Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

গুজরাতে কেজরিওয়ালই ঘুরপথে হাতিয়ার মোদীর, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় কংগ্রেস

1 min read

।। সুচিত্রা রায় চৌধুরী ।।

গুজরাতে কেজরিওয়াল আসায় বড় লাভ হতে চলেছে বিজেপির।বিজেপির আভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।আম আদমি পার্টিই কীভাবে হবে মোদী-শাহের ঢাল?কংগ্রেস এবারও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে নাগুজরাত মানেই মোদী-শাহ সুপার হিট৷ গুজরাত মানেই বিজেপি তো জিতবেই৷ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এমনটা ভাববার আগে কিন্তু থেমে যান৷ কারণ লড়াই যত মসৃণ আপনি ভাবছেন ততটাও কিন্তু নয়৷ যদি সহজ হতো তাহলে গুজরাত নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতেন না নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা৷ কিন্তু না বর্তমানে গুজরাতে বিশেষভাবে ফোকাস করছে বিজেপি৷ যদি ভেবে থাকেন শুধুমাত্র আম আদমি পার্টি সেখানে পা দিয়েছে বলে বিজেপির এত ভাবনা৷

তাহলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, না এটা ভাবাটা এমূহুর্তে সঠিক নয়৷ কিন্তু ২০২৪ সালের আগে গুজরাত কিন্তু মারাত্মক প্রেস্টিজ ফাইট ভারতীয় জনতা পার্টির জন্য৷ গোটা দেশে না হলেও গুজরাতে বিজেপির কাছে এমূহুর্তে ফ্যাক্টর হল কংগ্রেস৷ শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বলছে সেইরাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনীতির অঙ্ক৷ তাই বিজেপি অঙ্ক কষার পর মনে করছে গুজরাতে আম আদমি পার্টি এসেছে তাতে আদতে ভালোই হয়েছে৷ কারণ কেজরিওয়ালের জন্যই এবার বড়সড় মাপের লাভের ফসল ঘরে তুলতে পারবেন মোদীরা৷ কিভাবে? ঠিক কোন কোন ফাঁককে কাজে লাগিয়েই বাজিমাত করবে গেরুয়া শিবির৷ সেটা জানতে শেষ পর্যন্ত দেখুন আজকের প্রতিবেদন৷

গুজরাতের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস লোভনীয় সব স্কিম আনছে৷ যাতে ভোটারটা চুম্বকের মতো তাদের দিকে চলে আসে৷ কারণ কংগ্রেসও চাইছে গুজরাতের হাত ধরেই বুস্ট আপ হতে৷ গুজরাতে ভৌগলিক অবস্থান থেকেই ছক কষেছে হাতশিবির৷ এই রাজ্যে উপকূলবর্তী এলাকায় ১৬০০ কিলোমিটার জুড়ে তথ্য বলছে, ১৮২ আসনের মধ্যে ৩২টি আসন জুড়ে মৎস্যজীবী ভোটার রয়েছে। যাদের সমর্থন রয়েছে বিজেপির দিকে।এবার সেই ভোটব্যঙ্কে থাবা বসাতেই আকর্ষণীয় সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস৷

এক্ষেত্রে একটা তথ্য দিয়ে রাখি, গুজরাতে উপকূলের সীমারেখা লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতি বছরই ভারত ও পাকিস্তান উভয় পক্ষই শতাধিক মৎস্যজীবীকে আটক করে। তাদের নৌকাও বাজেয়াপ্ত করা হয় সংশ্লিষ্ট দেশের বাহিনীর তরফে। এদিকে বেশ কিছুদিন জেলে কাটানোর পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই মৎস্যজীবীদের পরিবারকে প্রতিদিন ৪০০ ও মাসে ১২ হাজার টাকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কংগ্রেস৷ একইসঙ্গে পাকিস্তানি সেনার গুলিতে যদি কোনও মৎস্যজীবী মারা যান সেক্ষেত্রে তার পরিবার ১০ লক্ষ আর্থিক সাহায্যেওর ঘোষণা করা হয়েছে৷ এখানেই শেষ নয়৷

কংগ্রেসের দাবি, মৎস্যজীবীদের বোট চালানোর জন্য বছরে ৩৬ হাজার ট্যাক্স ফ্রি ডিজেল দেবে তারা৷ বিশ্লেষকেরা বলছেন, গরিব মৎস্যজীবীরা কংগ্রেসের এই টোপ গিলে নিতেই পারে৷ সেই সম্ভাবনাই রয়েছে৷ এদিকে বিলকিস বানু এবারের নির্বাচনে বড় ইস্যু হতে চলেছে৷ এক্ষেত্রে বিজেপি গুজরাতে বেশ কিছু আভ্যন্তরীণ সমীক্ষা চালিয়ে গোটা অবস্থাটা বুঝে নেওয়ার চেষ্টাও করেছে৷ আর সেখানেই বেরিয়ে এমন কিছু তথ্য বা রিপোর্ট যা কার্যত চোখ খুলে দিয়েছে মোদী ও শাহের৷

জানা যাচ্ছে, সমীক্ষা রিপোর্টে স্পষ্ট বিজেপি বনাম কংগ্রেসের লড়াইয়ে কী-ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে আম আদমি পার্টি বা আপ। তাই তাঁদের নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে বিজেপিকে। কিন্তু বিজেপি এই রিপোর্ট দেখার পর বলছে কেজরিওয়াল গুজরাতে ঢুকে বিজেপির টেনশন কমিয়েই দিল৷ মোদী-রাজ্যে প্রধানত লড়াই হবে বিজেপি বনাম কংগ্রেসের মধ্যে। তবে আম আদমি পার্টি এখানে বড় সড় -রোল প্লে করতে পারে। বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় তেমনই আভাস মিলেছে। তাই প্রতিকূলতা কাটাতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ঢাল করতে চাইছে পদ্মশিবির৷ এর মানে এবার কেসটা কিন্তু অনেকটাই হতে পারে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের মতন৷ সেখানে প্রথমবার ভোটে লড়ে অজান্তেই তৃণমূল যে সুবিধাটা বিজেপিকে করে দিয়েছিল সেটাই এবার করবে আপ৷

কংগ্রেস এতদিন অভিযোগ করে এসছে আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দলগুলিতে কাজে লাগিয়ে বিজেপি ভোট বিভাজনের খেলা খেলছে। তাঁদেরকে দিয়ে কংগ্রেসি ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসিয়ে ফায়দা লুটছে। সম্প্রতি গোয়া, উত্তরাখণ্ডে দেখা গিয়েছে সেই চিত্র। এবার গুজরাতেও সেই একই খেলা। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বিজেপি আপকে কাজে লাগাচ্ছে এটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয় কিন্তু আপ গুজরাতে এসে আদতে কংগ্রেসের ভোটি কাটবে৷ যার ফলে বিরোধী ভোট রীতিমত ভাগ হবে৷ ফলে মাঝখান থেকে বড় সুবিধা করে বেড়িয়ে যাবে ভারতীয় জনতা পার্টিই৷ কেজরিওয়ালের পার্টি এবার ফারাক তৈরি করে দিতে পারে গুজরাতে।

বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে আপ। এই অবস্থায় বিজেপি বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, আম আদমি পার্টি রাজ্যে ২ থেকে ৩ টে আসন জিতলেও বিজেপিরই লাভ৷ তাই সম্ভবত ঠিক করা হয়েছে,অরবিন্দ কেজরিওয়াল গুজরাতে এলে তাঁকে খুল্লামখুল্লা আক্রমণ করবে না বিজেপির। মানুষের দৃষ্টি তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিজেপির তরফে। এমনটাই প্ল্যান এ বিজেপির৷ ২০১৭ সালের নির্বাচনেও অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সংখ্য গরিষ্ঠতা পেয়েছিল বিজেপি।

২০১৭ সালে ১৮২ আসনের মধ্যে ৯৯টি আসনে জিতে ক্ষমতায় আসে বিজেপি।কংগ্রেস পায় ৭৭টি আসন।
বাকি ৬টি আসন ভাগ করে নেয় নির্দল, বিএসপি ও এনসিপি।কঠিন পরিস্থিতিতে বিজেপি কংগ্রেসের বাধা টপকে ২০১৭ সালে সরকার টিকিটে রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু এবার আরও কঠিন হতে চলেছে লড়াই। একক সংখ্যগরিষ্ঠতা পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জের ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে৷ বিশ্লেষকেরা বলছেন, গুজরাতে একটা কথা আছে, আমেদাবাদ যার, গুজরাত তার। সেই আমেদাবাদে বিজেপি পেতে পারে ১১টি আসন আর কংগ্রেস পেতে পারে ৯টি আসন। এখানে একটু হেরফের হলেই সমূহ বিপদ। এবার দেখার ২০২৪ সালের আগে গুজরাত দখলের জন্য কতটা রিস্ক নেয় বিজেপি৷ গুজরাত নির্বাচন নিয়ে আপনাদের ধারণা কী? গুজরাতে বিজেপি জিতলে কতটা আসান হবে ২০২৪এর যাত্রাপথ?

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories