Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দাদার অনুগামীদের নিয়ে কঠোর অবস্থানে যেতে চলেছে তৃণমূল


।। ময়ুখ বসু ।।


দাদার অনুগামীদের আর ঠাই নেই তৃণমূলে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ক্ষেত্রে এমনই কঠোর নীতি গ্রহণ করতে চলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এই জেলার ১৬ টি বিধানসভার মধ্যে ৯ টি বিধানসভায় জিতেছে তৃণমূল, ৭ টি বিধানসভায় হেরেছে। জয় পরাজয়ের নিরিখে এই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোথায় কেন এবং কী কারণে বিপর্যয় ঘটেছে তা এখন অতশ কাঁচের নীচে তুলে আনতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব। আর সেক্ষেত্রে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণের পথেই হাঁটতে চায় এই জেলার জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে দাদার অনুগামীদের (শুভেন্দু অনুগামী বলেই পরিচিত যারা) আর কোনওভাবেই দলে ঠাঁই দিতে নারাজ তাঁরা। এই পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতে এতদিন ধরে তৃণমূলের রাশ সামলানো হত শান্তিকুঞ্জ থেকে। অধিকারী পারিবারের সদস্যরাই বলতেন এই জেলাতে শেষ কথা। একই দলে থেকেও অধিকারী বিরোধী গোষ্ঠীও এতদিন এই জেলাতে খাপ খুলতে পারেনি।

এবারে অধিকারী পরিবারের দুই নেতা শিশির অধিকারী ও শুভেন্দু অধিকারী দল বদল করায় শুভেন্দু বিরোধীদের হাতেই উঠে এসেছে তৃণমূলের রাশ। এখন এই জেলায় তৃণমূলের হতে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন অখিল গিরি ও সৌমেন মহাপাত্ররা। ভোট পরবর্তী বিশ্লেষণে বসে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দাদার অনুগামীদের (শুভেন্দু অনুগামী) অন্তর্ঘাতের কারণেই এই জেলার বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে হারতে হয়েছে তৃণমূলকে। তাই এবারে দাদার অনুগামীমুক্ত তৃণমূল গড়ার পথে এগোচ্ছেন সৌমেন মহাপাত্র ও অখিল গিরিরা। এতদিন এই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নিয়ে সেই অর্থে মাথা ঘামাতেন না তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই এই জেলা নিয়ে কিছুটা হলেও সময় দিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী।

আগামী দিনে এই জেলাতে তৃণমূলের অন্দরে যাতে দাদার অনুগামীদের আর প্রভাব না থাকে সেই পথেই হাঁটতে চাইছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই দাদার অনুগামীদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। যে কারণে খেজুরির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রঞ্জিত মন্ডল ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যাক্ষ অনন্দময় অধিকারীকে দল থেকে বহিস্কার করেছে তৃণমূল। এরপরেও দলে দাদার অনুগামীদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া চলছে। যে সাতটি কেন্দ্রে তৃণমূল হেরেছে সেই কেন্দ্রগুলি পর্যালোচনা করে রিপোর্ট পেলে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে চলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।