Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Marbel: কেমন ভাবে তৈরি হয় খেলার মার্বেল? মনে পড়বে শৈশবের কথা

।। প্রথম কলকাতা ।।

বর্তমানে শিশুদের হাতে থাকে বড় স্মার্ট ফোন কিংবা ট্যাব। সেখানে এক ক্লিকে চোখের সামনে হাজির হয় কত খেলা। এই প্রজন্মের শিশুরা বোঝে না কাঁচের মার্বেলের আনন্দ। রঙবেরঙের ছোট ছোট মার্বেল কিংবা কাঁচের গুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ৯০এর দশকের শিশুদের নানান স্মৃতি। এগুলি দেখলেই মনে পড়ে কত পুরনো দিনের কথা। শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই মার্বেলকে কেন্দ্র করে রয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া আর ভাবের গল্প। একটা সময় ছিল যখন গ্রাম বাংলার মেঠো পথে শিশুদের দেখা যেত গুলি খেলতে। মুদির দোকানে কিংবা হাটে ঝুড়ি ভরে মার্বেল বিক্রি হত। মাত্র এক থেকে দু টাকা দিলেই পকেট ভরে পাওয়া যেত ছোট ছোট কাঁচের গুলি। সামান্য এই কাঁচের গুলি সেই সময় অসংখ্য শিশুর মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এখনো এই মার্বেল কিংবা কাঁচের গুলি ভারতের বহু জায়গায় বানানো হয়। কখনো ভেবে দেখেছেন, এগুলি ঠিক কোন পদ্ধতিতে বা কীভাবে বানানো হয়? আজকের প্রতিবেদনে জানবেন ছোটবেলায় খেলার অন্যতম প্রিয় বস্তুটি তৈরির পদ্ধতি।

খেলার মার্বেল আর মার্বেল পাথর কি এক?

খেলায় ব্যবহৃত মার্বেল আর মার্বেল পাথরের মধ্যে কিন্তু পার্থক্য রয়েছে। এই দুটি একই মনে হলেও কোন দিক থেকেই এক নয়। খেলার মার্বেল হল কৃত্রিম, অপরদিকে মার্বেল পাথর সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। খেলায় ব্যবহৃত মার্বেল গুলি কাঁচ দিয়ে তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে নানান পদ্ধতি রয়েছে। আর মার্বেল পাথর প্রাকৃতিক গ্রানাইটের বড় খনি থেকে কেটে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়।

মার্বেল খেলার উদ্ভব

খেলার মার্বেলের প্রসঙ্গ এলেই অনেকে ৫০ এর দশকের গোড়া দিক থেকে শুরু করে ৯০ দশকের শৈশবে হারিয়ে যাবেন। অনেকে মনে করেন, এই খেলার জনপ্রিয়তার সূচনা চট্টগ্রাম থেকে। অঞ্চল ভেদে মার্বেল খেলাকে বিঘত খেলাও বলা হয়। এই খেলার বেশ অনেকগুলি নিয়ম রয়েছে, দুজনও খেলতে পারে আবার তিন, চার, পাঁচ কিংবা সাতজন মিলেও এই খেলা করা যায়। যদিও এই মার্বেলের উৎপত্তি ঠিক কোথায় তা সঠিকভাবে আজও জানা যায়নি। তবে ১৮৪৬ সাল নাগাদ একজন জার্মান কাঁচ শিল্পী মার্বেল উৎপাদনের জন্য তৈরি করেছিলেন মার্বেল সিসর নামক একটি যন্ত্র। ১৮৭০ সালের পর থেকে সেরামিক মার্বেলের উৎপাদন প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।

বানানোর পদ্ধতি

প্রথমে কাঁচ নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে অনেক কারখানায় আবার পুরনো ভাঙা কাঁচের বোতলের অংশ ব্যবহার করে। প্রচুর পরিমাণে ভাঙা কাঁচ প্রথমে গলিয়ে নেওয়া হয়। তারপ গোল গোল আকারে কাঁচের মণ্ড বেরিয়ে আসতে থাকে। তখন সেগুলির রং থাকে টকটকে লাল। কিন্তু সম্পূর্ণ গোলাকার না হওয়ায় আরেকটি মেশিনে দেওয়া হয়। সেখানে মার্বেল গুলি সম্পূর্ণ গোলাকার হয় এবং পালিশ হয়ে বেরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয়। যদিও মার্বেলের রং কেমন হবে সেই অনুযায়ী আগে থেকেই রং মিশিয়ে দেওয়া হয়। মার্বেল গুলি বেশ কিছুক্ষণ ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিতে হয়। এই ভাবেই তৈরি হয় প্রিয় খেলার বস্তু মার্বেল।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories