অ্যালোভেরার এই ৯টি গুনাগুনের কথা কি জানতেন?

।। স্বর্ণালী তালুকদার ।।

অ্যালো জিনাস প্রজাতির এই উদ্ভিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য এর রসালো উপাদান। কয়েক শতাব্দী ধরে  এর ঔষধি গুনাগুনের জন্য বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অ্যালোভেরাকে বাংলায় ঘৃতকুমারী বলা হয়। এই গাছের পাতায় যে রসালো ঘন তরল থাকে, সাধারণতঃ রোদ পুড়ে গেলে তাতে আরাম দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু এই তরলকে ব্যবহার করে আরও বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান সম্ভব।

গাছের পাতা নিয়ে সেখানে থেকে থকথকে তরল পদার্থটি বের করে নিয়ে ভালোভাবে গুড়িয়ে নিতে হবে। জলের মতো পাতলা আস্তরণ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত গুড়িয়ে নিতে হবে। অসম্ভব তেতো হওয়ায় প্রয়োজন মতো জল ও মধু ব্যবহার করে নিলে তা খাওয়া যেতে পারে। এই তরলটিকে রসের মতো করে খেলে বাড়বে হজম শক্তি।

কারণ এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমটরি উপাদান, যা পাকস্থলীকে ঠান্ডা রাখে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে এর প্রভাব পড়বে কয়েক দিনের মধ্যেই। অ্যালোভেরার তরলে রয়েছে আয়রণ, অ্যামিনো অ্যাসিড, ক্যালশিয়াম, কপার, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ,ফলিক অ্যাসিড, সোডিয়াম এবং ভিটামিন এ, বি৬ ও বি২। এছাড়াও অ্যালোভেরাই এমন একটি উদ্ভিদ, যাতে ভিটামিন বি১২ এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 

শরীরে জলের পরিমানের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ শরীর যদি আদ্র না থাকে, যথাযথ পরিমান জল না থাকে, তাহলে কিডনির শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। কিডনিকে সচল এবং সুস্থ রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত অ্যালোভেরার সেবন। এছাড়াও ভারীমাত্রায় শারীরিক কসরত করার পরও শরীরের যথাযথ পরিমান ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরী হয়, যা থেকে মুক্তির অব্যর্থ ওষুধ অ্যালোভেরার রস। 

ডায়াবেটিসের জন্য অ্যালোভেরার জুস অব্যর্থ ওষুধ। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে এবং নিয়মিত অ্যালোভেরার রস খেলে ডায়াবেটিসের ক্ষতিকর প্রভাবের থেকে মিলবে মুক্তি। 

চুলের যত্নে অ্যালোভেরার রস ভীষনভাবে উপকারি। যাদের চুলের ত্বক রুক্ষ শুস্ক এবং তাতে চুলকুনির সমস্যা নিয়ে ভুগছেন, তারা সপ্তাহে দুইদিন অ্যালোভেরা পাতার তরলটি চুলে ব্যবহার করতে পারবেন। ওই তরলে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান চুল পড়ে যাওয়াস খুশকির সমস্যা দূর করতে সক্ষম। এছাড়াও আমলকীর রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে বাড়বে চুলের উজ্জ্বলতাও। চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে অ্যালোভেরা। 

শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ায় নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অ্যালোভেরার রস প্রতিদিন নিয়ম করে খেলে শরীরে জমে থাকা মেদ দূর হয় এবং এই রস খাওয়ার ফলাফল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন। তাই কষ্ট করে এই কেষ্টটি পেতেই হবে। 

হৃদয়ের জন্য অ্যালোভেরা রসের উপকার অব্যর্থ। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সক্ষম অ্যালেভেরার রস শরীর থেকে দূষিত রক্ত বের করে দেয়। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা সচল রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার। 

দাঁতের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে অ্যালোভেরার রস কার্যকরী ফলাফল দেয়। দাঁতে কিংবা মাড়ির ব্যাথা, কোনওরকম সংক্রমণে আদর্শ ঔষধি হল অ্যালোভেরার রস। 

মেকআপ টিকিয়ে রাখাটা বেশ ঝক্কির কাজ। অ্যালোভেরাকে প্রাইমারের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়, এতে ত্বক মেকআপ থেকে হওয়া ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া হওয়ার থেকে রক্ষা পায়। ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে অ্যালোভেরার রসটি ব্যবহার করতে হবে, যাতে সহজে মেকআপ ঘেটে না যায। অন্যদিকে মেকআপ তুলতেও অ্যালোভেরার রস কার্যকরী। খুব সহজেই, এবং কোনওরকম অস্বস্তি ছাড়াই মেকআপ তুলতে সক্ষম অ্যালোভেরার রস। 

লিভারের কার্যক্রম সচল রাখতে অ্যালোভেরা বিশেষভাবে উপকারি। শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপন্ন হওয়া দূষিত পদার্থগুলিকে শুদ্ধ করে তুলতে সাহায্য করে লিভার। লিভারের এই প্রক্রিয়কে ত্বরান্তিত করতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস সমৃদ্ধ অ্যালোভেরার রস শরীরকে যথাযথ পরিমাণে পুষ্ট এবং আদ্র রাখতে সাহায্য করে, যা লিভার কার্যক্রমকে সচল রাখার পক্ষে অনুকূল। 

সুতরাং বাড়ির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করা ছাড়াও অ্যালোভেরার বিভিন্ন ঔষধিক গুনাগুন আপনাকে সুস্থ এবং সতেজ রাখতে পারে। রস যতই তেতো হোক না কেন, শরীরের বিভিন্ন ক্রিয়া প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। কারণ সুস্থ শরীর অনেক বেশি পরিশ্রম করতে সক্ষম হয়ে থাকে।