পথেও যাবে বিজেপি৷ সেক্ষেত্রে যদি এমন পরিস্থিতি আসে যে খারিজ হতে পারে মুকুলের বিধায়ক পদ৷ সেক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস কী কৌশল নেয় সেটাই দেখার৷

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories