Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বনগাঁ পুরসভায় তৃণমূল অ্যাডভান্টেজে থাকলেও শেষরাতে বিজেপি কি গুটি খেলবে ? উঠছে প্রশ্ন

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


রাজ্যে বিধানসভা ভোটপর্ব মেটার পর এবারে সামনে পুরসভা নির্বাচন। এখন থেকেই রাজ্যের একাধিক পুরসভাগুলিতে শুরু হয়ে গিয়েছে ভোট প্রস্তুতি। রাজ্যের কোন পুরসভায় কোন রাজনৈতিক দলের অবস্থান কতোটা শক্তপোক্ত তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কাটাছেড়ার অঙ্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই অঙ্কের ভীড়ে সামিল আমরাও। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা নিয়ে আমাদের এই প্রতিবেদন। আজকের পুরসভা উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁ পুরসভা। মোট ২২ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই বনগাঁ পুরসভা। পুরসভাটির মোট আয়তন ১৪ হাজার ২৭৪ বর্গ কিলোমিটার। এই পুর এলাকায় আনুমানিক ১ লাখ ১০ হাজার ৬৬৮ জনের ওপর মানুষ বসবাস করেন।

এই পুরসভার ভেতর দিয়েই চলে গিয়েছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী এনএইচ ৩৫ বা যশোর রোড। উন্নয়নের নিরিখে এই পুরসভা যথেষ্ট অগ্রগতি ঘটিয়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণে হিসাবে এই পুর এলাকায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের যেমন প্রভাব রয়েছে তেমনি প্রভাব রয়েছে বিজেপিরও। এই পুরসভার অন্তর্গত বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে এবারে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। এই বনগাঁ পুরসভায় এতদিন পুরপ্রধান ও পুর প্রশাসক হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন শঙ্কর আঢ্য। কিন্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরেই এই পুরসভা নিয়ে নড়েচড়ে বসে তৃণমূল নেতৃত্ব। পুর প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে শঙ্কর আঢ্যকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় গোপাল শেঠকে

রাজনৈতিক মহলের মতে, এলাকায় যথেষ্ট জনপ্রিয় এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসাবে গোপাল শেঠের জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফলে গোপাল শেঠকে বনগাঁ পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে এনে তৃণমূল অনেকটাই পায়ের তলার জমি শক্ত করে ফেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। এর আগে এই বনগাঁ পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে উঠে আসে। একটা সময়ে বনগা উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিত দাসের সঙ্গে শঙ্কর আঢ্যর দ্বন্দের জেরে ক্রমাগত সমস্যা বাড়তে থাকে এই পুর এলাকায়। তারপর বিশ্বজিৎ দাস যোগ দেন বিজেপিতে। এখন তিনি বনগাঁ সংলগ্ন বাগদা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক। এদিকে গত লোকসভা নির্বাচনের পর এই বনগাঁ পুরসভায় চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যর বিরুদ্ধেই ক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁর দলের কাউন্সিলাররাই। পরে অবশ্য সেই ক্ষোভ প্রশমিত হয়। ফলে এই পুর এলাকায় বিজেপির একটা স্রোত রয়েছে সেটা অনস্বীকার্য। আর সেটা বুঝেই আসন্ন পুরসভা ভোটের আগে শঙ্কর আঢ্যকে পুর প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে অনেকটাই সংগঠন শক্তপোক্ত করার পথে হাটলো তৃণমূল।

পাশাপাশি, সীমান্ত শহর বলে পরিচিত এই বনগাঁ পুর এলাকায় রাস্তাঘাট, পানীয় জন, নিকাশী ব্যাবস্থা ও সৌন্দর্যায়নে খামতি না থাকলেও এখানে যানজটের একটা সমস্যা রয়েছে বলে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ। বিশেষ করে পেট্রাপোল বর্ডারে যাওয়া পণ্যবাহী ট্রাকের ফলে যানজটে একটা সমস্যা এলাকার মানুষের মাথাব্যাথার অন্যতম কারণ। তার উপর দুস্কৃতীদের কিছু দৌরাত্ম্যার প্রভাব এলাকার কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে বলেও অভিযোগ। তবে আসন্ন পুরসভা ভোটের আগে এই পুরসভা দখলের লক্ষ্যে আটঘাট বেধে সংগঠন শক্ত করার কাজে নেমে পড়েছে তৃণমূল। অন্যদিকে, একুশের ভোটে রাজ্যে আশাতীত ফল না পেয়ে যারা এই পুর এলাকা থেকে ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন তারা এখন অনেকেই তৃণমূলে ফিরে যাওয়ায় কিছুটা হলেও নড়বড়ে ভিতের উপর দাঁড়িয়ে বিজেপি। তবে একথা মনে রাখা দরকার, এই বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মতুয়া সম্প্রদায়ের ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুর। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ফলে মতুয়া সম্প্রদায় অধ্যূষিত এই বনগাঁ পুর এলাকায় বিজেপি শেষ রাতে কি গুটির চাল খেলবে তা নিয়ে সন্দেহ কিন্ত থেকেই যাচ্ছে।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

পিসিসি

Categories