Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Mahua Raychowdhury: ৬৪ তম জন্ম বার্ষিকীতে মহুয়া, আত্মহত্যা নাকি ষড়যন্ত্র করে খুন? অভিনেত্রীর মৃত্যু আজও রহস্যে ঘেরা

1 min read

।।  প্রথম কলকাতা ।।

Mahua Raychowdhury 64th Birthday: মহুয়া রায় চৌধুরী ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের একজন অন্যতম সফল অভিনেত্রী। বলাই বাহুল্য তাঁর অনবদ‍্য রূপ আর এই অভিনয় প্রতিভাই মুগ্ধ করে দর্শকদের। সুন্দরী এই অভিনেত্রী তার সময়ে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং প্রচুর সাফল্য লাভ করেন। দাদার কীর্তি, সাহেব, শ্রীমান পৃথ্বিরাজ ইত্যাদি জনপ্রিয় ছবিতে তার অভিনয় আজও সকল দর্শককে মুগ্ধ করে । আগামীকাল অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর প্রয়াত অভিনেত্রীর ৬৪ তম জন্মবার্ষিকী।

জন্ম ১৯৫৮ সালে দমদমের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে। চলচ্চিত্র জগতে মহুয়া রায় চৌধুরী নামে পরিচিত হলেও তাঁর আসল নাম শিপ্রা রায় চৌধুরী। বাবা নীলাঞ্জন রায় চৌধুরী ছিলেন একজন নৃত্যশিল্পী। আর্থিক দিক থেকে দুর্বলতার কারণে পড়াশোনা মাঝ পথেই ছাড়তে হয়। বিভিন্ন নাচের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা শুরু করেন।

মহুয়ার চলচ্চিত্র জীবন যাত্রা

১৯৭২ সালে পরিচালক তরুণ মজুমদারের শ্রীমাণ পৃথ্বিরাজ ছবির হাত ধরে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ। ছবিতে অমলাবালা হয়েছিলেন মহুয়া। সেকালের বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল এই ছবি। বলাই বাহুল্য ‘নয়া মিছিল’ ছবির জন্য খারিজ হওয়া কিশোরীই এ ছবিতে অমলাবালা হয়ে বাংলা ছবির আঙিনায় চিরকালের জন্য আসন পেতে বসলেন৷ একদলা মাটিকে যেমন গড়েপিটে আকার দেন কুমোর, ঠিক তেমনই শিপ্রাকে তৈরি করেছিলেন সন্ধ্যা রায়৷ সঙ্গে ছিল মাধবী মুখোপাধ্যায়ের অগাধ ভালবাসা আর প্রশ্রয়৷ তিনি ছিলেন মহুয়ার ‘মাধুমা’৷ তরুণ মজুমদার যদি তাঁর অভিনয়ের শিক্ষাগুরু হন, তাহলে যাপন প্রশিক্ষণের খুঁটি বেঁধেছিলেন অগ্রজা সন্ধ্যা ও মাধবীর কাছেই৷

তাঁর সময়ের জনপ্রিয় নায়ক যেমন দীপঙ্কর দে, সন্তু মুখার্জী, তাপস পাল, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, রঞ্জিত মল্লিক, সন্ত মুখোপাধ্যায় ইত্যাদি অভিনেতার সাথে তিনি জুটি বেঁধে বহু সফল ছবি উপহার দিয়েছেন। তাপস পালের সাথে তার জুটি সর্বাধিক জনপ্রিয় হয়। এছাড়া তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধায়ের সাথেও কিছু ছবিতে কাজ করেন। ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’, ‘দাদার কীর্তি’, ‘আজ কাল পরশুর গল্প’ এবং ‘আদমি অউর অওরত’-এর মতো ছবিতে তিনি আজও অবিস্মরণীয়৷

তারকা হয়েও মহুয়া ছিলেন মাটির খুব কাছাকাছি৷ তাঁর ফিল্মোগ্রাফি অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে ‘বাঘ বন্দি খেলা’, ‘সেই চোখ’, ‘কবিতা’, ‘বেহুলা লখিন্দর’, ‘ঘটকালি’, ‘পাকা দেখা’, ‘প্রিয়তমা’, ‘সুবর্ণলতা’, ‘শেষ বিচার’, ‘সুবর্ণগোলক’, ‘সাহেব’, ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘ফাদার’, ‘ইমনকল্যাণ’, ‘অমৃতকুম্ভের সন্ধানে’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’, ‘লালগোলাপ’, ‘পারাবত প্রিয়া’, ‘শত্রু’-সহ আরও অসংখ্য দর্শকমন ছুঁয়ে যাওয়া ছবির কথা না বললে৷

মহুয়ার ব্যক্তিগত জীবনে পালিয়ে বিয়ে করা

এরপর সবে সবে যখন ডানা মেলতে শুরু করেছে মহুয়ার ছবি জীবন, তখনই অভিনেত্রী বিয়ে করেন প্রেমিক তিলক চক্রবর্তীকে। তাঁদের কৈশোরের প্রেম পরিণয়ে রূপান্তরিত হয় কৈশোরেই৷ ১৯৭৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পরিবারের অমতে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন মহুয়া৷ বাংলা ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করা তিলক পরে চাকরি করতেন ব্যাঙ্কে, কিশোরকণ্ঠী হয়ে গান গাইতেন মঞ্চে৷ বিয়ের পরের বছর নিজের জন্মদিন ২৪ সেপ্টেম্বরেই মা হলেন মহুয়া৷ গোঁড়া ইস্টবেঙ্গল ভক্ত ফুটবলপাগল মহুয়া ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘গোলা’৷ তিলক ও মহুয়ার নাম মিলিয়ে ভালো নাম রেখেছিলেন ‘তমাল’৷ তবে অভিনেত্রীর বেপরোয়ায়া জীবন যাত্রার জেরে তিক্ত হয়ে পড়েছিল স্বামী তিলকের সঙ্গে সম্পর্ক।

টলিউডের অন্দরমহলে কান পাতলেই শোনা যায়, সুরাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন মহুয়া। জীবনে এসেছিলেন একাধিক পুরুষও। ধীরে ধীরে গ্রাস করছিল অবসাদ৷ ঝলসানো শরীরে মৃত্যুযন্ত্রণা সহ্যের আগেও চেষ্টা করেছিলেন নিজেকে শেষ করে দেওয়ার। শেষ পর্যন্ত সত্যি যখন তাঁর জীবনে ‘শেষ’ নেমে এল, তখন তাঁকে ঘিরে তাঁর মৃত্যুর কারণ ঘিরে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেল৷

আত্মহত্যা নাকি ষড়যন্ত্র করে খুন! মহুয়ার মৃত্যু আজও রহস্যে ঘেরা

১৯৮৫ সালের ১২ জুলাই গভীর রাতে বেহালায় মহুয়ার ফ্ল্যাটে ঘটেছিল সেই ভয়ঙ্কর ‘দুর্ঘটনা’৷ বাড়িতে পরিচারকরা থাকলেও কেন নিজে রান্নাঘরে ছেলের জন্য দুধ গরম করতে গিয়েছিলেন তিনি? এ প্রশ্ন জেগেছে অনেকের মনে৷ বাড়ির লোক বার বার বলেছেন স্টোভ ফেটে দুর্ঘটনার কথা৷ কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ যে স্টোভ উদ্ধার করেছে, তা ছিল অক্ষত ও কেরোসিনশূন্য৷ অথচ মহুয়ার শরীরে কেরোসিনের গন্ধ ছিল৷ আর ছিল শরীরে আঘাতের কালশিটে। তাঁর স্বামীর শরীরেও আঘাত ছিল সামান্য। শোনা যায়, সে রাতে তিলকের সঙ্গে তীব্র বিবাদ হয়েছিল নেশাতুর মহুয়ার। তাঁর মৃত্যুকালীন বয়ানে মহুয়া বলে গিয়েছেন অসাবধানতায় তাঁর গায়ে আগুন ধরে গিয়েছিল৷ তিনি কি ছেলের কথা ভেবে কাউকে আড়াল করেছিলেন? প্রিয়জনরা তুলেছিলেন সে প্রশ্নও। যদিও সেসব প্রশ্নের উত্তর আজও অধরা।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories