Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

Bangladesh: বাংলাদেশকে মিয়ানমারের টার্গেট থেকে বাঁচাবে বিজিবি! কতটা স্ট্রং এই বাহিনী?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি কিংবা হতাহতের ঘটনায় এবার সতর্ক থাকতে হবে বিজিবিকে। মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবিতে আস্থা রাখছে বাংলাদেশ। সীমান্তে বাংলাদেশ সরকার কোন এক্সট্রা সেনা পাঠাবে না, সমস্ত নিরাপত্তার অধিকাংশ দায়িত্ব এখন বিজিবির উপর। এই বিজিবি কতটা শক্তিশালী? কেনই বা বাংলাদেশ সরকার এই বাহিনীর উপর এতটা ভরসা করছে? মিয়ানমারের দিক থেকে লাগাতার যুদ্ধের উস্কানি, তাই শক্ত হাতে হাল ধরতে মাঠে নামবে বিজিবি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড যথেষ্ট শক্তিশালী।

তাদের মনোবল যথেষ্ট আছে। তারা আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ চাইছে মিয়ানমারের সঙ্গে সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হোক। আপাতত বিজিবি এবং কোস্টগার্ডকে বলে দেওয়া হয়েছে, বর্ডারে সবসময় সজাগ থাকতে। রিইনফোর্সমেন্ট যতটুকু লাগে ততটুকুই করবে। বাংলাদেশকে যেসব রাষ্ট্রগুলি দুর্বল দেশ ভাবে তাদের ধারণা একেবারেই ভুল। বাংলাদেশের চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী , শিশু এবং মাদক পাচার প্রতিরোধসহ সীমান্তর রক্ষার কাজ আর অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলার রক্ষার কাজে অতন্ত্র প্রহরীর মত দায়িত্ব পালন করে বিজিবি।

বিজিবিকে মূল চার আদর্শ নিয়ে পথ চলতে বলেন শেখ হাসিনা

বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিবির উদ্দেশ্যে জানিয়েছিল বর্তমানে বাংলাদেশ আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছে। সরকার একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে। তাই তাদের বর্ডার গার্ডও আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান আর নারী শিশু পাচার বন্ধে সরকার বিজিবিকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানান আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞান সম্পন্ন করে তুলবে। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে বিশেষভাবে নজর দেয়।

বিজিবির ৯৫তম রিক্রুট ব্যাচের সকল সদস্যকে সেদিন অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, যে কোন সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য সবথেকে বেশি দরকার শৃঙ্খলার। বাংলাদেশ যে আদর্শ নিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ মেনে কর্তব্য পালনের নির্ভীক থাকতে হবে, আর সহমর্মিতা থাকতে হবে অধস্তনদের উপর। এছাড়াও বিজিবির মূল চার নীতি মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা এবং দক্ষতার উপর গুরুত্ব দেন। এই চার নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা আর নিষ্ঠার সঙ্গে সকলকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। বিজিবির সদস্যদের দেশকে ভালবাসতে হবে, মানুষকে ভালবাসতে হবে আর মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। তাহলেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হবে।

সূচনা লগ্ন থেকে বিজিবির ইতিহাস

প্রায় ২২৮ বছরের দীর্ঘ পথ চলা। এই পথে রয়েছে এই বাহিনীর দায়িত্ব, কর্তব্য আর কর্মকুশলতা। বিজিবি অর্থাৎ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বৃহত্তর আর ঐতিহ্যের গৌরবমন্ডিত একটি সুশৃঙ্খল আধা সামরিক বাহিনী।
১৭৯৪ সাল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরি করেছিল ফ্রন্টিয়ার প্রটেকশন ফোর্স। ঠিক তার এক বছর পর এটি নাম পরিবর্তন করে হয় রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ান। এটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সদস্য সংখ্যা ছিল ৪৪৮ জন। পাশাপশি ছিল দুটি অনিয়মিত অস্বারোহী দল আর চারটি কামান ছিল। ১৮৬১ সালে ১৪৫৪ জন সদস্য নিয়ে এই বাহিনীর পুনর্গঠন করে নাম হয় ফ্রন্টিয়ার গার্ডস। তখন সদর দপ্তর ছিল চট্টগ্রামে। এই বাহিনী ১৮৭৯ সালে স্পেশাল রিজার্ভ কোম্পানি নামে পিলখানায় প্রথম একটি ঘাঁটি স্থাপন করে।

১৮৯১ সালে এই বাহিনী নতুন নামকরণ হয় বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ। ১৯২০ সালে এই দলের জনবল এবং শক্তি আরও অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়, তখন নামকরণ করা হয় ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার্স রাইফেলস। তখনই বাহিনীর মূল কাজ ছিল অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আর সীমান্ত রক্ষায় কাজ করা। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এই বাহিনীর নাম হয় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস। তখন এই দলে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রায় এক হাজার প্রাক্তন সৈনিক ছিলেন। পরবর্তীকালে যোগ দেন আরো তিন হাজার বাঙালি। ১৯৭১ সালে এসে এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা হয় ১৩৪৫৪ জন। মুক্তিযুদ্ধে রীতিমত সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছিল এই দল। এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না। তৎকালীন সময়ে এই বাহিনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তা দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যেত। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ, সম্মুখ যুদ্ধ থেকে শুরু করে শত্রু ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করতে আত্মঘাতী আক্রমণ সহ নানান দুর্ধর্ষ অপারেশন চালিয়েছে এই দল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বাহিনীর ৮১৭ জন সৈনিক শহিদ হয়েছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে এই বাহিনীর নামকরণ হয় বাংলাদেশের রাইফেলস। এই বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে বিশেষ স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পতাকা প্রদান করে। কিন্তু ২০০৯ সালে এই বাহিনীর উপর ভয়ঙ্কর আক্রমণ হয়। সেই হত্যাকাণ্ড ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা সহ ৭৪ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০১০ সালে পাশ হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন ২০১০। ২০১১ সালের ২৩শে জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বাহিনীর সদর দপ্তরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অর্থাৎ বিজিবির নতুন পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করেছিলেন, আর সেখান থেকেই এই বাহিনীর নতুন ভাবে পথচলা শুরু। বর্তমানে এই বাহিনীর ৬১টি ব্যাটালিয়ন, ১৬ টি সেক্টর, ৫টি রিজিয়ন, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ, ৫টি বিজি হাসপাতাল এবং বহু সংখ্যক বিওপি রয়েছে।

প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বিজিবি

সামনে প্রচুর চ্যালেঞ্জ, সমস্ত প্রতিকূল পরিবেশে সমস্ত চ্যালেঞ্জ জয় করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে প্রাণপণ কাজ করে যাচ্ছেন। আগের থেকে এই বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা এবং যোগ্যতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করে যাতে চালান প্রতিরোধসহ সীমান্তে অপরাধ প্রবণতা কমানো যায়। বিজিবি সদস্যরা মনে করেন, সীমান্ত হল তাদের সম্পত্তি, যা তাদের দেখভাল এবং নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চভাবে চেষ্টা করেন নিজের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার । বিজিবির সামনে থাকে কখনো মানব পাচার, কখনো অবৈধ অনুপ্রবেশ, আবার কখনো চালানের মত নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ আর নতুন অভিজ্ঞতা।

যার মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এই বাহিনীর জোয়ানরা। ভারতের সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি, যার ৫৫ ভাগে কোন শক্তপোক্ত বেড়া নেই। এছাড়াও ৩৬৪ কিলোমিটার রয়েছে নদীগর্ভে। তবে আন্তর্জাতিক সীমান্তের দুই দিকে ভাষাগত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতিগত মিল রয়েছে। সীমান্ত রেখা বেশিরভাগ জায়গায় আঁকাবাঁকা হওয়ায় মাঝে মাঝে সমস্যা তৈরি হয়। কখনো বা অবৈধ পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢোকে অস্ত্র, স্বর্ণ,সিলভার অর্নামেন্টস, ফেনসিডিল প্রভৃতি ।

অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসে জাল নোট, মাছ, মাছের পোনা, স্বর্ণ প্রভৃতি। এর সাথে জুড়ে রয়েছে মানব পাচার চক্র। চোরা চালানকারী সিন্ডিকেটের তথ্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছেই রয়েছে। আসলে সমস্যা হল, ভারতীয় এলাকার অনেকটা ভিতরে যেমন বাংলাদেশের মোবাইলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় ঠিক একইভাবে ভারতীয় মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় বাংলাদেশের সীমান্তের অনেকটা ভিতরে।

তাই সহজেই অপরাধীরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। অপরদিকে বিজিবি কিংবা ভারতীয় সৈনিকরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করলেও ঠিক জায়গায় পৌঁছাতে দেরি হয়। দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী সদস্যদের কাছে বর্তমানে এটি একটি অন্যতম সমস্যা । তবে তথ্য অনুযায়ী নানান সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কারণে আগের তুলনায় অনেকাংশে চোরাচালানের বন্ধ করা গিয়েছে।

খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories