Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Crocodile Tears: অদ্ভুত রোগ ‘কুমিরের কান্না’! এই অসুখে আপনি ভুগছেন না তো?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সাধারণত মানুষের আবেগ থেকে চোখে জল আসে। আবার অনেকে ইচ্ছা করেই কাঁদতে পারেন। তখন চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ে আবেগ ছাড়াই। অহেতুক চোখের জল পড়লে ‘কুমিরের কান্না’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এটি একটি বহুল প্রচলিত বাগধারা। অনেকে আবার মায়া কান্না হিসেবে এটি ব্যবহার করেন। কুমিরের কান্নার ব্যবহার বেশ কিছু জনপ্রিয় সাহিত্য পাওয়া গিয়েছে। শেক্সপিয়ারের ট্র্যাজেডি ওথেলোতে আপনি ‘কুমিরের কান্না’ পাবেন। তবে জানেন কি, এই কুমিরের কান্না হল অদ্ভুত রোগ। এর কারণে কষ্ট না পেলেও চোখ দিয়ে জল পড়তে পারে।

কুমিরের চোখে জল আসার কারণ

চলতি কথায় কিংবা প্রবাদ প্রবচনে যেভাবে কুমিরের কান্না শব্দটিকে ব্যবহার করা হয় সেই অর্থে চিকিৎসাশাস্ত্রের ভাষায় কিছু পাবেন না। যদিও এই কুমিরের কান্নার পিছনে বেশ কয়েকটি যুক্তি রয়েছে। কুমির যখন শিকার করে তখন বড় হাঁ করার সময় মুখের অভ্যন্তরে সাইনাসগুলিতে চাপ সৃষ্টি হয়। এই চাপের প্রভাব প্রভাবে কুমিরের চোখে থাকা ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি গুলি থেকে অবিরাম জল পড়তে থাকে। যখনই কুমির খাবার খায় তখনই তার চোখ থেকে জল পড়তে থাকে। একেবারে উল্টো ঘটনা ঘটে মানুষের ক্ষেত্রে। সুস্বাদু খাবার দেখলে যেমন জিভে জল আসে ঠিক তেমনি খাবার পেলে কুমিরের চোখে জল আসে।

তবে কুমিরের কান্না একটি অদ্ভুত রোগ, যা বাসা বাঁধতে পারে মানুষের শরীরে। চিকিৎসকরা মনে করেন, এটি একটি বিরল রোগ যার নাম ক্রোকোডাইল-টিয়ার সিনড্রোম। এই রোগটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের স্নায়ু এবং মানসিক নানান সমস্যা। যদিও এখনো পর্যন্ত এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে রোগটি মানব শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকারক।

খাবার খাওয়ার সময় চোখে জল!

বেলস পলসি রোগের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত কুমিরের কান্না নামক এই রোগটি। যারা বেলস পলসি রোগে আক্রান্ত হন তাদের মুখের একটি অবশ থাকে। এক্ষেত্রে রোগী ভালোভাবে খাবার চিবিয়ে খেতে পারে না। এমনকি চোখ বন্ধ করতে পারে না। যদি হাসতে যায় তাহলে মুখের একদিক একটু বিকৃত হয়ে যায়। এই বেলস পলসি রোগের ক্ষতিকারক প্রভাব হল কুমিরের কান্না। এর ফলে মানব দেহের ফ্যাসিয়াল নার্ভ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই রোগের চিকিৎসা চলাকালীন মানুষের ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড এবং টিয়ার গ্ল্যান্ডে কিছু পরিবর্তন আসে। তখন সামান্য জল পান করতে গেলেও মানুষের চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়তে থাকে।

সুস্থ হতে কত সময় লাগে?

এই কুমিরের কান্না কোনো ভৌতিক, মানসিক কিংবা হাস্যকর কোন সমস্যা নয়। মানুষের ক্ষেত্রেও এই কুমিরের কান্না হতে পারে। বেলস পলসি রোগ সারতে প্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে। এই রোগে সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। তবে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয় এবং খুঁটিনাটি নিয়ম মেনে চলতে হয়।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories