Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

করোনায় আয় কমেছে রফতানি খাতে

1 min read

।। মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম ।।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেয়। এর প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতারা বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের কার্যাদেশ বাতিল করে দেয়। এতে ভয়াবহভাবে কমে গেছে রফতানি আয়।



সদ্য বিদায় অর্থ বছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কমেছে ২৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। যা এর আগের অর্থবছরে তুলনায় ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে জানা যায়, সদ্য বিদায় অর্থ বছরে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যসমূহ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়া মহাদেশের ২০৬টি দেশে রফতানি হয়েছে। এসব দেশে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু আয় হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৭৪ দশমিক শূন্য ৯ কোটি মার্কিন ডলার। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আয় হয়েছে ৪০ হাজার ৫৩৫ দশমিক শূন্য ৪ কোটি মার্কিন ডলার। যা ২০১৮-১৯ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম আয় হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক ও উৎপাদিত দুই ধরনের পণ্য রফতানি হয়ে থাকে। প্রাথমিক পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- হিমায়িত এবং লাইভ ফিশ, চিংড়িতে, কাঁকড়া, কৃষিজাত বস্তু, চা , সবজি , তামাক, ফল , ফুল এবং পাতাগুলি কাটা, মসলা ও শুকনো খাবার।

সদ্য বিদায় অর্থ বছরে প্রাথমিক পণ্য রফতানি করে আয় করেছে ১ হাজার ৩১৮ দশমিক ২১ কোটি মার্কিন ডলার। যার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল ১ হাজার ৬৪০ কোটি মার্কিন  ডলার।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এই খাত থেকে ১ হাজার ৪০৯ দশমিক ৩৭ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, বাহারাইন, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, চীন, জার্মানি, ডেনমার্ক, স্প্রেন, ফান্স, গ্রীস, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, ভারত, ইটালী, কুয়েত, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ড ও গ্রেট বিটেনে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৪৫৬ দশমিক ১৫ কোটি মার্কিন ডলার হিমায়িত মৎস্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে বেলজিয়াম, চীন, জার্মানি, নেদারল্যান্ড ও গ্রেট বিটেনে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে। এছাড়া কৃষি পণ্য থেকে আয় হয়েছে ৮৬২ দশমিক শূন্য ৬ কোটি মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে সিমেন্ট, লবণ, স্টোন, ওরেস, স্ল্যাগ, অ্যাশ, পেট্রোলিয়াম দ্বি পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, রাসায়নিক সার, কক্সমেটিক্স, প্লাস্টিক পণ্য, পিভিসি ব্যাগ, রবার, চামড়া পাদুকা ও চামড়া পণ্য, হস্তশিল্প, সজ্জা ও কাঠের পণ্য, মুদ্রিত উপকরণসমূহ, কাগজ এবং কাগজ পণ্য, সিল্ক, উলের ও উলের পণ্যসমূহ, সুতি ও সুতির পণ্য (সুতা, বর্জ্য,), কাঁচা পাট, পাটের সুতা ও সুড়ুই, পাট বস্তা এবং ব্যাগ ও পাটের জিনিসপত্র, ম্যান মেড ফিলামেন্টস এবং স্ট্যাপল ফাইবারস, কার্পেট, টেরি তোয়ালে, বিশেষ বোনা ফ্যাব্রিক, বোনা কাপড়। আরএমজি, নিটওয়্যার, বোনা গার্মেন্টস, হোম টেক্সটাইল, হেডগিয়ার / ক্যাপ, উইগস এবং হিউম্যান হেয়ার, সিরামিক পণ্য, গ্লাস এবং গ্লাস ওয়্যার, আয়রন স্টিল, কপার তার, স্টেইনলেস স্টিল ওয়্যার, ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক পণ্য, সাইকেল, জাহাজ, নৌকা এবং ভাসমান কাঠামো, অপটিক্যাল, ফটোগ্রাফিক, মেডিকেল যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও গল্ফ শ্যাফ্ট উৎপাদিত এসব পণ্য রফতানির মাধ্যমে সদ্য বিদায় অর্থ বছরে আয় হয়েছে ৩২ হাজার ৩৫৫ দশমিক ৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩ হাজার ৮৬০ কোটি মার্কিন ডলার।

এ খাত থেকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রফতানি করে আয় হয়েছিল ৩৯ হাজার ১২৫ দশমিক ৬৮ কোটি মার্কিন ডলার। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো চট্টগ্রাম কার্যলয়ের পরিচালক আলতাফ হোসেন ভূঁইয়া প্রথম কলকাতাকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে আমাদের রফতানির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবার পূরণ হয়নি। যা টাগের্ট তুলনায় ২৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ কম। আর করোনার কারণে বিশ্বব্যাপি মার্কেট ভালো না এবং পণ্য বিক্রি করতে পারছে না। তাই আমাদের পণ্য রফতানিতে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে কিছুটা। তবে আমাদের দেশের অর্ডার বাতিল না করে যেন অব্যাহত থাকে এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি বিশ্ব বাজারে আমাদের মার্কেট ধরে রাখার জন্য। জানা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার।

এমএফ/পিসি